উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ
মডেল প্রশ্ন ও উত্তর — দ্বাদশ শ্রেণি (তৃতীয় সেমিস্টার)
বিষয়: বাঙ্গালা ভাষা — স্বামী বিবেকানন্দ
১) ‘বাঙ্গালা ভাষা’ প্রবন্ধে স্বামীজি কত খ্রিস্টাব্দে পত্র লিখেছিলেন?
২) কোন পত্রিকার সম্পাদককে স্বামীজি পত্রটি লিখেছিলেন?
৩) বুদ্ধ থেকে চৈতন্য-রামকৃষ্ণ পর্যন্ত যাঁরা ‘লোকহিতায়’ এসেছেন, তাঁরা সাধারণকে কী ভাষায় শিক্ষা দিয়েছেন?
৪) ‘বাঙ্গালা ভাষা’ প্রবন্ধে স্বামী বিবেকানন্দ মূলত কোন বিষয়টির উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন?
৫) স্বামী বিবেকানন্দ ভাষাকে কিসের মতো করার কথা বলেছেন?
৬) পাণ্ডিত্যকে লেখক কী বলে বিশেষিত করেছেন?
৭) আমাদের ভাষা সংস্কৃতের কোন চাল নকল করে অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে?
৮) কোন ভাষা ছেড়ে একটি অস্বাভাবিক ভাষা তৈরি করা নিষ্প্রয়োজন বলে লেখক মনে করেন?
৯) বুদ্ধ থেকে চৈতন্য-রামকৃষ্ণ পর্যন্ত লোকহিতায় আগত ব্যক্তিরা কাদের শিক্ষা দিয়েছিলেন?
১০) প্রাচীন কাল থেকে সংস্কৃতে সমস্ত বিদ্যা থাকার ফলে কাদের মধ্যে অপার সমুদ্র দাঁড়িয়ে গেছে?
১১) স্বামীজির মতে কোন ভাষায় পাণ্ডিত্য ও শিল্পনৈপুণ্য প্রকাশ করা সম্ভব?
১২) কলকাতার ভাষাকে ভিত্তিস্বরূপ গ্রহণ করতে হলে কোনটিকে জলে ভাসান দিতে হবে?
১৩) ভাষা কীসের বাহক?
১৪) লেখকের মতে কোন ধরনের ভাষা ভাবহীন ও প্রাণহীন হয়ে পড়লে কার্যকর থাকে না?
১৫) গান হচ্ছে, কি কান্না হচ্ছে, কি ঝগড়া হচ্ছে—তার কী ভাব ও উদ্দেশ্য, তা কে বুঝতে পারেন না বলে বলা হয়েছে?
১৬) হীরেমতির সাজ-পরানো ঘোড়ার উপর কাকে বসানোর কথা বলা হয়েছে?
১৭) ‘মহাভাষ্য’ কার লেখা?
১৮) প্রাকৃতিক নিয়মে কোন ভাষাটি বলবান হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বলে লেখক উল্লেখ করেছেন?
১৯) দুটো চলিত কথায় যে ভাবরাশি আসবে, তা পাওয়া যাবে না কোথায়?
২০) স্বামীজির ভাষা-ভাবনার মূল লক্ষ্য কী?
১) আমাদের ভাষা সংস্কৃতের ওই এক ______ চাল নকল করে অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।
২) ______ যে দিক থেকেই আসুক না, একবার কলকাতার হাওয়া খেলেই সেই ভাষাই লোকে কয়।
৩) চট্টগ্রাম হতে ______ পর্যন্ত ঐ কলকাতার ভাষাই চলবে।
৪) বাঙ্গালা দেশের স্থানে স্থানে ______ ভাষা।
৫) ______ পাতা লম্বা লম্বা বিশেষণের পর দুম করে—‘রাজা আসীৎ’।
৬) বুদ্ধ থেকে চৈতন্য-রামকৃষ্ণ পর্যন্ত যাঁরা ______ এসেছেন।
৭) চলিত ভাষায় কি আর ______ হয় না?
৮) ব্রাহ্মণের ______ দেখো।
৯) ও সব ______ লক্ষণ।
১০) নাক ফুঁড়ে ঘাড় ফুঁড়ে ______ সাজিয়ে দিলে।
১১) কোন্ জেলার ভাষা ______ বেশি নিকট, সে কথা হচ্ছে না।
১২) সমস্ত দেশের যাতে ______, সেথা তোমার জেলা বা গ্রামের ______-টি ভুলে যেতে হবে।
১৩) “সে গানের মধ্যে কী ______ ধুম!”
১৪) যখন দেশটা ______ যেতে আরম্ভ হল, তখন এই সব চিহ্ন উদয় হল।
১৫) “______ নাড়ীর টান তায় রে বাপ!”
১) বাক্যসমূহ:
(i) যেটা ভাবহীন, প্রাণহীন—সে ভাষা, সে শিল্প, সে সংগীত কোনো কাজের নয়।
(ii) বাড়িটার না আছে ভাব, না ভঙ্গি; থামগুলোকে কুঁদে কুঁদে সারা করে দিলে।
(iii) সে কি আঁকাবাঁকা ডামাডোল—ছত্রিশ নাড়ীর টান তায় রে বাপ!
(iv) দুটো চলিত কথায় যে ভাবরাশি আসবে, তা দু-হাজার ছাঁদি বিশেষণেও নাই।
২) বাক্যসমূহ:
(i) ভাষাকে করতে হবে যেন সাফ ইস্পাত।
(ii) চলিত ভাষায় কি আর শিল্পনৈপুণ্য হয় না?
(iii) আমাদের ভাষা সংস্কৃতের গদাই-লস্করি চাল নকল করে অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।
(iv) বিদ্বান এবং সাধারণের মধ্যে একটা অপার সমুদ্র দাঁড়িয়ে গেছে।
৩) বাক্যসমূহ:
(i) চট্টগ্রাম হতে বৈদ্যনাথ পর্যন্ত ঐ কলকাতার ভাষাই চলবে।
(ii) ও সব মরার লক্ষণ।
(iii) বাড়ি-ঘর-দোর সব প্রাণস্পন্দনে ডগমগ করবে।
(iv) গ্রাম্য ঈর্ষাটিকেও জলে ভাসান দিতে হবে।
৪) বাক্যসমূহ:
(i) লেখবার বেলাও একটা কি কিম্ভূতকিমাকার উপস্থিত কর?
(ii) প্রকৃতি আপনিই দেখিয়ে দিচ্ছেন যে, কোন ভাষা লিখতে হবে।
(iii) হীরেমতির সাজ-পরানো ঘোড়ার উপর বাঁদর বসালে কি ভালো দেখায়?
(iv) ‘রাজা আসীৎ’! আহাহা! কী প্যাঁচওয়া বিশেষণ!
৫) বাক্যসমূহ:
(i) তা ভরত ঋষিও বুঝতে পারেন না।
(ii) যখন দেশটা উৎসন্ন যেতে আরম্ভ হল, তখন এই সব চিহ্ন উদয় হল।
(iii) ও সব মরার লক্ষণ।
(iv) আচার্য শঙ্করের মহাভাষ্য দেখো।
৬) বাক্যসমূহ:
(i) যখন মানুষ বেঁচে থাকে, তখন জ্যান্ত কথা কয়।
(ii) বুদ্ধিমান অবশ্যই কলকাতার ভাষাকে ভিত্তিস্বরূপ গ্রহণ করবেন।
(iii) তোমার জেলা বা গ্রামের প্রাধান্যটি ভুলে যেতে হবে।
(iv) নূতন চিন্তাশক্তির যত ক্ষয় হয়, ততই পচাভাব রাশীকৃত ফুল-চন্দন দিয়ে ছাপাবার চেষ্টা হয়।
৭) বাক্যসমূহ:
(i) যে ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করি, যে ভাষায় ক্রোধ, দুঃখ, ভালোবাসা ইত্যাদি জানাই, তার চেয়ে উপযুক্ত ভাষা হতে পারে না।
(ii) প্রাকৃতিক নিয়মে যেটি বলবান হচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে, সেইটিই নিতে হবে।
(iii) ভাষা হচ্ছে উন্নতির প্রধান উপায়, লক্ষণ।
(iv) যাঁরা ‘লোকহিতায়’ এসেছেন, তাঁরা সকলেই সাধারণ লোকের ভাষায় সাধারণকে শিক্ষা দিয়েছেন।
৮) বাক্যসমূহ:
(i) প্রাকৃতিক নিয়মে যেটি বলবান হচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে, সেইটিই নিতে হবে।
(ii) একবার কলকাতার হাওয়া খেলেই সেই ভাষাই লোকে কয়।
(iii) বাঙ্গালা দেশের স্থানে স্থানে রকমারি ভাষা।
(iv) চট্টগ্রাম হতে বৈদ্যনাথ পর্যন্ত ঐ কলকাতার ভাষাই চলবে।
৯) বাক্যসমূহ:
(i) কলকাতার ভাষাই অল্পদিনে সমস্ত বাঙ্গালা দেশের ভাষা হয়ে যাবে।
(ii) যদি না হয়, তো নিজের মনে এবং পাঁচজনে ও-সকল তত্ত্ববিচার কেমন করে কর?
(iii) যেটা ভাবহীন, প্রাণহীন—সে ভাষা, সে শিল্প, সে সংগীত কোনো কাজের নয়।
(iv) বাড়িটার না আছে ভাব, না ভঙ্গি।
১) বাক্যসমূহ:
(i) আমাদের দেশে প্রাচীনকাল থেকে সমস্ত বিদ্যা সংস্কৃতে ছিল।
(ii) সংস্কৃতের বিদ্যা প্রচলিত ছিল বলে বিদ্বান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো ব্যবধান ছিল না।
(iii) বুদ্ধ থেকে চৈতন্য-রামকৃষ্ণের মতো লোকহিতায় আসা ব্যক্তিত্বরা সাধারণ লোকের ভাষায় শিক্ষা দিয়েছেন।
(iv) কটমট ও অপ্রাকৃত ভাষাতেই প্রকৃত পাণ্ডিত্য হয়।
২) বাক্যসমূহ:
(i) বাঙ্গালা দেশের স্থানে স্থানে রকমারি ভাষা প্রচলিত।
(ii) যে ভাষা প্রাকৃতিক নিয়মে বলবান হচ্ছে ও ছড়িয়ে পড়ছে, সেই ভাষাকেই গ্রহণ করতে হবে।
(iii) কলকাতার ভাষাই অল্পদিনে সমস্ত বাঙ্গালা দেশের ভাষা হয়ে যাবে বলে লেখক মনে করেন।
(iv) গ্রাম্য ঈর্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে ভাষা নির্বাচন করতে হবে।
৩) বাক্যসমূহ:
(i) প্রাচীনকাল থেকে আমাদের দেশের সমস্ত বিদ্যা সংস্কৃতে ছিল।
(ii) সংস্কৃতের কারণে বিদ্বান ও সাধারণের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
(iii) পাণ্ডিত্যের জন্য ভাষার কাঠিন্য প্রয়োজন।
(iv) যে ভাষায় ঘরের কথা বলা হয়, সে ভাষায় লেখালেখি সম্ভব নয়।
৪) বাক্যসমূহ:
(i) চলিত ভাষায় শিল্পনৈপুণ্য অসম্ভব।
(ii) যে ভাষায় আমরা মনের ভাব, ক্রোধ, দুঃখ ও ভালোবাসা প্রকাশ করি, সেটিই সবচেয়ে উপযুক্ত ভাষা।
(iii) ভাষাকে সাফ ইস্পাতের মতো শক্তিশালী ও ব্যবহারোপযোগী হতে হবে।
(iv) বাংলা ভাষা ইংরেজি ভাষার গদাই-লস্করি চাল অনুসরণ করে অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।
৫) বাক্যসমূহ:
(i) ভাষা অবনতির প্রধান উপায় ও লক্ষণ।
(ii) বোকারাই কলকাতার ভাষাকে গ্রহণ করবে।
(iii) প্যাঁচওয়া বিশেষণ, বাহাদুর সমাস ও শ্লেষের বাহুল্যকে লেখক মরার লক্ষণ বলেছেন।
(iv) দুটো চলিত কথায় অধিক ভাবরাশি প্রকাশ পেতে পারে।
৬) বাক্যসমূহ:
(i) প্যাঁচওয়া বিশেষণ, বাহাদুর সমাস ও শ্লেষ—এসব আদর্শ ভাষার লক্ষণ।
(ii) দেশ উৎসন্নের দিকে যেতে শুরু করলে ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পেও অবক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যায়।
(iii) গান, কান্না বা ঝগড়ার ভাব ও উদ্দেশ্য ভরত ঋষিও বুঝতে পারেন না বলে বলা হয়েছে।
(iv) ভাবহীন ও প্রাণহীন ভাষা, শিল্প ও সংগীত কোনো কাজের নয়।
৭) বাক্যসমূহ:
(i) ব্রাহ্মণের সংস্কৃত বলতে ব্রাহ্মণদের ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার কথা বলা হয়েছে।
(ii) মীমাংসাভাষ্যের প্রণেতা শবরস্বামী।
(iii) মহাভাষ্যের প্রণেতা আচার্য শঙ্কর।
(iv) নতুন চিন্তাশক্তির ক্ষয় হলে পচাভাবকে ফুল-চন্দনের অলংকারে ঢাকার চেষ্টা হয়।
৮) বাক্যসমূহ:
(i) সমস্ত দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে গেলে জেলা বা গ্রামের প্রাধান্যকে ভুলে যেতে হবে।
(ii) পতঞ্জলি ‘মীমাংসাভাষ্য’ রচনা করেছিলেন।
(iii) ‘মরণ নিকট হওয়া’ বলতে লেখক ভাষা ও চিন্তাশক্তির অবক্ষয়ের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
(iv) সমাস ও বিশেষণের অযথা বাহুল্যকে লেখক মড়ার লক্ষণ বলেছেন।
১) স্তম্ভ মেলাও:
| ক স্তম্ভ | খ স্তম্ভ |
|---|---|
| (i) শবরস্বামীর লেখা | a) বেদ |
| (ii) পতঞ্জলির লেখা | b) ভাব |
| (iii) ব্রাহ্মণের | c) মীমাংসাভাষ্য |
| (iv) ভাষার বাহক | d) মহাভাষ্য |
২) স্তম্ভ মেলাও:
| ক স্তম্ভ | খ স্তম্ভ |
|---|---|
| (i) প্রাচীন বিদ্যা | a) পাণ্ডিত্য |
| (ii) সাধারণের ভাষা | b) সংস্কৃত |
| (iii) চলিত ভাষা | c) লোকহিত |
| (iv) অস্বাভাবিক ভাষা | d) শিল্পনৈপুণ্য |
৩) স্তম্ভ মেলাও:
| ক স্তম্ভ | খ স্তম্ভ |
|---|---|
| (i) উন্নতির প্রধান উপায় ও লক্ষণ | a) চলিত ভাষা |
| (ii) কলকাতার ভাষাকে ভিত্তিস্বরূপ গ্রহণকারী | b) ভক্তি |
| (iii) দেবতার মূর্তি দর্শন | c) ভাষা |
| (iv) ভাবরাশির অধিক প্রকাশ | d) বুদ্ধিমান |
৪) স্তম্ভ মেলাও:
| ক স্তম্ভ | খ স্তম্ভ |
|---|---|
| (i) কিম্ভূতকিমাকার | a) উপযুক্ত ভাষার আদর্শ |
| (ii) গদাই-লস্করি চাল | b) স্বাভাবিক মনের ভাব প্রকাশক ভাষা |
| (iii) সাফ ইস্পাত | c) সংস্কৃতের অনুকরণ |
| (iv) নিজস্ব জোর | d) কৃত্রিম পাণ্ডিত্যের ভাষা |
১) বিবৃতি (A): চলিত ও স্বাভাবিক ভাষাতেই মানুষ মনে মনে পাণ্ডিত্য ও গবেষণার বিষয় নিয়ে চিন্তা করে।
কারণ (R): লেখার সময় অনেকে একটি কিম্ভূতকিমাকার কৃত্রিম ভাষা ব্যবহার করে।
২) বিবৃতি (A): ভাষা নিয়ে গ্রাম্য অহংকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
কারণ (R): সমস্ত দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।
৩) বিবৃতি (A): আমাদের দেশে প্রাচীনকাল থেকে সংস্কৃতে সমস্ত বিদ্যা থাকার ফলে বিদ্বান ও সাধারণের মধ্যে একটি অপার ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
কারণ (R): সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত ভাষা ও সংস্কৃতভিত্তিক বিদ্যার ভাষার মধ্যে ব্যবধান ছিল।
১.১ বক্তব্যটির মূল কথা হলো—
২.১ পূর্ব-পশ্চিমি ভেদাভেদ কখন উঠে যাবে?
৩.১ লেখকের মতে কোন ভাষা অল্পদিনের মধ্যেই গোটা বাঙ্গালা দেশের ভাষা হয়ে দাঁড়াবে?
