বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান – রাজশেখর বসু
মূলগ্রন্থ: বিচিন্তা

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
১. বাংলা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধাদিতে আরেকটি দোষ প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক কোন প্রবাদের উল্লেখ করেছেন ?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী
২. রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম কী ?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) পরশুরাম
৩. ‘Sensitized Paper’ — এর অনুবাদ কি লিখলে ঠিক হয় বলে প্রমাণিত মনে করেছেন?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) সুগ্রাহী কাগজ
৪. বাংলা ভাষা বিজ্ঞান চর্চার একটি প্রধান বাধা হলো-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ঘ) বাংলা পারিভাষিক শব্দের অভাব
৫. যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয় তাদের প্রথম শ্রেণিটি —
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে
৬. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিলেন-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) ১৯৩৬ সালে
৭. পরিভাষা প্রণয়নের ব্যাপারে প্রথম উদ্যোগী হয়-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
৮. ছেলেবেলায় লেখককে যে লেখকের বাংলা জ্যামিতি পড়তে হয়েছিল-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) ব্রহ্মমোহন মল্লিক
৯. Sensitive Person -এর বাংলা অর্থ হওয়া উচিত-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) অভিমানী
১০. “হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড।” — উক্তিটি করেছেন-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) কালিদাস
১১. ‘Connotation’ শব্দের অর্থ-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) অর্থব্যাপ্তি
১২. আমাদের দেশে তখন বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনা সুসাধ্য হবে, যখন এদেশে-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) বিজ্ঞানশিক্ষার বিস্তার ঘটবে
১৩. “অনেকে মনে করেন ________ শব্দ বাদ দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করলে রচনা সহজ হয়।” – শূন্যস্থানে বসবে-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) পারিভাষিক
১৪. পরিভাষার উদ্দেশ্য হল-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) ভাষার সংক্ষেপ এবং অর্থ সুনির্দিষ্ট করা
১৫. ‘অরণ্যে রোদন’-এর ব্যঞ্জনার্থ হল-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ঘ) নিষ্ফল খেদ
১৬. আমাদের আলঙ্কারিকেরা শব্দের যে শ্রেণির কথা বলেছেন-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলিই ঠিক
১৭. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ রচনাটিতে উল্লিখিত পত্রিকায় যে গ্যাসকে স্বাস্থ্যকর বলা হয়েছে-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ঘ) ওজন
১৮. “হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড”- কালিদাসের এই উক্তিটি-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) কাব্যেরই উপযুক্ত, ভূগোলের নয়
১৯. বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে কী কম থাকলে ভালো?-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ঘ) অলংকার
২০. পিতলের চেয়ে হালকা ধাতু হলো-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) অ্যালুমিনিয়াম
অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : প্রশ্নের মান -১
১. “তাতে অনেকে মুশকিলে পড়েছেন” – কীসে ‘মুশকিলে’ পড়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: সরকারি কাজে দেশি পরিভাষা চালাতে গিয়ে যথাযথ পরিভাষার অভাবে অনেকে মুশকিলে পড়েছেন।
২. পরিভাষার উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: পরিভাষার উদ্দেশ্য ভাষার সংক্ষেপ ও অর্থকে সুনির্দিষ্ট করা।
৩. অবিখ্যাত লেখকের বৈজ্ঞানিক রচনা প্রকাশের আগে কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?
উত্তর: অভিজ্ঞ লোককে দিয়ে যাচাই করিয়ে নেওয়া।
৪. “তার ফলে তাঁদের চেষ্টা অধিকতর সফল হয়েছে।”- ‘তার ফলে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ১৯৩৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করে। ‘তার ফলে’ বলতে সেই পরিভাষা সমিতিতে বিজ্ঞানের অধ্যাপক, ভাষাতত্ত্বজ্ঞ, সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত এবং আরো অনেকের একযোগে কাজ করার সাফল্যকে বোঝানো হয়েছে।
৫. ‘এতে রচনা উৎকট হয়”-রচনা ‘উৎকট’ হয় কীসে?
উত্তর: প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে জানিয়েছেন, যে সমস্ত লেখকরা তাঁদের বক্তব্যকে ইংরাজিতে ভেবে লেখার ক্ষেত্রে বাংলা অনুবাদ ব্যবহার করেন তাঁদের রচনা ‘উৎকট’ হয়।
৬. প্রয়োজনমতো বাংলা শব্দ পাওয়া না গেলে কী করা উচিত বলে লেখক মনে করেছেন?
উত্তর: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক জানিয়েছেন প্রয়োজনমতো বাংলা শব্দ পাওয়া না গেলে বৈজ্ঞানিক রচনায় ইংরাজি শব্দগুলি বাংলা বানানে লেখা যেতে পারে।
৭. বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি নবাগত রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নাম সম্বন্ধে কী বিধান দিয়েছিলেন?
উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত পরিভাষা সমিতি বিধান দিয়েছিল যে, নতুন কোনো রাসায়নিক বস্তুর ইংরেজি নামই বাংলায় ব্যবহার করা যাবে।
৮. “যাদের জন্য বিজ্ঞানবিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয় তাদের মোটামুটি দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে।”- শ্রেণি দুটি কী কী?
উত্তর: উল্লিখিত দুই শ্রেণির মধ্যে প্রথম শ্রেণি হল যারা ইংরেজি জানে না বা অতি অল্প জানে এবং দ্বিতীয় শ্রেণি হল যারা ইংরেজি জানে।
৯. “আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন” শব্দের ‘ত্রিবিধ কথা’ কী?
উত্তর: আমাদের আলংকারিকরা শব্দের যে ‘ত্রিবিধ কথা’ বলেছেন সেগুলি হল-অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা।
১০. ছেলেবেলায় রাজশেখর বসু কার লেখা জ্যামিতি বই পড়তেন?
উত্তর: ছেলেবেলায় রাজশেখর বসু ব্রহ্মমোহন মল্লিক-এর লেখা বাংলা জ্যামিতি বই পড়তেন।
১১. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কবে পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিল?
উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিল ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে।
১২. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে কী ত্রুটি ছিল?
উত্তর: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের লেখকরা মিলিতভাবে একযোগে কাজ না করার ফলে সংকলিত পরিভাষায় সমতা আসেনি। একই ইংরেজি শব্দের বিভিন্ন প্রতিশব্দ রচিত হয়েছে। এই ছিল তাদের ত্রুটি।
১৩. “বাংলায় বিজ্ঞান শেখা তাদের সংস্কারের বিরোধী নয়।”-কাদের পক্ষে এই শিক্ষা সংস্কার-বিরোধী নয়?
উত্তর: বাংলা পরিভাষা আয়ত্ত করে বাংলায় বিজ্ঞান শিক্ষার বিষয়টি ইংরেজি না জানা পাঠকদের কাছে সংস্কার বিরোধী নয়।
১৪. ‘আমাদের সরকার ক্রমে ক্রমে রাজকার্যে দেশি পরিভাষা চালাচ্ছেন,’-তাতে অনেকে মুশকিলে পড়েছেন কেন?
উত্তর : আমাদের সরকার রাজকার্যে যেভাবে দেশি পরিভাষা ক্রমশ ব্যবহার করাচ্ছেন তাতে অনেকে মুশকিলে পড়ছে, কেন-না তাদের নতুন করে সেগুলি শিখতে হচ্ছে।
১৫. ‘এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।’-কোন্ ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয় বলেছেন লেখক?
উত্তর: অনেকের মতে বিজ্ঞান আলোচনায় পারিভাষিকশব্দ বাদদিয়ে সাধারণ মন্দ ব্যবহার করলে রচনা সহজ ও বোধগম্য হয়। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ঠিক নয়।
১৬. ‘বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে যত কম থাকে ততই ভালো।’-কী কম থাকার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: লেখক রাজশেখর বসু বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে অলংকারের প্রয়োগ কম করতে বলেছেন, কারণ বৈজ্ঞানিক বিষয়ের ভাষা হওয়া উচিত সহজসরল ও স্পষ্ট।
১৭. ‘এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।’-কোন কথাটি?
উত্তর : রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ অনুসারে কথাটি হল, যে-কোনো বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের ভাষা অত্যন্ত সরল এবং স্পষ্ট হওয়া আবশ্যক।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রশ্নের মান -৫
৬.১ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার সমস্যাগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার সমস্যা :
প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ শীর্ষক প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। যেমন-
পারিভাষিক শব্দের অভাব: প্রাবন্ধিকের মতে বাংলায় সঠিক পারিভাষিক শব্দ বেশি নেই। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেষ্টা সত্ত্বেও পারিভাষিক শব্দের অভাব এখনো রয়ে গেছে।
বৈজ্ঞানিক জ্ঞান কম: আমাদের দেশের সাধারণ জনগণের বৈজ্ঞানিক চেতনার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে পাশ্চাত্য দেশের জনগণের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে। বিজ্ঞানের সাধারণ ধারণাও নেই, যা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভাষার আড়ষ্টতা: বিজ্ঞান আলোচনার জন্য যে রচনা পদ্ধতি প্রয়োজন তা অনেক লেখকই আয়ত্ত করতে পারননি। ফলে তাদের ভাষা আড়ষ্ট এবং ইংরেজির আক্ষরিক অনুবাদ হয়ে দাঁড়ায়। তার ফলে রচনা সাবলীলতা পায় না।
অযথা অলংকারের ব্যবহার: লেখকের বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের ভাষায় অলংকার কম থাকাই শ্রেয়। অযথা অলংকার সমৃদ্ধ ভাষার প্রয়োগে বৈজ্ঞানিক রচনা উৎকট হয়ে ওঠে।
ভুল তথ্য ব্যবহার: যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা না থাকায় অনেকেই ভুল তথ্য পরিবেশন করে ফেলেন; যা সাধারণ পাঠকের পক্ষে অনিষ্টকর। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার পূর্বোক্ত সমস্যাগুলির কথাই প্রাবন্ধিক তুলে ধরেছেন।
২. “এই দোষ থেকে মুক্ত না হলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না” কোন্ দোষের কথা বলা হয়েছে? কীভাবে এই দোষ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব বলে লেখক মনে করেন? ২+৩
উত্তর: আলোচ্য অংশটি রাজশেখর বসুর লেখা ‘বাংলা বাষায় বিজ্ঞান’ নামক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর মতে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান আলোচনার জন্য যে ধরনের রচনা পদ্ধতি প্রয়োজন তা অনেক লেখকই ঠিকমতো আয়ত্ত করতে পারেননি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের ভাষা প্রয়োগে আড়ষ্টতা দেখা যায়। ইংরেজি থেকে যা অনুবাদ করেন তা প্রায় আক্ষরিক হয়ে পড়ে। প্রশ্নে এই দোষের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখকের মতে এই দোষগুলি থেকে মুক্ত হতে গেলে চাই পরিভাষার সংখ্যা বাড়ানো। বাংলায় বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রচনা করতে গিয়ে অনেক লেখক ইংরেজি শব্দের যে ‘অর্থব্যপ্তি বা Connotation’ বাংলা প্রতিশব্দের ক্ষেত্রেও হুবহু আনতে চান। এর ফলে তাঁরা উৎকট শব্দ প্রয়োগ করে ফেলেন। ইংরেজি Sensitive এই শব্দটি বহু অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন Sensitive person, Plant, balance ইত্যাদি। বাংলার ক্ষেত্রে অর্থভেদে বিভিন্ন শব্দ প্রয়োগ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। যেমন Sensitized Paper-কে কেউ যদি ‘স্পর্শকাতর কাগজ’ লেখেন তাহলে সেটি আক্ষরিক অনুবাদের দোষে দুষ্ট। কিন্তু সেখানে যদি ‘সুগ্রাহী কাগজ’ লেখেন তাহলে সেটি যথাযথ হয়। তাঁর মতে অনেক লেখক নিজেদের লেখার বিষয়গুলি ইংরেজিতে ভাবেন এবং সেই ভাবনা থেকেই বাংলায় অনুবাদের চেষ্টা করেন। এতের চনাগুণ নষ্ট হয়। তাই প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু বারংবার যে বিষয়টির উপর জোর দিতে চেয়েছেন তা হল বাংলা পরিভাষার সংখ্যা বাড়ানো, ভাষাকে আড়ষ্টতা মুক্ত করা, আক্ষরিক অনুবাদের পরিবর্তে ভাবানুবাদ করা।
৩.”আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন।’-এগুলি কী কী? উদাহরণসহ এগুলির পরিচয় দাও।
উত্তর: মননশীল প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর লেখা ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। প্রাবন্ধিক শব্দের যে ত্রিবিধ কথা’ উল্লেখ করেছেন তা হল-
১. অভিধা
২. লক্ষণা
৩. ব্যঞ্জনা
অভিধা:
শব্দের মুখ্যার্থ বা বাচ্যার্থ প্রকাশিত হয় যে বৃত্তির দ্বারা তাকে বলা হয় অভিধা। অভিধা কেবল শব্দের আভিধানিক অর্থ প্রকাশ করে। যেমন ‘দেশ’- এর আভিধানিক অর্থ কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা স্থান।
লক্ষণা :
কোনো শব্দের মুখার্থ অতিক্রম করে শব্দটির গৌন অর্থ যখন প্রধান হয়ে উঠে বা আভিধানিক অর্থের অতিরিক্ত অন্য বিষয় নির্দেশ করে তখন তাকে লক্ষণা বলে। যেমন- ‘তিনি এখন রবীন্দ্রনাথ পড়ছেন’- এই বাক্যের ‘’রবীন্দ্রনাথ’ শব্দটির মুখ্য অর্থ হল বিশ্ববিখ্যাত একজন কবি। কিন্তু লক্ষনার অর্থ তিনি রবীন্দ্রনাথের লেখা সাহিত্য পড়ছেন। অনুরূপভাবে ‘দেশের লজ্জা’ এর লক্ষণীয় অর্থ-‘দেশবাসীর লজ্জা’।
ব্যঞ্জনা:
অভিধা এবং লক্ষণা দ্বারা শব্দার্থ যখন ব্যাখ্যা করা যায় না এবং শব্দ যখন নতুন অর্থের দ্যোতনা তৈরি করে, তখন তাকে বলা হয় ব্যঞ্জনা। যেমন- ‘অরণ্য’- এর আভিধানিক অর্থ হল ‘বন’ কিন্তু ‘অরণ্যে রোদন’ বললে কখনই ‘বনে বসে কান্না’কে বোঝায় না। তার ব্যঞ্জনার অর্থ হয় নিষ্ফল খেদ।
৪. ‘বাংলা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধাদিতে আর একটি দোষ প্রায় নজরে পড়ে।-কোন্ দোষের কথা বলা হয়েছে? এই দোষ মুক্তির উপায় কী?
অথবা, ‘এই রকম ভুল লেখা সাধারণ পাঠকের পক্ষে অনিষ্টকর।’- কী ধরনের ভুল লেখার কথা লেখক উল্লেখ করেছেন? সেই ভুল সংশোধনের কোন উপায় তিনি নির্দেশ করেছেন লেখো। ৩+২
উত্তর: প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বিজ্ঞানবিষয়ক আলোচনায় একটি গুরুতর ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন। সেটি হলো—অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী লেখকদের তথ্যগত ভ্রান্তি বা ভুল তথ্য পরিবেশন। অনেক লেখক কোনো বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না রেখেই বিজ্ঞান নিয়ে লিখতে শুরু করেন। উদাহরণস্বরূপ লেখক একটি পত্রিকায় দেখেছিলেন—”অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন স্বাস্থ্যকর বলে বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই… তবে ওজোন গ্যাস স্বাস্থ্যকর।” এই ধরনের মনগড়া ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য সাধারণ পাঠকের মনে ভুল ধারণা তৈরি করে, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর।
দোষ মুক্তির উপায়:
এই অনিষ্টকর ভুল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রাবন্ধিক দুটি নির্দিষ্ট উপায়ের কথা জানিয়েছেন:
গভীর জ্ঞান অর্জন: লেখককে কোনো বিশেষ বৈজ্ঞানিক বিষয় নিয়ে লেখার আগে সেই বিষয়ে স্পষ্ট, গভীর ও যথার্থ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। ভাসা-ভাসা জ্ঞান নিয়ে বিজ্ঞানচর্চা করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞ দ্বারা যাচাই: সাময়িক পত্রিকায় বা পুস্তকে কোনো অখ্যাত লেখকের বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশের আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করিয়ে নেওয়া আবশ্যক।
এককথায়, বিজ্ঞান-বিষয়ক প্রবন্ধ রচনাকালে বিষয়ের ওপর স্পষ্ট ধারণা ও জ্ঞান থাকা উচিত।
