নানা রঙের দিন
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়
পটভূমি ও মঞ্চায়নের ইতিহাস
‘নানা রঙের দিন’ নাটকটি বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য একাঙ্ক নাটক। নাটকটির মূল উৎস রুশ নাট্যকার আন্তন চেখভের বিখ্যাত একাঙ্ক নাটক Swan Song বা ‘সোয়ান সং’।
নাটকটির মঞ্চায়নের ইতিহাসে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা রয়েছে—
- প্রথম অভিনয়: প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৯৬১ সালের ২৬ ডিসেম্বর।
- ১৯৬৯ সালের মঞ্চায়ন: ওই বছর তৎকালীন বোম্বাইয়ের রবীন্দ্রসদন মঞ্চে নান্দীকারের অন্যান্য নাটকের সঙ্গে এটি অভিনীত হয়।
- নান্দীমুখের প্রথম নাটক: ১৯৭৭ সালে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় নান্দীকার ছেড়ে ‘নান্দীমুখ’ নামে নতুন নাট্যদল গঠন করেন। প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, এই দলের প্রথম অভিনীত নাটক ছিল ‘নানা রঙের দিন’। সেই অভিনয়ের জন্য দলটি ৩০০ টাকা ও গাড়িভাড়া পেয়েছিল।
নাটকটির কেন্দ্রীয় বিষয় হলো একজন প্রবীণ অভিনেতার অতীতের সাফল্য, ব্যক্তিগত জীবনের অপূর্ণতা, বার্ধক্য এবং নিঃসঙ্গতার বেদনাময় অভিজ্ঞতা।
বিষয়সংক্ষেপ
ফাঁকা মঞ্চে রজনীকান্ত
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি একসময়ের খ্যাতিমান পেশাদারি থিয়েটারের অভিনেতা। নাটকের ঘটনাগুলি একটি গভীর রাতে থিয়েটারের ফাঁকা মঞ্চে ঘটে।
নাটকের শুরুতে দেখা যায়, ৬৮ বছর বয়সি রজনীকান্ত ‘দিলদার’ চরিত্রের পোশাক পরে হাতে মোমবাতি নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করেছেন। নাটক শেষ হওয়ার পর তিনি গ্রিনরুমে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে তিনি নিজেকে এক নির্জন ও অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহে দেখতে পান। বাড়ি ফেরার জন্য তিনি থিয়েটারের কর্মী রামব্রিজকে ডাকেন, কিন্তু কারও সাড়া পান না। ফাঁকা মঞ্চ ও নিস্তব্ধ প্রেক্ষাগৃহ তাঁর মনে গভীর একাকিত্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
কালীনাথ ও অতীতের স্মৃতি
এই সময় মঞ্চে আসেন থিয়েটারের প্রম্পটার কালীনাথ সেন। তাঁর নিজের থাকার জায়গা নেই বলে তিনি লুকিয়ে গ্রিনরুমে রাত কাটান। কালীনাথের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রজনীকান্ত নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করেন।
যৌবনে অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে রজনীকান্ত পুলিশের চাকরি ছেড়ে থিয়েটারে যোগ দিয়েছিলেন। অভিনয়জগতে তিনি খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে এক ধনী পরিবারের সুন্দরী তরুণী তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের সময় তরুণী তাঁকে থিয়েটার ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দেন। রজনীকান্ত অভিনয় ছাড়তে রাজি না হওয়ায় তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।
তিক্ত অভিজ্ঞতা ও নিঃসঙ্গতা
এই অভিজ্ঞতা থেকে রজনীকান্তের মনে অভিনেতার সামাজিক মর্যাদা সম্পর্কে তিক্ত ধারণা জন্মায়। তাঁর মনে হয়, দর্শক মঞ্চে অভিনেতার অভিনয় দেখে আনন্দ পায় ও হাততালি দেয়, কিন্তু মঞ্চের বাইরে তাঁকে যথাযথ সম্মান দিতে চায় না। তাই তিনি অভিনেতাকে ‘চাকর’, ‘জোকার’ ও ‘ক্লাউন’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের অভিনয়জীবনের শেষে রজনীকান্ত বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। তাঁর মনে হয়, বয়সের কারণে আগের মতো অভিনয় করার ক্ষমতা আর নেই। একসময়ের খ্যাতিমান অভিনেতা এখন ব্যক্তিগত জীবনে নিঃসঙ্গ। এই হতাশা থেকেই তিনি নিজের প্রতিভার ‘অপমৃত্যু’র কথা বলেন।
শিল্পের প্রতি ভালোবাসা ও অন্তিম উপলব্ধি
কালীনাথের সঙ্গে কথা বলতে বলতে রজনীকান্ত অতীতের অভিনয়জীবনে ফিরে যান। তিনি ‘রিজিয়া’ ও ‘সাজাহান’-এর মতো নাটকের চরিত্রগুলির সংলাপ ও অভিনয় স্মরণ করেন। সেই মুহূর্তে শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা আবার প্রকাশ পায়। তাঁর মনে হয়, শিল্পের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে জীবনের দুঃখ ও সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠতে সাহায্য করে।
কিন্তু অতীতের স্মৃতি তাঁকে বেশিক্ষণ আনন্দে রাখতে পারে না। বাস্তব জীবনের নিঃসঙ্গতা আবার তাঁকে ঘিরে ধরে। নাটকের শেষভাগে শেক্সপিয়রের নাটকের সংলাপের মাধ্যমে জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও সময়ের পরিবর্তন সম্পর্কে তাঁর বেদনাময় উপলব্ধি প্রকাশিত হয়। এভাবেই নাটকটি একজন শিল্পীর গৌরবময় অতীত, অপূর্ণ ব্যক্তিগত জীবন ও নিঃসঙ্গ বর্তমানের ছবি তুলে ধরে।
নামকরণের সার্থকতা
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণ ব্যঞ্জনাধর্মী। নামটির মধ্যে রজনীকান্তের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, আনন্দ-বেদনা এবং অতীত ও বর্তমানের বৈপরীত্য প্রকাশ পেয়েছে।
নাটকের দৃশ্যভিত্তিক সংক্ষিপ্ত রূপরেখা
প্রথম অংশ: ফাঁকা মঞ্চে রজনীকান্তের আত্মকথন
নাটকের শুরুতে গভীর রাতে একটি পেশাদারি থিয়েটারের ফাঁকা মঞ্চ দেখা যায়। ‘দিলদার’ চরিত্রের পোশাক পরে হাতে মোমবাতি নিয়ে রজনীকান্ত সেখানে প্রবেশ করেন। বাড়ি ফেরার জন্য তিনি রামব্রিজকে ডাকলেও কারও সাড়া পান না।
এই নির্জন পরিবেশে রজনীকান্ত নিজের বয়স ও জীবনের শেষপর্যায় সম্পর্কে ভাবতে থাকেন। তাঁর বয়স এখন ৬৮ বছর। যৌবনের মতো আর অভিনয় করার ক্ষমতা নেই—এই সত্য তিনি উপলব্ধি করেন। ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহ তাঁর কাছে গভীর নিঃসঙ্গতার প্রতীক হয়ে ওঠে। তাঁর মনে হয়, জীবনের সোনালি দিনগুলি ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসছে।
দ্বিতীয় অংশ: কালীনাথের প্রবেশ ও নিঃসঙ্গতার উপলব্ধি
এই সময় মঞ্চে আসেন প্রম্পটার কালীনাথ সেন। তাঁর নিজের থাকার জায়গা নেই বলে তিনি লুকিয়ে গ্রিনরুমে রাত কাটান। তাঁর এই অসহায় অবস্থা দেখে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আর্থিক দুরবস্থার ছবিও স্পষ্ট হয়।
কালীনাথের সঙ্গে কথোপকথনের মধ্য দিয়ে রজনীকান্ত নিজের মনের কথা প্রকাশ করেন। তিনি বুঝতে পারেন, মঞ্চে হাজারো দর্শক তাঁকে অভিনেতা হিসেবে চেনে, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সুখ-দুঃখের খোঁজ নেওয়ার মতো আপনজন নেই। এই উপলব্ধি তাঁর নিঃসঙ্গতাকে আরও গভীর করে তোলে।
তৃতীয় অংশ: প্রেম ও সমাজ সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতা
রজনীকান্ত কালীনাথকে তাঁর যৌবনের প্রেমের কথা বলেন। তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে এক ধনী পরিবারের সুন্দরী তরুণী তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের সময় তরুণী তাঁকে থিয়েটার ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দেন।
রজনীকান্ত অভিনয় ছাড়তে রাজি হননি। ফলে তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যায়। এই ঘটনা তাঁর মনে গভীর আঘাত সৃষ্টি করে। তাঁর মনে হয়, সমাজ অভিনেতার অভিনয় দেখে আনন্দ পায় এবং প্রশংসা করে, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তাঁকে যথাযথ সম্মান দিতে চায় না। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি অভিনেতাকে ‘চাকর’, ‘জোকার’ ও ‘ক্লাউন’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
চতুর্থ অংশ: অতীতের স্মৃতি ও অন্তিম উপলব্ধি
কালীনাথের সামনে রজনীকান্ত তাঁর অভিনয়জীবনের স্মৃতিতে ফিরে যান। তিনি ‘রিজিয়া’ ও ‘সাজাহান’-এর মতো নাটকের চরিত্র ও সংলাপ স্মরণ করেন। এই সময় তাঁর অভিনয়প্রতিভা এবং শিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা আবার প্রকাশ পায়।
রজনীকান্ত মনে করেন, শিল্পের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে জীবনের দুঃখ, বার্ধক্য ও একাকিত্বের অনুভূতির ঊর্ধ্বে উঠতে সাহায্য করে। কিন্তু এই অনুভূতি স্থায়ী হয় না। বাস্তব জীবনের নিঃসঙ্গতা ও অপূর্ণতার কথা আবার তাঁকে হতাশ করে তোলে।
নাটকের শেষভাগে শেক্সপিয়রের নাটকের সংলাপের মাধ্যমে তিনি জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও সময়ের পরিবর্তন সম্পর্কে নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করেন। অতীতের সাফল্য আর ফিরে আসবে না—এই সত্য তাঁকে মেনে নিতে হয়। এভাবেই নাটকটি একজন প্রবীণ শিল্পীর জীবনের গৌরব, বেদনা ও নিঃসঙ্গতার মর্মস্পর্শী ছবি হয়ে ওঠে।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্নে ট্যাপ করলে উত্তর খুলবে
১‘নানা রঙের দিন’ নাটকটির নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা করো। ৫ নম্বর
নাট্যকার অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ একটি ব্যঞ্জনাধর্মী নামের একাঙ্ক নাটক। নাটকটির নামকরণের সার্থকতা কয়েকটি দিক থেকে আলোচনা করা যায়।
২‘অভিনেতা মানে একটা চাকর—একটা জোকার, একটা ক্লাউন…’—বক্তার কথার তাৎপর্য আলোচনা করো। ৫ নম্বর২০১৬
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের প্রধান চরিত্র রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় আলোচ্য উক্তিটির বক্তা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর মনে অভিনেতার সামাজিক মর্যাদা সম্পর্কে গভীর হতাশা জন্মেছে।
৩‘…প্রাক্তন অভিনেতা রজনী চাটুজ্জের প্রতিভার অপমৃত্যুর করুণ সংবাদ!’—কে বলেছেন? এই অপমৃত্যু কীভাবে ঘটে বলে বক্তা মনে করেন? ১+৪=৫২০১৯
বক্তা (১): অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের প্রধান চরিত্র রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় আলোচ্য উক্তিটির বক্তা।
প্রতিভার অপমৃত্যুর কারণ (৪):
৪‘আমি রোজ লুকিয়ে লুকিয়ে গ্রিনরুমে ঘুমোই চাটুজ্জেমশাই—কেউ জানে না।’—কোন নাটকের অংশ? বক্তা কে? তিনি কেন গ্রিনরুমে ঘুমান? ১+১+৩=৫
নাটকের নাম (১): উক্তিটি অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ একাঙ্ক নাটকের অংশ।
বক্তা (১): উক্তিটির বক্তা হলেন নাটকের প্রম্পটার কালীনাথ সেন।
গ্রিনরুমে ঘুমানোর কারণ (৩):
৫‘নানা রঙের দিন’ নাটকের সূচনায় মঞ্চসজ্জার যে বর্ণনা আছে, তা নিজের ভাষায় লেখো। নাটকটির নামকরণ কতখানি সার্থক? ২+৩=৫২০২০
ক) মঞ্চসজ্জার বর্ণনা (২): অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের শুরুতে একটি পেশাদারি থিয়েটারের ফাঁকা মঞ্চ দেখা যায়। রাতের অভিনয় শেষ হয়েছে। মঞ্চে ‘সাজাহান’ নাটকের দৃশ্যপট ও নানা জিনিসপত্র ছড়িয়ে রয়েছে। মঞ্চের মাঝখানে একটি উল্টে রাখা টুল রয়েছে এবং দর্শকাসন সম্পূর্ণ ফাঁকা। এই সময় ‘সাজাহান’ নাটকে দিলদারের পোশাক পরা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় হাতে একটি মোমবাতি নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করেন।
খ) নামকরণের সার্থকতা (৩): ‘নানা রঙের দিন’ নামটি নাটকের বিষয়বস্তুর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। নামকরণটির সার্থকতা কয়েকটি দিক থেকে বোঝা যায়।
৬‘নানা রঙের দিন’ নাটক অবলম্বনে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। ৫ নম্বর
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি পেশাদারি থিয়েটারের একসময়ের সফল অভিনেতা। তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো—
৭‘হ্যাঁ কালীনাথ, আমাদের দিন ফুরিয়েছে।’—বক্তা কে? কোন প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেছেন? ১+৪=৫
বক্তা (১): অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ নাটকে আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়।
উক্তিটির প্রসঙ্গ ও তাৎপর্য (৪):
৮‘আমিও তো মানুষ কালীনাথ।’—বক্তা কেন এ কথা বলেছেন? তাঁর মনের অবস্থা আলোচনা করো। ৫ নম্বর
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের প্রধান চরিত্র রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় আলোচ্য উক্তিটির বক্তা।
৯‘শিল্পকে যে মানুষ ভালোবেসেছে—তার বার্ধক্য নেই, একাকিত্ব নেই, রোগ নেই।’—বক্তার বক্তব্যের তাৎপর্য আলোচনা করো। ৫ নম্বর
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের প্রধান চরিত্র রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় শিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই আলোচ্য কথাটি বলেছেন।
১০‘নানা রঙের দিন’ নাটকে রজনীকান্তের অভিনয়জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের দ্বন্দ্ব আলোচনা করো। ৫ নম্বর
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ নাটকের প্রধান চরিত্র রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে অভিনয়জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে গভীর দ্বন্দ্ব দেখা যায়।
১১‘নানা রঙের দিন’ নাটকটি একাঙ্ক নাটক হিসেবে কতখানি সার্থক, আলোচনা করো। ৫ নম্বর২০১৭
একাঙ্ক নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ঘটনার একমুখীনতা, বাহুল্য বর্জন, স্থান-কাল-কার্যের ঐক্য এবং নাট্যঘটনার সুসংহত বিন্যাস। এই বৈশিষ্ট্যগুলির আলোকে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটিকে বিচার করা যায়।
১২‘নানা রঙের দিন’ নাটকে রজনীকান্ত কীভাবে ‘সাজাহান’ নাটকের ঔরঙ্গজেবের চরিত্রের মধ্যে নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান? ৫ নম্বর
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নানা রঙের দিন’ নাটকে রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায় একজন প্রবীণ অভিনেতা। তিনি ‘সাজাহান’ নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে নিজের জীবন ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে নাটকের চরিত্রের কিছু মিল খুঁজে পান।
১৩‘নানা রঙের দিন’ নাটকটি কোন নাটকের অনুসরণে রচিত? ‘Farewell the tranquil mind! Farewell content!’ এবং ‘Life’s but a walking shadow’—উক্তি দুটির তাৎপর্য আলোচনা করো। ৫ নম্বর
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নানা রঙের দিন’ নাটকটি আন্তন চেখভের ‘Swan Song’ নাটকের অনুসরণে রচিত বাংলা নাট্যরূপ।
✨ মূল বার্তা
রজনীকান্তের জীবনে অতীতের বর্ণময় দিন ও বর্তমানের নিঃসঙ্গ বার্ধক্য পাশাপাশি এসে দাঁড়িয়েছে। সেই বৈপরীত্যের মধ্য দিয়েই নাটকটি শিল্প, খ্যাতি ও মানবিক একাকিত্বের গভীর সত্য তুলে ধরেছে।
বাংলা সহায়ক · banglasahayak.com
