অদল বদল – পান্নালাল প্যাটেল
তরজমা: অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত
মূলগ্রন্থ: পান্নালালনি শ্রেষ্ঠ বার্তাও
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর :
১. ইসাব ও অমৃতের সবটাতেই মিল, তফাৎ শুধু একটা— ইসাবের:
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ঘ) মা নেই
২. অমৃতের মতো ছেলে পেলে ইসাবের বাবা কতজনকে পালন করতে রাজি ছিলেন?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) ২১ জনকে
৩. ‘অদল বদল’ গল্পের লেখক পান্নালাল প্যাটেল কোন ভাষার প্রসিদ্ধ লেখক ছিলেন?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) গুজরাটি ভাষার
৪. ইসাবের বাবার নাম:
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) হাসান
৫. অমৃত ও ইসাবের বয়স:
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) ১০ বছর
৬. হোলির দিন দলের ছেলেরা অমৃত আর ইসাবকে একরকম পোশাকে দেখে কী করতে বলেছিল?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ঘ) কুস্তি লড়তে
৭. অমৃতের সঙ্গে কুস্তি লড়তে চেয়েছিল:
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) কালিয়া
৮. ইসাবের পকেট কতটা ছিঁড়েছিল?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) ছয় ইঞ্চি
৯. “পাঠানোর গল্প শোনার জন্য ঘিরে দাঁড়ালো”–
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ঘ) পাড়াপড়শি ও মায়ের দল
১০. “অমৃতের কপাল ভালো । কারণ দিনটা ছিল –
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) হোলির দিন
১১. অমৃত ও ইসাব দুজনের বাবা পেশায় ছিলেন-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) চাষি
১২. অমৃত তার মাকে নতুন জামা কিনতে বাধ্য করার জন্য কোথায় লুকিয়েছিল?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) ইসাবদের গোয়ালঘরে
১৩. “হঠাৎ অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল” -বুদ্ধিটা ছিল-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) জামা অদলবদল করার
১৪. ইসাবের বাবার নাম ছিল-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) হাসান
১৫. অদল বদল এর গল্প গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে কার কানে পৌছলো?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) গ্রাম প্রধান
১৬. “কী খাঁটি কথা। অমৃতের জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে।” উক্তিটির বক্তা-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) পাঠান
১৭. পান্নালাল প্যাটেল কত খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে
১৮. “আজ থেকে আমরা অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে ডাকব।”-বক্তা হলেন-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) গ্রামপ্রধান
১৯. অমৃতের মায়ের নাম:
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) বাহালি
২০. অমৃত ও ইসাবের জামা অদলবদলের গল্প পাড়াপড়শিদের বলেছিল-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) ইসাবের বাবা
অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন: প্রশ্নের মান -১
১ “ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল।” ইসাবের মেজাজ চড়ে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: অমৃতের অনিচ্ছা সত্ত্বেও হোলির দিন কালিয়া তাকে কুস্তি লড়তে বাধ্য করে। শুধু তাই নয় কুস্তি লড়তে গিয়ে অমৃতকে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। বন্ধুর এই অপমান-দেখে ইসাবের মেজাজ চড়ে যায়।
২. অমৃতের মা ওকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কী বলেছিলেন?
উত্তর: নতুন জামা কিনে দেওয়ার আগে ইসাবের বাবা ইসাবকে খুব মেরেছিল। অমৃত সে রকম মার খেতে প্রস্তুত কিনা জানতে চেয়ে বেকায়দায় ফেলেছিল।
৩. “অমৃত ফতোয়া জারি করে দিল,” অমৃত কী ‘ফতোয়া’ জারি করেছিল?
উত্তর: ‘অদল বদল’ গল্পের শিশু চরিত্র অমৃত ফতোয়া জারি করেছিল, তার বন্ধু ইসাবের মতো জামা না পাওয়া পর্যন্ত স্কুলে আর যাবে না।
৪. অমৃত কেন কুস্তি লড়তে রাজি ছিল না?
উত্তর: অমৃত কুস্তি লড়তে রাজি ছিল না, কারণ সে চায়নি তার নতুন জামা-কাপড় নোংরা হোক।
৫. “এসো, আমরা কুস্তি লড়ি।”-কে কার সঙ্গে কুস্তি লড়তে চেয়েছিল?
উত্তর: কালিয়া অমৃত-র সঙ্গে কুস্তি লড়তে চেয়েছিল।
৬. ‘অদল বদল’ গল্পটি কে বাংলায় তরজমা করেছেন?
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল বদল’ গল্পটির বাংলা তরজমা করেছেন অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।
৭. ‘অদল বদল’-এর গল্প গ্রামপ্রধানের কানে গেলে তিনি কী ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তর: অমৃত এবং ইসাবের জামা ‘অদল বদল’-এর গল্প গ্রামপ্রধানের কানে গেলে গ্রামপ্রধান ঘোষণা করেছিলেন যে, গ্রামের সকলে অমৃতকে ‘অদল’ আর ইসাবকে ‘বদল’ বলে ডাকবে।
৮. “হঠাৎ অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল।”-‘বুদ্ধি’-টা কী ছিল?
উত্তর: অমৃতর লাঞ্ছনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে গেছে দেখে তার মাথায় নিজের সঙ্গে ইসাবের জামা অদল-বদল করার বুদ্ধি এসেছিল।
ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর : প্রশ্নের মান -৩
১. “ছেলেদুটোর সবই একরকম, তফাত শুধু এই যে”-ছেলে দুটি কে কে? তাদের মধ্যে তফাত কোথায়? ১+২
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেল রচিত এবং অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত অনূদিত ‘অদল বদল’ গল্পে ছেলে দুটি বলতে দুই অন্তরঙ্গ বন্ধু অমৃত ও ইসাবকে বোঝানো হয়েছে।
আলোচ্য দুই বন্ধুর আচার-আচরণ, পোশাক পরিচ্ছদ ইত্যাদির মধ্যে বহু মিল থাকলেও তফাত ছিল-
(১) সম্প্রদায়গত পরিচয়ে এবং (২) অমৃতের মা, বাবা ও তিন ভাই থাকলেও, বাবা ছাড়া ইসাবের আর কেউ ছিল না।
২. ” এতে দুজনেরই ভয় কেটে গেল”- দু’জন কে কে? কীভাবে তাদের ভয় কেটে গেল? ১+২
উদ্ধৃতাংশটি পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল-বদল’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।
গল্পে উল্লিখিত দুজন হল দুই বন্ধু অমৃত এবং ইসাব।
হোলির দিনে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামার পকেটের ছ-ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে যায়। ইসাবকে বাঁচাতে অমৃত তার সঙ্গে ইসাবের ছেঁড়া জামাটা অদল-বদল করে নেয়, কিন্তু মা-র বকার কথা ভেবে তারা ভয় পেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য হোলির দিন এমন একটু আধটু হয় ভেবে অমৃতের মা ওকে মাফ করে দিলেন। এতেই অমৃত-ইসাবের ভয় কেটে গেল।
৩. কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।”-কে কথাটি বলেছিল? কথাটি ব্যাখ্যা করো। ১+২
উত্তর: ‘অদল বদল’ গল্প থেকে নেওয়া প্রশ্নোদ্ভূত কথাটি বলেছিল অমৃত।
অমৃতের লাঞ্ছনার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে টা ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। তখন অমৃত ইসাবকে তার বাবার মারের হাত একে বাঁচাতে ইসাবের সঙ্গে নিজের জামা অদল বদল করে নেয়। এতে যদি অমৃতের বিপদ হয়-ইসাব এ কথা বললে অমৃত তার উত্তরে উক্তমন্তব্যটি করে। অমৃতের এই কথা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে মা-র স্নেহই যে-কোনো সন্তানের নিশ্চিন্ত আশ্রয় হতে পারে। ইসাবের মা না থাকায় সেই সুযোগ ছিল না।
৪. “ওঁর শান্ত গলা শুনে ওদের চিন্তা হলো”-‘ওঁর’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? শান্ত গলা শুনে চিন্তা হওয়ার কারণ কী? ১+২
উত্তর : উল্লিখিত অংশে ‘ওঁর’ বলতে ইসাবের বাবা হাসান পাঠানের কথা বলা হয়েছে।
▶ কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। অমৃত বুঝতে পারে, এর ফলে ইসাবকে বাবার কাছে মার খেতে হবে। তাই তাকে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সে নিজের জামাটি ইসাবের সঙ্গে পালটে নেয়। পাড়ার ছেলেরা এজন্য তাদের উদ্দেশ্যে ‘অদল-বদল’ বলে চিৎকার করতে থাকে। আর বাড়ির লোকের কাছে ব্যাপারটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে ইসাব-অমৃত তখন সেখান থেকে পালাতে থাকে। এই সময়েই দাওয়ায় খাটিয়ায় বসে হুঁকো খেতে ব্যস্ত ইসাবের বাবা তাদের দুজনকে নিজের কাছে ডাকেন। ইসাবরা ভয় পায় যে, তিনি হয়তো প্রকৃত ঘটনাটা জেনেও, শুধু ভালোবাসার ভান করছেন। ইসাবের বাবার শান্ত গলা শুনে তাই ওদের চিন্তা হয়েছিল।
৫. “উনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরলেন”-‘উনি’ কে? কেন অমৃতকে উনি জড়িয়ে ধরলেন? ১+২
উত্তর: ‘অদল বদল’ গল্পে ‘উনি’ বলতে ইসাবের বাবাকে বোঝানো হয়েছে। ▶ ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায়, ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত নিজের জামার সঙ্গে তার জামা বদলে নিয়েছিল। কারণ অমৃত বুঝেছিল তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছে কিন্তু ইসাবের মা নেই, তার রয়েছে শুধু বাবা। আড়াল থেকে অমৃতের মনের উদারতার এই পরিচয় পেয়ে আনন্দে ইসাবের বাবা অমৃতকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।
▶ ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায়, ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত নিজের জামার সঙ্গে তার জামা বদলে নিয়েছিল। কারণ অমৃত বুঝেছিল তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছে কিন্তু ইসাবের মা নেই, তার রয়েছে শুধু বাবা। আড়াল থেকে অমৃতের মনের উদারতার এই পরিচয় পেয়ে আনন্দে ইসাবের বাবা অমৃতকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।
৬. “অমৃতের মতো ছেলে পেলে আমি একুশজনকেও পালন করতে রাজি আছি।”—বক্তা কে? তাঁর এমন উক্তির কারণ কী?
বক্তা: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন ইসাবের বাবা হাসান পাঠান।
উক্তির কারণ: কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে গেলে, অমৃত নিজের নতুন জামাটি বন্ধুকে দিয়ে দেয়। অমৃত জানত তার মা তাকে বাবার মার থেকে বাঁচাবেন, কিন্তু মাতৃহীন ইসাবকে বাঁচানোর কেউ নেই। দুই বালকের এই অকৃত্রিম মায়া, সহমর্মিতা আর বন্ধুর জন্য অমৃতের এমন নিঃস্বার্থ ত্যাগের পরিচয় পেয়েই আবেগাপ্লুত হাসান পাঠান এই মন্তব্যটি করেছেন।
৭. “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।”—’ও’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? সে কাকে, কী শিখিয়েছিল? (১+২)
পরিচয়: আলোচ্য অংশে ‘ও’ বলতে গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র খুদে বালক অমৃতকে বোঝানো হয়েছে।
শিক্ষার বিষয়: অমৃত ইসাবের বাবা হাসান পাঠানকে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও প্রকৃত মানবিকতার পাঠ শিখিয়েছিল। বন্ধুর বিপদে নিজের নতুন পোশাক অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে অমৃত প্রমাণ করে দেয় যে, বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে হৃদয়ের টান অনেক বড়। নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ আর সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদহীন খাঁটি বন্ধুত্বের যে বিরল উদাহরণ অমৃত তৈরি করেছিল, তা হাসান পাঠানের জীবনদর্শনকে বদলে দিয়ে তাকে প্রকৃত সত্যের শিক্ষা দেয়।
৮. “গল্প শুনে তাদেরও বুক ভরে গেল।”—কোন গল্প? তা শুনে বুক ভরে যাওয়ার কারণ কী? (১+২)
উত্তর: গল্পের বিষয়: এখানে দুই অভিন্নহৃদয় বন্ধু অমৃত এবং ইসাবের অকৃত্রিম সম্প্রীতি ও তাদের জামা অদলবদলের আবেগঘন গল্পের কথা বলা হয়েছে।
বুক ভরে যাওয়ার কারণ: দুই বালকের এই ভালোবাসার গল্পে কোনো সাম্প্রদায়িকতা বা সংকীর্ণতা ছিল না। বন্ধুকে বাঁচাতে অমৃতের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ গ্রামবাসীর হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। কঠিন বাস্তব আর ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে দুই কিশোরের একে অপরকে আগলে রাখার এই মানবিক জয়গান শুনেই পাড়াপড়শিদের মন এক অনাবিল তৃপ্তি, শ্রদ্ধা ও গর্বে ভরে উঠেছিল।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর: প্রশ্নের মান -৫
১. “পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনে তাঁদেরও বুক ভরে গেল।” – কাদের ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে? পরস্পরের প্রতি তাদের ভালোবাসার পরিচয় দাও। ১+৪
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল-বদল’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি নেওয়া হয়েছে। এখানে অমৃত ও ইসাবের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।
অমৃত ও ইসাব দুই বন্ধুর পরস্পরের প্রতি অকৃত্রিম বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার আখ্যান হল ‘অদল-বদল’ গল্পটি। একই গ্রামে মুখোমুখি বাড়িতে অমৃত আর ইসাব একই সঙ্গে বড়ো হয়ে উঠেছে। তাদের মনের প্রকৃতিও একই রকম। হোলির দিন অমৃতকে একরকম জোর করে কালিয়া কুস্তি লড়তে বাধ্য করে এবং তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। ইসাব অমৃতের অপমানের প্রতিবাদে কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ে এবং কালিয়াকে পরাজিত করে। কিন্তু কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামার পকেটের ছ’ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে যায়। বাবার কাছে মার খাওয়ার আশঙ্কায় ইসাব ভীত হয়ে পড়ে। বন্ধুকে বাঁচাতে অমৃত নিজের নতুন জামার সঙ্গে ইসাবের জামা বদলে নেয়। এক্ষেত্রে অমৃত ইসাবের আপত্তি মেনে নেয়নি। কারণ অমৃত বুঝেছিল তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছে কিন্তু ইসাবের মা নেই। তাই বাবার হাতে মার খেলে ইসাবকে বাঁচানোর কেউ নেই। সমগ্র গল্পটিতে দুই বন্ধু জামা অদল-বদল করে একে অপরের প্রতি যে প্রগাঢ় বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছে, তাতে গ্রামপ্রধানসহ প্রতিবেশীরা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
২. “অমৃতর জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে। ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।”-অমৃতের কোন্ জবাব বক্তাকে বদলে দিয়েছিল? ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ২+৩
উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল-বদল’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি নেওয়া হয়েছে।
অমৃতের যে জবাব বক্তাকে বদলে দিয়েছিল:
কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে গেলে, অমৃত নিজের নতুন জামাটি বন্ধুকে দিয়ে দেয় এবং নিজে ইসাবের ছেঁড়া জামাটি পরে নেয়। এই অদলবদলের কারণ হিসেবে সে জানিয়েছিল যে, জামা ছেঁড়ার অপরাধে তার বাবা তাকে মারলে তার মা তাকে রক্ষা করবেন, কিন্তু মাতৃহীন ইসাবকে রক্ষা করার কেউ নেই। অমৃতের এই অকৃত্রিম ও যুক্তিপূর্ণ জবাব শুনেই বক্তা হাসান পাঠানের হৃদয় আমূল বদলে গিয়েছিল।
‘খাঁটি জিনিস’ বলতে যা বোঝানো হয়েছে:
এখানে ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কোনো বস্তুগত সম্পদ বা নতুন পোশাককে নয়, বরং মানুষের প্রতি মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, অমোঘ ত্যাগ এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদহীন সহমর্মিতাকে বোঝানো হয়েছে। নতুন জামার মায়া ত্যাগ করে বন্ধুকে বাবার মার থেকে বাঁচানোর যে ঝুঁকি অমৃত নিয়েছিল, তার মধ্যে মিশে ছিল প্রকৃত মনুষ্যত্ব। হাসান পাঠান বুঝতে পেরেছিলেন যে, একে অপরের দুঃখ ভাগ করে নেওয়া এবং বিপদে পরম মমতায় পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক বোধই হলো জীবনের শ্রেষ্ঠ ও খাঁটি সম্পদ।
