পথের দাবী – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মূলগ্রন্থ : পথের দাবী

মকটেস্ট দিতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :
১. গিরীশ মহাপাত্রের পায়ে ছিল —
(ক) সাদা রঙের মোজা
(খ) নীল রঙের ফুল মোজা
(গ) কালো রঙের ফুল মোজা
(ঘ)সবুজ রঙের ফুল মোজা
২. ‘এ শহরে আরও কিছুদিন নজর রাখা দরকার’ — কোন শহরে ?
(ক) বর্মা
(খ) কলকাতা
(গ) ঢাকা
(ঘ) কলম্বো
৩. সব্যসাচী মল্লিক পেশায় ছিলেন —
(ক) শিক্ষক
(খ) ডাক্তার
(গ) পুলিশ
(ঘ) কেরানি
৪. “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো”— কার বক্তব্য ?
(ক) নিমাইবাবু
(খ) গিরীশ মহাপাত্র
(গ) জগদীশবাবু
(ঘ) অপূর্ব
৫. গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে কোন জিনিসটি বের হয়নি ?
(ক) বিড়ি
(খ) সিগারেট
(গ) দেশলাই
(ঘ) গাঁজার কলিকা
৬. ‘সে যে বর্মায় এসেছে, এ খবর সত্য ।’ — কার বর্মায় আসার খবর সত্য ?
(ক) অপূর্বর
(খ) নিমাইবাবু
(গ) গিরীশ মহাপাত্রের
(ঘ) সব্যসাচীর
৭. গিরীশ মহাপাত্রের সাথে অপূর্বর পুনরায় কোথায় দেখা হয়েছিল ?
(ক) পুলিশ-স্টেশনে
(খ) জাহাজ ঘাটায়
(গ) রেল স্টেশনে
(ঘ) বিমান বন্দরে
৮. ” দয়ার সাগর ! পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে ।”— বক্তা হলেন –
(ক) জগদীশবাবু
(খ) নিমাইবাবু
(গ) অপূর্ব
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
৯. গিরিশ মহাপাত্রে রুমালে যে ছবি আঁকা ছিল
ক) বাঘ
খ) সিংহ
গ) রামধনু
ঘ) ফুল
১০. গিরীশ মহাপাত্রের বয়স –
(ক) চল্লিশ-বিয়াল্লিশ
(খ) ত্রিশ-বত্রিশের অধিক নয়
(গ) পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন
(ঘ) পঞ্চাশের কাছাকাছি
১১. অপূর্বর পিতার বন্ধু হলেন-
ক) জগদীশবাবু
খ) রামদাস
গ) নিমাইবাবু
ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
১২. পুলিশ স্টেশনে বসে-থাকা বাঙালিরা কোথায় কাজ করত?
ক) বর্মা জাহাজঘাটে
খ) বর্মা অয়েল কোম্পানিতে
গ) বর্মা কয়লাখনিতে
ঘ) বর্মা চটকলে
১৩. ‘কাকাবাবু, এ লোকটিকে আপনি কোনো কথা জিজ্ঞেস না করেই ছেড়ে দিন…’- অপূর্ব যাকে ‘কাকাবাবু’ বলেছেন
ক) জগদীশবাবুকে
খ) গিরীশ মহাপাত্রকে
গ) নিমাইবাবুকে
ঘ) রামদাস তলওয়ারকরকে
১৪. “তবে ও বস্তুটি পকেটে কেন”-পকেটে থাকা বস্তুটি হল-
ক) কাঠের ফুটরুল
খ) কম্পাস
গ) গাঁজার কলকে
ঘ) বাঘ-আঁকা রুমাল
১৫. গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাকে পাওয়া গিয়েছিল-
ক) দুটি টাকা ও গন্ডা ছয়েক পয়সা
খ) দুটি টাকা ও গন্ডা চারেক পয়সা
গ) একটি টাকা ও গন্ডা ছয়েক পয়সা
ঘ) একটি টাকা ও গন্ডা চারেক পয়সা
১৬. “এ শহরে আরও কিছুদিন নজর রাখা দরকার।”-কোন্ শহরের কথা বলা হয়েছে ?
ক) ভামো
খ) ম্যানডালে
গ) মিকথিলা
ঘ) রেঙ্গুন
১৭. “অপূর্ব রাজি হইয়াছিল।”- অপূর্ব কোন্ ব্যাপারে রাজি হয়েছিল?
ক) সব্যসাচী মল্লিককে দেখতে যেতে
খ) বর্মা নাচ দেখতে যেতে
গ) রামদাসের স্ত্রীর বানানো মিষ্টান্ন প্রত্যহ গ্রহণ করতে
ঘ) ভামোর অফিসে চলে যেতে
১৮. “এতবড়ো কার্যকুশলা মেয়ে আর যে কেহ আছে মনে হয় না হে তলওয়ারকর।’- ‘কার্যকুশলা মেয়ে’-টি হল-
ক) তলওয়ারকরের স্ত্রী
খ) অপূর্বর স্ত্রী
গ) উপরতলার বাসিন্দা খ্রিস্টান মেয়েটি
ঘ) অপূর্বর বোন
১৯. “কিন্তু বুনো হাঁস ধরাই যে এদের কাজ”-বক্তা হলেন-
ক) অপূর্ব
খ) জগদীশবাবু
গ) রামদাস
ঘ) নিমাইবাবু
২০. অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দিয়েছিল-
ক) ফিরিঙ্গি ছোঁড়ারা
খ) রেলপুলিশ
গ) টিকিট পরীক্ষক
ঘ) স্টেশনমাস্টার
২১. “তোমার চিন্তা নেই ঠাকুর।”- ‘ঠাকুর’ বলতে যাকে বোঝানো হয়েছে
ক) নিমাইবাবু
খ) তেওয়ারি
গ) গিরীশ মহাপাত্র
ঘ) তলওয়ারকর
২২. “বাবুজি, মায় নে আপকো তো জরুর কঁহা দেখা”-বক্তা কে?
ক) নিমাইবাবু
খ) তেওয়ারি
গ) জগদীশবাবু
ঘ) তলওয়ারকর
২৩. “কথায় বলে পরোধর্ম ভয়াবয়। লল্লাটের লেখা তো খণ্ডাবে না।” -বক্তা কে?
ক) অপূর্ব
খ) তেওয়ারি
গ) গিরীশ মহাপাত্র
ঘ) তলওয়ারকর
২৪. “আমি বাবু ধর্মভীরু মানুষ।” – ধর্মভীরু মানুষটি হলেন
ক) জগদীশবাবু
খ) তেওয়ারি
গ) গিরীশ মহাপাত্র
ঘ) তলওয়ারকর
২৫. ‘বামুনের ছেলে, বাংলা লেখাপড়া, শাস্তর-টাস্তর সবই কিছু কিছু শিখেছিলাম”- এ কথা বলেছিল
ক) জগদীশবাবু
খ) তেওয়ারি
গ) গিরীশ মহাপাত্র
ঘ) তলওয়ারকর
২৬. অপূর্ব কোন্ শ্রেণির যাত্রী ছিল?
ক) তৃতীয় শ্রেণির
খ) দ্বিতীয় শ্রেণির
গ) প্রথম শ্রেণির
ঘ) চতুর্থ শ্রেণির
২৭. অপূর্ব ট্রেনে যে পাত্রে তার আহার সম্পন্ন করল-
ক) মাটির পাত্রে
খ) পিতলের পাত্রে
গ) লোহার পাত্রে
ঘ) টিনের পাত্রে
২৮. অপূর্বকে ট্রেনের কামরায় পুলিশের লোক ঘুম ভাঙিয়েছিল-
ক) পাঁচ বার
খ) চার বার
গ) তিন বার
ঘ) দুই বার
২৯. অপূর্ব ভাবো নগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন
ক) সকালবেলায়
খ) দুপুরবেলায়
গ) বিকেলবেলায়
ঘ) রাত্রিবেলায়
৩০. গিরীশ মহাপাত্রের গায়ে কোন রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি ছিল?
ক) লাল
খ) সবুজ
গ) কালো
ঘ) রামধনু
উত্তরমালা :
১ঘ ২ক ৩খ
৪ক ৫খ ৬ঘ
৭গ ৮ক ৯ক
১০খ ১১গ ১২খ
১৩গ ১৪গ ১৫গ
১৬ঘ ১৭গ ১৮গ
১৯গ ২০ক ২১খ
২২ঘ ২৩গ ২৪গ
২৫গ ২৬গ ২৭খ
২৮গ ২৯গ ৩০ঘ
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর : মান -১
কম-বেশি ২০ টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
১. “ইহা যে কত বড়ো ভ্রম তা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।”-‘ভ্রম’টি কী?[মাধ্যমিক, ২০১৭]
উত্তর: অপূর্ব ভেবেছিল যে, প্রথম শ্রেণির যাত্রী হওয়ায় কেউ তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে না। কয়েকটি স্টেশন যাওয়ার পরে তার এই ভাবনাই ভুল প্রমাণিত হয়।
২. “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?”-কোন্ ‘বস্তু’টি পকেটে ছিল? [মাধ্যমিক, ২০১৮]
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের পকেটে যে বস্তুটি থাকার কথা বলা হয়েছে তা হল গাঁজার কলকে।
৩. ভামো যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বর কে কে সঙ্গী হয়েছিল? [মাধ্যমিক, ২০১৯]
▶ ভামো নগরের উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় অপূর্বর সঙ্গে ছিল আরদালি এবং অফিসের একজন হিন্দুস্থানি ব্রাহ্মণ পেয়াদা।
৪. “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।” – বুড়োমানুষের কোন কথা শুনতে বলা হয়েছে?[মাধ্যমিক, ২০২০]
উত্তর: ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশের বুড়ো মানুষ অর্থাৎ পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু গিরিশ মহাপাত্রকে স্বাস্থ্যের কারণে গাঁজা না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
৫. “আর যাই হোক্, যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।”-কার খোঁজ করা হচ্ছিল? [মাধ্যমিক, ২০২২]
উত্তর: প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক-এর খোঁজ করার কথা বলা হয়েছে।
৬. “অপূর্ব মুগ্ধ হইয়া সেইদিকে চাহিয়া ছিল।”- অপূর্ব কী দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল? [মাধ্যমিক, ২০২৩]
উত্তর: অপূর্ব বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে ধৃত গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত প্রাণশক্তিসম্পন্ন চোখের দৃষ্টি দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
৭. “মিথ্যেবাদী কোথাকার!”-উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেন মিথ্যেবাদী বলা হয়েছে? [মাধ্যমিক, ২০২৪]
উত্তর: উদ্দিষ্ট ব্যক্তি অর্থাৎ গিরীশ মহাপাত্রের হাতে গাঁজা খাওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সে নিমাইবাব কাছে অস্বীকার করলে জগদীশবাবু এ কথা বলেছিলেন।
৮. “তার আমি জামিন হতে পারি।” বক্তা কার জামিন হতে পারেন? [মাধ্যমিক, ২০২৫]
উত্তর: বক্তা অর্থাৎ অপূর্ব পুলিশের হাতে ধৃত গিরীশ মহাপাত্র যে পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক নন,তার জামিন হতে প্রস্তুত ছিলেন।
৯. “মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল”- হাসি গোপন করার কারণ কী?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে অপূর্ব গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষা ও পরিচ্ছদ দেখে হাসি গোপন করেছিল।
১০. নিমাইবাবু কীসের প্রতি অপূর্বর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন?
উত্তর: ‘পথের দাবী’ রচনাংশে নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষার বাহার ও পারিপাট্যের প্রতি অপূর্বর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।
প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও: প্রশ্নের মান -৩
১. “এই সুখবরে তারা সব খুশি হয়ে গেল।” কারা, কেন খুশি হয়েছিল? ১+২
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে ‘তারা’ হল হিন্দুস্থানের (পরাধীন ভারতের) লোকজন।
অপূর্ব মনে করে দীর্ঘদিনের পরাধীনতার লাঞ্ছনা সাধারণ মানুষের বাক্ স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। তাদের প্রতিবাদ হারিয়ে গেছে। সাহেবদের এই অত্যাচার অপমান তাদের সহ্য হয়ে গেছে। ফিরিঙ্গি যুবকদের মারে তাই অপূর্বের হাড়-পাঁজরা যে ভেঙে যায়নি এই খবরে তারা খুশি হয়েছিল।
রচনাধর্মী প্রশ্ন : কম বেশি ১৫০ টি শব্দে উত্তর । প্রশ্নের মান – ৫
১. “তাহার পরিচ্ছদের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল”-কে হাসি গোপন করল? তার হাসি পাওয়ার কারণ কী? ১+৪
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশে সব্যসাচী সন্দেহে থানায় ধরে আনা গিরীশ মহাপাত্রের বিচিত্র বেশভূষা দেখে সেখানে উপস্থিত অপূর্ব হাসি গোপন করেছিল।
⬛ গল্পের ঘটনাক্রমে দেখা যায় পুলিশ স্টেশনে সব্যসাচী সন্দেহে গিরীশ, মহাপাত্রকে আটক করা হয়েছে। অনধিক ত্রিশ-বত্রিশ বছর বয়সি, ভারি রোগা এবং রোদেপোড়া তামাটে গাত্রবর্ণের অধিকারী লোকটি ‘কাশিতে কাশিতে’ হাজির হয়েছিল। তার মাথার সামনের দিকে বড়ো বড়ো চুল থাকলেও ঘাড় ও কানের দিকে খুব ছোটো ছাঁটা ছিল। চুলে মাখানো ‘নেবুর তেলের গন্ধে’ ঘর মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিল। মখমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি, সিল্কের চুড়িদার পাঞ্জাবি এবং লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা সবুজ ফুল মোজা সহ বার্ণিশ করা পাম্প শু পরিহিত মহাপাত্রের হাতে ছিল হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি। এই বিচিত্র সাজসজ্জার কারণে অপূর্বের হাসি পেয়েছিল। কারণ তার মনে হয়েছিল উচ্চশিক্ষিত বিপ্লবী সব্যসাচীর ‘কালচার’ কখনোই এমন হওয়া সম্ভব নয়।
২. “এমন সৌভাগ্যকে অপূর্বর মন যেন গ্রাহাই করিল না।”- এখানে কোন ঘটনার ইঙ্গিত করা হয়েছে? তাকে। ‘সৌভাগ্য’ বলা হল কেন? ১+৪
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ গল্পে রাজবিদ্রোহী দেশপ্রেমিক সব্যসাচী ইংরেজদের হাতে ধরা না। পড়ার কথা বলা হয়েছে।
⬛ পথের দাবী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র অপূর্ব আগেই পুলিশের বড়কর্তা নিমাইবাবুর মুখে বিপ্লবী। সব্যসাচী মল্লিকের শিক্ষাদীক্ষা, ব্যক্তিত্ব, বাচাতুর্য, পারদর্শিতা প্রভৃতি সম্পর্কে শুনেছিল। অপূর্বর মনে হয়েছিল তিনি মুক্তিপথের অগ্রদূত। তিনি দেশপ্রেমিক। যদি তিনি ধরা পড়েন, তাহলে তার মান-সম্মান নষ্ট হবে। স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে। ইংরেজরা তাকে বন্দি করবে। তার লাঞ্ছনার সীমা থাকবে না। অপূর্ব নিজেও স্বদেশী ছিল, তাই সব্যসাচীর দুঃখ-কষ্ট-বেদনা কতটা হতে পারে সে বুঝতে পেরেছিল বলেই সব্যসাচীর মতো রাজবিদ্রোহীর ধরা না পড়া অপূর্বের কাছে সৌভাগ্যের বিষয়।
৩. ” বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে।”- বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও।
উত্তর: অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের নাম পদ্যাংশে উল্লিখিত ‘বাবু’টি হলেন ‘রাজনৈতিক সন্দেহভাজন’ সব্যসাচী মল্লিক ওরফে ছদ্মবেশী গিরীশ সহাপাত্র।
গিরীশ মহাপাত্রের কেশভূষা ছিল খুবই হাস্যকর। ভগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়েও সে যেভাবে তার পোশাকের াকের শৌখিনতা বজায় রেখেছিল তা পুলিশ অফিসার নিমাইবাবুর কাছে রীতিমতো জিজ্ঞাক্ষার বিষয় হয়ে উঠেছিল। তার মাথার চুল ছিল সামনের দিকে বড়ো বড়ো, ঘাড় ও কানের কাছে প্রায় নেই বললেই চলে, এমনি ছোটো করে ছাঁটা। মাথায় চেরা সিঁথি। চুল অপর্যাপ্তভাবে তৈলনিতিত্ব। তার লেবুর তেলের গন্ধবিলাসে পুলিশ স্টেশনের সকলের মাথা ধরে গিয়েছিল। গিরিশের গায়ে ছিল রামধনু রঙা জাপানি মিল্কের চুড়িদার পাঞ্জাবি, যার পকেট থেকে দেখা যাচ্ছিল বাঘ আঁকা রুমালের কিয়দংশ। পরনে ছিল বিলাতি মিলের তৈরি কালো মকমল পাড়ের সুক্ষ্ম শাড়ি।
গিরীশ মহাপাত্রের পাড়ে ছিল লোহার নাল বাঁধানো বার্নিশ করা পাম্প শু, সবুজ রঙের ফুল মোজা, যা হাঁটুর উপরে লাল ফিতে = দিয়ে বাঁধা। তারা হাতে ছিল হরিণের শিভের হাতন দেওয়া বেতের ছড়ি। তবে, গৌরবর্ণ, কৃশকায় গিরীশের জামাকাপড় দীর্ঘ জাহাজ যাত্রার ধকলে যেন ময়লা হয়ে গিয়েছিল বলে লেখক মত প্রকাশ করেছেন।
৪. “পোলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।”- এরপর পুলিশ স্টেশনে কী পরিস্থিতি তৈরি হল, তা পাঠ্যাংশ অনুসরণে আলোচনা করো।
উত্তর: অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী’ রচনাংশ থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। রেঙ্গুন পুলিশ স্টেশনে ‘রাজনৈতিক সন্দেহভাজন’ সব্যসাচী মল্লিক ওরফে ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্রকে নিমাই বাবুর সম্মুখে হাজির করা হয়েছিল।
গিরীশ সহাপাত্রের বয়স ত্রিশ- বত্রিশ। ভারী রোগা। গায়ের রং ফরসা হলেও প্রচন্ড তাপে তামাটে বর্ণ ধারণ করেছে। একটু কাশির পরিশ্রমেই যে ভাবে হাঁফাচ্ছিল তাতে মনে হচ্ছিল সংসারের মিয়াদ আর বেশিদিন নেই। কিন্তু বেশভূষা ছিল খুবই হাস্যকর। তার বেশভূষার বাহার ও পারিপাট্য দেখে নিমাইবাবু বলেন-
“বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলো আনাই বজায় আছে।”
গিরিশ মহাপাত্রের গায়ে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙা পঞ্জাবি। পরণে বিলাতি মিলের কালো মকমল পাড়ের সূক্ষ্ম শাড়ি। বুক পকেটে বাঘ আঁকা রুমাল, সবুজ রঙের মোজা, লোহার নালঠোকা পাম্প শু। নেবুর তেলের গন্ধ বিলাসে পুলিশ স্টেশনের সকলের মাথা ধরে গিয়েছিল ।
গিরীশ মহাপাত্রকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে অপূর্ব নিমাইবাবুকে জানায় এই লোকটি কখনই সব্যসাচী হতে পারে না। তল্লাশি করে গিরীশ মহাপাত্রের কাছ থেকে পাওয়া যায়- একটা টাকা ও গণ্ডা ছয়েক পয়সা, কাঠের ফুটরুল, কয়েকটা বিড়ি,দেশলাই ও একটি গাঁজার কলকে। নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রের চেহেরার দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে তাঁকে গাঁজা খেতে নিষেধ করেন। গিরীশ মহাপাত্র বলে সে গাঁজা খায়না, পরের সাহায্যের জন্য রেখেছে। এরপর নিমাইবাবুর সম্মতি নিয়ে তাকে থানা থেকে বিদায় করেন।
৫. ‘পথের দাবী’ রচনাংশ অবলম্বনে অপূর্ব চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তর: অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথের দাবী রচনাংশে অন্যতম প্রধান চরিত্র অপূর্ব। বিপ্লবী সব্যসাচীর ব্যক্তিত্বকে সম্পাদিত করার জন্য অপূর্ব চরিত্রের অবতারণা। অপূর্ব চরিত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ-
১. বিপ্লবী সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল
অপূর্ব জানতে পেরেছিল গিরীশ মহাপাত্র আসলে ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক। দেশের প্রতি, মাতৃভূমির প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা সম্পর্কে অপূর্ব জ্ঞাত ছিল। তাই তাঁর প্রতি হৃদয়ের সমর্থনও ছিল।
২. অমায়িক ব্যবহার:
অপূর্ব ব্রাহ্মন মানুষ। যে রেঙ্গুনে চাকরি করত। রামদাসের বাড়িতে সে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং রামদাসের পত্নীর অনুরোধ অনুসারে খাবার গ্রহণ করেন।
৩. কৃতজ্ঞতাবোধ:
সহকর্মী রামদাসের কাছে অপূর্ব অকপটে তার বাড়ির দোতলার খ্রিশ্চান মেয়েটির সহৃদয়তার পরিচয় ব্যক্ত করেছে এবং তাকে ‘পরম বন্ধু’ বলে মেনে নিয়েছে। এর থেকে বোঝা যায় অপূর্ব চরিত্রে কৃতজ্ঞতাবোধ বর্তমান।
৪. দেশপ্রেমিকঃ
অপূর্ব চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য নিখাদ দেশপ্রেম। বিপ্লবী সব্যসাচীর মল্লিকের প্রতি যে আন্তরিক প্রণাম সে জানিয়েছে তাতে তার গভীর স্বদেশ প্রীতির পরিচয় পাওয়া যায়। অপূর্ব তলওয়ারকে জানিয়েছে-
“আমার মা, আমার ভাই-বোনকে যারা এই সব সহস্র কোটি অত্যাচার থেকে উদ্ধার করতে চায় তাদের আপনার বলে ডাকবার যে দুঃখই থাক আমি আজ থেকে মাথায় তুলে নিলাম।”
অপূর্ব চরিত্রের সহজ স্বীকারোক্তি, বুদ্ধিমত্তা, অন্তরের সরলতা ও অকপট স্বদেশপ্রেম তাকে পাঠকের কাছে জীবন্ত করে তুলেছে।
