১
ধ্বনিতত্ত্ব ও ধ্বনিবিজ্ঞানের মূল কথা
ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
ভাষার বাগধ্বনির নির্দিষ্ট ব্যবহারিক চরিত্র ও কার্যকরী রূপ বিশ্লেষণ করে। এটি কেবল মুখের ভাষা নিয়ে কাজ করে, লিপি বা লেখার সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ নেই।
ধ্বনিবিজ্ঞান (Phonetics)
বাগধ্বনির উচ্চারণগত, শ্রুতিগত ও ধ্বনিতরঙ্গগত দিক বিশ্লেষণ করে।
বাগধ্বনির স্বরূপ
ভাষার অর্থহীন ও ক্ষুদ্রতম একক, যা অর্থ তৈরির প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
২
বাগধ্বনির শ্রেণিবিভাগ
বিভাজ্য ধ্বনি (খণ্ডধ্বনি)
যে ধ্বনিগুলিকে কৃত্রিমভাবে ভেঙে আলাদা খণ্ডে ভাগ করা যায়।
মৌলিক স্বরধ্বনি: ৭টি
ব্যঞ্জনধ্বনি: ৩০টি
ব্যঞ্জনধ্বনি: ৩০টি
অবিভাজ্য ধ্বনি
যে বৈশিষ্ট্যগুলি খণ্ড করা যায় না, পুরো দল বা শব্দ জুড়ে থাকে।
শ্বাসাঘাত
দৈর্ঘ্য
যতি
সুরতরঙ্গ
দৈর্ঘ্য
যতি
সুরতরঙ্গ
অর্ধস্বর
বাংলা উচ্চারণে নির্দিষ্ট ৪টি অর্ধস্বরধ্বনি রয়েছে।
উদাহরণ: খই, বউ, আয়, যাও শব্দের অন্তিম ধ্বনি।
৩
মৌলিক স্বরধ্বনি ও তার চরিত্র (৭টি)
জিহ্বার অবস্থান অনুযায়ী
সম্মুখ: /ই/, /এ/, /অ্যা/
পশ্চাৎ: /উ/, /ও/, /অ/
কেন্দ্রীয়: /আ/
উচ্চ: /ই/, /উ/
উচ্চমধ্য: /এ/, /ও/
নিম্নমধ্য: /অ্যা/, /অ/
নিম্ন: /আ/
মুখবিবরের শূন্যতা অনুযায়ী
সংবৃত: /ই/, /উ/
বিবৃত: /আ/
অর্ধসংবৃত: /এ/, /ও/
অর্ধবিবৃত: /অ্যা/, /অ/
ওষ্ঠের আকৃতি অনুযায়ী
প্রসারিত: /ই/, /এ/, /অ্যা/
কুঞ্চিত (বর্তুল): /উ/, /ও/, /অ/
৪
ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণিবিভাগ
স্পর্শধ্বনি (বর্গীয় ধ্বনি)
ক্ থেকে ম্ পর্যন্ত মোট ২৫টি ধ্বনি।
ধ্বনির প্রকৃতি ও বায়ুপ্রবাহ
অল্পপ্রাণ: বর্গের ১ম ও ৩য় ধ্বনি
মহাপ্রাণ: বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি
অঘোষ: বর্গের ১ম ও ২য় ধ্বনি
ঘোষ: বর্গের ৩য় ও ৪র্থ ধ্বনি
নাসিক্যধ্বনি: বর্গের ৫ম ধ্বনিগুলি (ঙ্, ঞ্, ণ্, ন্, ম্)।
উচ্চারণগত বিশেষ রূপ
কম্পিত: /র্/
পার্শ্বিক: /ল্/
তাড়িত অল্পপ্রাণ: /ড়্/
তাড়িত মহাপ্রাণ: /ঢ়্/
উষ্ম ধ্বনি: /শ্/, /ষ্/, /স্/, /হ্/
পার্শ্বিক: /ল্/
তাড়িত অল্পপ্রাণ: /ড়্/
তাড়িত মহাপ্রাণ: /ঢ়্/
উষ্ম ধ্বনি: /শ্/, /ষ্/, /স্/, /হ্/
৫
ধ্বনিমূল ও সহধ্বনি
ধ্বনিমূল ও সহধ্বনি সম্পর্ক
ধ্বনিমূল: ভাষার অর্থপার্থক্য সৃষ্টিকারী মূল বাগধ্বনি।
সহধ্বনি: প্রতিবেশভেদে একই ধ্বনিমূলের উচ্চারণগত রূপভেদ।
সহধ্বনি: প্রতিবেশভেদে একই ধ্বনিমূলের উচ্চারণগত রূপভেদ।
শনাক্তকরণ পদ্ধতি
ন্যূনতম শব্দজোড়: একটি মাত্র ধ্বনির পার্থক্যে অর্থ আলাদা হলে ধ্বনি দুটি পৃথক ধ্বনিমূল (যেমন: আম–জাম, তালা–থালা)।
পরিপূরক অবস্থান: একই পরিবারের সহধ্বনিগুলি নির্দিষ্ট প্রতিবেশে নিজ জায়গায় অবস্থান করে।
মুক্ত বৈচিত্র্য: কোনো প্রতিবেশ ছাড়াই ব্যক্তিগত অভ্যাসে উচ্চারণভেদ (যেমন: গাঢ়/গাড়)।
৬
ধ্বনি সমাবেশ ও যুগ্মধ্বনি
দ্বিস্বরধ্বনি
স্বরধ্বনির সঙ্গে অর্ধস্বরের সমাবেশ। ৪টি প্রধান: [ওউ], [ওই], [অএ], [অও]।
গুচ্ছধ্বনি (দলসীমা বজায় থাকে)
মাঝখানে স্বরধ্বনিহীন পাশাপাশি দুটি ব্যঞ্জনের সমাবেশ (যেমন: উত্তর, অস্ত্র)।
২ ব্যঞ্জনের: ২০০-র বেশি
৩ ব্যঞ্জনের: ৮টি (শেষ ব্যঞ্জন ‘র’)
৪ ব্যঞ্জনের: ১টি (‘সংস্কৃত’)
৩ ব্যঞ্জনের: ৮টি (শেষ ব্যঞ্জন ‘র’)
৪ ব্যঞ্জনের: ১টি (‘সংস্কৃত’)
যুক্তধ্বনি (দলসীমা থাকে না)
শব্দের আদিতে বা দলের শুরুতে উচ্চারিত ব্যঞ্জন সমাবেশ (যেমন: স্কুল, প্রাণ, স্ত্রী)।
২ ব্যঞ্জনের: ২৮টি
৩ ব্যঞ্জনের: ২টি (‘স্ত্র’, ‘স্পৃ’)
৩ ব্যঞ্জনের: ২টি (‘স্ত্র’, ‘স্পৃ’)
৭
অবিভাজ্য ধ্বনির উপাদান
শ্বাসাঘাত: শব্দের কোনো একটি দলকে বেশি জোর দিয়ে উচ্চারণ করা (বাংলায় সাধারণত প্রথম দলে হয়)।
দৈর্ঘ্য: স্বরধ্বনির উচ্চারণের কালপরিমাণ (একদল শব্দের দৈর্ঘ্য বহুদল শব্দের চেয়ে বেশি)।
যতি: দল বা শব্দসীমার উচ্চারণগত বিরতি বা ছেদ।
সুরতরঙ্গ: বাক্যে সুরের ওঠাপড়ার মাধ্যমে অর্থ ও ভাব প্রকাশ করা।
⚡ এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ লাইনসমূহ
- ভাষার অর্থহীন ও ক্ষুদ্রতম কার্যকরী একক হলো বাগধ্বনি।
- মুখের মান্য বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি এবং ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি।
- বাংলায় একমাত্র কেন্দ্রীয় ও বিবৃত স্বরধ্বনি হলো — /আ/।
- কম্পিত ধ্বনি /র্/, পার্শ্বিক ধ্বনি /ল্/, তাড়িত অল্পপ্রাণ /ড়্/ এবং তাড়িত মহাপ্রাণ /ঢ়্/।
- গুচ্ছধ্বনির মাঝে ‘দলসীমা’ থাকে, কিন্তু যুক্তধ্বনির মাঝে কোনো দলসীমা থাকে না।
- বাংলায় ৩ ব্যঞ্জনের গুচ্ছধ্বনির সংখ্যা ৮টি এবং শেষ ব্যঞ্জনটি সর্বদা /র/।
- বাংলা ভাষায় ৪ ব্যঞ্জনের গুচ্ছধ্বনি যুক্ত একমাত্র শব্দটি হলো — ‘সংস্কৃত’।
- বাংলা ভাষায় শব্দের আদ্য অবস্থানে ৩ ব্যঞ্জনের যুক্তধ্বনি রয়েছে মাত্র ২টি — ‘স্ত্র’ ও ‘স্পৃ’।
- বাংলা ভাষায় সাধারণত শব্দের প্রথম দলে শ্বাসাঘাত প্রযুক্ত হয়।
- বহুদল শব্দের স্বরধ্বনির তুলনায় একদল শব্দের স্বরধ্বনির দৈর্ঘ্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
🎯 নিজেকে যাচাই করতে প্রস্তুত?
ধ্বনিতত্ত্বের সব MCQ প্রশ্ন ও মকটেস্ট অনুশীলনের জন্য নিচে ক্লিক করুন
