বাংলা ছাত্রছাত্রীদের পাশে সারাক্ষণ

সংলাপ|সংলাপ রচনা| sanglap rachona|সংলাপ রচনার খুঁটিনাটি | সংলাপ রচনা শিখুন সহজে | সংলাপ রচনার Tips | সংলাপ রচনার উদাহরণ | BanglaSahayak.com

সংলাপ রচনা :

সংলাপ রচনার দৃষ্টান্ত

সংলাপ কী ?

সহজে বলতে গেলে সংলাপ হল কিছু মানুষের কথাবার্তা। কথা তো আমরা সারাদিনই বলি বন্ধুদের সঙ্গে, টিচারদের সঙ্গে ,মোবাইলে তার সাথে- হ্যাঁ এগুলোই সংলাপ। সংলাপ হল কথোপকথন। ইংরেজিতে Dialogue.
দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে পারস্পরিক কথাবার্তাই হলো সংলাপ বা কথোপকথন। সংলাপের দ্বারা একটি বক্তব্য বিষয়কে সর্বসম্মুখে তুলে ধরা যেতে পারে । সেই কাজটি করতে গিয়ে সংলাপের উঠে আসে নানা প্রসঙ্গ সমস্ত কিছুই বিষয়টিকেে যথাযথভাবে প্রকাশের সহায়ক হওয়া চাই।
সংলাপ রচনা জন্য জরুরী কতকগুলি বিষয় :
(এক)
যে বিষয়ে সংলাপ রচনা করা হবে সে বিষয়টি সম্পর্কে প্রথমেই ভালোভাবে ভাবনা-চিন্তা করে নিয়ে তারপর রচনা কার্যে অগ্রসর হতে হবে।
(দুই)
বিষয় কেন্দ্রিক সংলাপের বিষয়ে যথাযথ উপস্থাপনা থাকবে তাছাড়া সমস্ত সংলাপের মধ্যে থাকবে একটি সুসংহত সামঞ্জস্যবোধ।
(তিন)
বিষয় অনুযায়ী চরিত্র সৃষ্টি করে সংলাপ রচনা করতে হবে। সংলাপের মধ্য দিয়ে চরিত্রের প্রকৃতি প্রতিফলিত হয় আবার চরিত্রের স্বরূপ বুঝে নিয়ে সে অনুযায়ী সংলাপ রচনার প্রয়োজন আছে। একজন বৃদ্ধের মুখে ছেলেমানুষের মতো সংলাপ ব্যবহারে তাকে উন্মাদ বলে মনে হতে পারে ঠিক সেরকমই শিশুর মুখে বৃদ্ধের মতো সংলাপ ব্যবহার হাস্যকর।
(চার)
দীর্ঘ বিবরণধর্মী সংলাপ রচনা পরিহার করতে হবে।
(পাঁচ)
সংলাপের ভাষা হবে সহজ,সরল,বোধগম্য, প্রাঞ্জল,সাবলীল ।
(ছয়)
বাক্য হবে সংক্ষিপ্ত এবং তাতে গতিময়তা থাকবে ।
(সাত)
আয়তনের দিক থেকে সংলাপকে দীর্ঘায়িত না করে যথাযথ করতে হবে।
(আট)
সংলাপ হবে আন্তরিক, বুদ্ধিদীপ্ত।
(নয়)
পূর্ববর্তী সংলাপের সঙ্গে পরবর্তী সংলাপের যোগসূত্র অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।
(দশ)
সংলাপ রচনার ক্ষেত্রে যথাযথ যতি ও ছেদ চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে।

সংলাপ রচনার দৃষ্টান্ত :

১. নারী স্বাধীনতা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
(মাধ্যমিক পরীক্ষা : ২০১৭)

উত্তর:

অঙ্কিতা : মাধ্যমিক পাশ করার পর তুই তো উচ্চমাধ্যমিক পড়বি ? আমার ভাই এই মাধ্যমিকেই পড়াশুনো থমকে যাবে ।

নন্দিতা : দুঃখ করার কিছু নেই । আমারও তো এখন সেই একই অবস্থা । মা-বাবা এখন থেকেই সে কথা জানিয়ে দিয়েছেন ।

অঙ্কিতা : স্বাধীনতা শব্দের অর্থ শুধুমাত্র আকারেই বেড়েছে । নারীর ক্ষেত্রে তা বেশির ভাগ সময় সে সবের কোনো অর্থই নেই ।

নন্দিতা : বলতো ! এই পড়াশুনা নিয়ে কতটা এগুতে পারি আমরা ।

অঙ্কিতা : আমাদের বাবা-মাদের বোঝাতেই হবে । আর তাদের মাথা থেকে সরাতে হবে তাড়াতাড়ি মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার চিন্তা ভাবনা ।

নন্দিতা : মনে নেই আবার, সে সব কথা মনের মধ্যে গেঁথে আছে । সত্যিকারের নারী স্বাধীনতার হদিস তো ওখানেই পেয়েছিলাম ।

অঙ্কিতা : আর্থিক স্বাধীনতা ছাড়া নারী স্বাধীনতার কোনো অর্থই হয় না । অতএব এবার আমাদের শপথ নিতে হবে, যেমন করেই হোক পড়াশুনোটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে ।

২. কুসংস্কার প্রতিরোধে বিজ্ঞানমনস্কতা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

(মাধ্যমিক পরীক্ষা -২০১৮)

উ:

আকাশ: কিরে আবির, হাসপাতালের সামনে আজ খুব ভিড় দেখলাম।

আবির: আরে একজন লোককে সাপে কামড়ে ছিল-লোকটি মারা গিয়েছে বলে হাসপাতালে ভাঙচুড় হল।

আকাশ: কেন চিকিৎসা কি ঠিকঠাক হয়নি।

আবির: শুনলাম তো লোকটাকে ওঝার কাছে একদিন ফেলে রেখেছিলা ।

আকাশ: তাহলে আর রুগি বাঁচবে কী করে।

আবির : আমাদের দেশের এই হল মুশকিল। মানুষ এখনও সচেতন হল না। কুসংস্কার একেবারে মনে বাসা বেঁধে আছে।

আকাশ: কত মৃত্যু আরও যে অপেক্ষা করে আছে। মানুষ আর কবে বুঝবে।

আবির: তুই ঠিকই বলেছিস। আসলে বিজ্ঞান দিয়ে চিন্তা না করলে আমরা এসব অন্ধকারের মধ্যেই থেকে যাব।

আকাশ: শুধু ওঝা বা কবিরাজের কাছে যাওয়া নয় । আরও কত কুসংস্কার মানুষের মনে বাসা বেঁধে আছে। কালো বিড়ালে রাস্তা কাটা, হাঁচি, তাবিজ, কবজ, ডাইনি ইত্যাদি।

আবির: এই কুসংস্কারগুলো দূর করতে হলে আমাদের আসলে কী করা উচিত?

আকাশ: আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে। কোনো কিছুকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে বিচার করা। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং কুসংস্কারের পেছনের আসল কারণগুলো মানুষকে বোঝাতে হবে।

৩. বৃক্ষরোপণ-উপযোগিতা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো । (মাধ্যমিক পরীক্ষা -২০১৯)

উঃ-

প্রিয়ম : দেখলি, আমাদের স্কুলের সামনে এত বড়ো একটা বকুল গাছ কেটে ফেলা হল । শুনলাম ওখানে ফ্ল্যাট বানানো হবে ।

সায়ন : আর বলিস না ! মনটা এত খারাপ লাগছে, যে ওদিকে আর তাকাতেই পারছি না । সেই কোন ছোটবেলায় প্রথম স্কুলে আসার দিনটা থেকে গাছটার সঙ্গে বন্ধুত্ব, চেনাশোনা । মনে আছে, ছুটির পরে ওই বিশাল গাছটার নীচে বাঁধানো বেদিটায় চড়ে কত খেলেছি ।

প্রিয়ম : সভ্যতার গর্বে উন্মত্ত মানুষ যেন ভুলেই গিয়েছে গাছের অবদান । নগরায়ণের এই হামলে পড়া নেশায় তরাই থেকে সুন্দরবন— সর্বত্রই চলেছে অরণ্যনিধনের এই যজ্ঞ ।

সায়ন : কেউ একবার অন্তত এটাও ভেবে দেখবে যে, এতে ক্ষতি আখেরে নিজেদেরই । এই ভয়ানক লোভে তো মানুষের নিজের সভ্যতাকেই ধ্বংস করছে । পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে, মেরুপ্রদেশের বরফ গলে যাচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে পৃথিবীর জল স্তর, নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য

প্রিয়ম : শুধু তাই নয়, তুই কি জানিস, বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের আয়তনের তুলনায় ভূভাগের পরিমাণ যখন ৩৫ শতাংশের নীচে নেমে যাবে, তখনই সেই দেশ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে ।

সায়ন : আসলে কী বল তো, ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’— এই বাক্যটিকে নিছক স্লোগান নয়, জীবনযাপনের অনিবার্য শর্ত করে তুলতে হবে । নাহলে এই ভয়ানক ধ্বংসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না ।

৪. মাধ্যমিকের পর কী বিষয় নিয়ে পড়বে এ বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

(মাধ্যমিক পরীক্ষা -২০২০)

বিভাস : কী রে পরেশ, এইতো মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলি, বই-খাতা নিয়ে কোথায় চললি?

পরেশ : টিউশনে যাচ্ছি। অঙ্কটা পড়তে শুরু করলাম।

বিভাস: ও,তার মানে তুই সাইন্স নিয়ে পড়বি ?

পরেশ: হ্যাঁ, আমি যেহেতু ডাক্তার হতে চাই তাই সায়েন্স নিয়েই পড়তে হবে। তুই কী নিয়ে পড়তে চাস?

বিভাস : আমি আর্টস নিয়ে পড়বো। তুই তো জানিস আমার ইতিহাস পড়তে খুব ভালো লাগে।

পরেশ : তাছাড়া তুই তো শিক্ষকতা করতে চাস? স্কুল টিচার না কলেজের অধ্যাপক কী হতে চাস?

বিভাস: ইতিহাস অনার্স এবং মাস্টার ডিগ্রি করার ইচ্ছে আছে। তারপর এসএসসি ,সিএসসি দুটোই দেব। যেকোনো একটা পেলেই হবে।

পরেশ : ঠিক আছে ,এই নিয়ে পরে কথা হবে এখন পড়ে আসি।

বিভাস: হ্যাঁ, আয়।পরে কথা হবে।

৫. মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভালো-মন্দ নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো। (মাধ্যমিক -২০২৪)

আকাশ: কিরে নীল, সবসময় ফোনে কী করিস?

নীল: ইউটিউবে একটা পড়া বুঝছিলাম।

আকাশ: মোবাইলটা তো এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।

নীল: ঠিক বলেছিস। ভাব তো, এই মোবাইল আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় কী বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে! ই-মেল বা মেসেজে মুহূর্তেই বার্তা পাঠানো যায়। শুধু তাই নয়, বিনোদনের সব উপকরণ এখন হাতের মুঠোয়।

আকাশ: একদম! এখন তো আর লাইনে দাঁড়িয়ে বিল দিতে হয় না। অনলাইন ব্যবস্থা আর হোম ব্যাঙ্কিংয়ের দৌলতে বাড়ি বসেই সব কাজ হচ্ছে। এমনকি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের সাহায্য নেওয়া কত সহজ।

নীল: সুবিধার পাশাপাশি এর অন্ধকার দিকও কিন্তু আছে। বিশেষ করে আমাদের মতো ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অত্যধিক আসক্তি তৈরি হচ্ছে, যা পড়াশোনার ক্ষতি করছে।

আকাশ: ঠিক তাই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকায় চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। রাস্তায় অসতর্কভাবে ফোন ব্যবহারের ফলে দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।

নীল: আর প্রযুক্তিতে অনভ্যন্ত মানুষরা তো প্রায়ই অনলাইন প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তাই আমার মনে হয়, প্রযুক্তিকে ভালো কাজে ব্যবহার করা উচিত, এর দাস হওয়া ঠিক নয়।

৬. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে দুই বন্ধু সুমিত ও রাহুলের মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো। (মাধ্যমিক -২০২৫)

সুমিত: বাজারে যাওয়া এখন রীতিমতো ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে রে রাহুল! সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া।

রাহুল: ঠিক বলেছিস। চাল, ডাল, আটা থেকে শুরু করে নুন-তেল—সবকিছুর দাম যেভাবে দিন দিন বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এমনকি জীবনদায়ী ওষুধের দামও এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সুমিত: শাকসবজির বাজারে তো আগুন! আমার মনে হয়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কালোবাজারি আর মজুতদারির কারণেই অল্প সময়ের ব্যবধানে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। সাধারণ পোশাক কিনতেও এখন অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।

রাহুল: সরকার যদি বিলাসবহুল দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণ করত, তবে নিম্নবিত্তরা একটু স্বস্তি পেত। এখন সরকারি কড়া পদক্ষেপ নেওয়া ভীষণ জরুরি।

সুমিত: একদম ঠিক। বাজার তদারকি আর সঠিক বণ্টন ব্যবস্থা ছাড়া এই গগনস্পর্শী দাম কমানো সম্ভব নয়। নয়তো সাধারণ মানুষ খাবে কী?

৭. পথ নিরাপত্তা এবং ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।

অভীক: আজকের খবরের কাগজটা দেখেছিস সায়ন? আবার সেই একই ঘটনা—বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে বড়সড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।

সায়ন: হ্যাঁ রে অভীক, প্রতিদিন এই একই খবর। আজকাল চালকরা যেন গতির নেশায় মেতেছে। এই অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানোর ফলেই অ্যাকসিডেন্ট এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভীক: শুধু চালকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই, মানুষের সচেতনতারও খুব অভাব। অনেকেই তাড়াহুড়ো করে নিয়ম না মেনে রাস্তা পারাপার করে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সায়ন: ঠিক বলেছিস। পথচলতি মানুষের উচিত সবসময় জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করা। আর ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা ।

অভীক: ট্রাফিক পুলিশ সতর্ক থাকলেও সাধারণ জনগণ এবং চালকরা সচেতন না হলে এই মৃত্যুমিছিল থামানো সম্ভব নয়।

সায়ন : স্কুল-কলেজে, চৌরাস্তার মোড়ে পথ নিরাপত্তা নিয়ে আরও প্রচার চালানো দরকার।

সায়ন: একদম। ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’—এই মন্ত্রটা আমাদের কেবল মুখে বললে হবে না, বাস্তবেও পালন করতে হবে।

৮. প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো। (মাধ্যমিক -২০২৩)

সুজয়: কিরে অভীক, হাতে অতগুলো প্লাস্টিকের প্যাকেট কেন? আমরা কি কোনোভাবেই প্লাস্টিক মুক্ত হতে পারব না?

অভীক: কী করব বল, বাজারে গেলেই দোকানদাররা প্লাস্টিকে জিনিস দেয়। এর দাম খুব কম আর বহন করতে সুবিধা, তাই বাজারে এখন প্লাস্টিক ব্যবহারের রমরমা।

সুজয়: সুবিধা থাকলেও এর ভয়াবহতা অনেক বেশি। এই প্লাস্টিক কখনো মাটিতে মিশে যায় না, যা মারাত্মক প্লাস্টিক দূষণ ঘটায়। ড্রেন জ্যাম হওয়া থেকে শুরু করে মাটির উর্বরতা নষ্ট করা—সবই এর ক্ষতিকর প্রভাব।

অভীক: তুই ঠিকই বলেছিস। কিন্তু প্লাস্টিকের সস্তা বিকল্প কী হতে পারে?

সুজয়: কেন, আমরা অনায়াসেই প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ, কাপড়ের থলে বা কাগজের ঠোঙা ব্যবহার করতে পারি। একটু সচেতন হলেই এটা সম্ভব।

অভীক: একদম। আমার মনে হয় পাড়ায় পাড়ায় প্লাস্টিক বর্জন নিয়ে সচেতনতামূলক পথনাটক আয়োজন করা দরকার।

সুজয়: ঠিক। মানুষের মনে ভীতি ও সচেতনতা দুটোই আনা জরুরি।

অভীক: খবরে দেখলাম কলকাতার একটি স্কুলে পরিবেশকে সুস্থ ও সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য প্লাস্টিক বর্জন বিষয়ে সেমিনার করছে।

সুজয়: আমাদের মতো স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদেরই দায়িত্ব নিতে হবে প্লাস্টিক বর্জন পরিবেশকে সুস্থ ও সুন্দর করে গড়ে তোলার ।

৯. দেশভ্রমণের উপযোগিতা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

অনিমেষ: কিরে রাজীব, পূজার ছুটিতে কোথা থেকে ঘুরে এলি ?

রাজীব: আমরা পুরী গিয়েছিলাম।

রাজীব: একঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তি পেতে ভ্রমণের কোনো বিকল্প হয় না। ব্যক্তিত্ব ও মনের বিকাশে দেশভ্রমণ অপরিহার্য।

অনিমেষ: একদম ঠিক। শুধু মন ভালো করাই নয়, ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা অজানাকে জানতে পারি। বই পড়ে যা শেখা যায় না, সরাসরি সেই জায়গায় গিয়ে তার ইতিহাস ও ভৌগোলিক পরিবেশ দেখলে জ্ঞান অনেক বেশি সমৃদ্ধ হয়।

রাজীব: ঠিক তাই। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি আর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে একটা বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়। মোট কথা আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ে।

অনিমেষ: আর জানিস তো, ভ্রমণ আমাদের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরতে এবং নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে শেখায়।

রাজীব: ঠিক বলেছিস। আসলে ভ্রমণ আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় আর সতেজ মনে নতুন করে কাজ করার শক্তি জোগায়।

অনিমেষ: মাধ্যমিকের পর এবার পাহাড় না সমুদ্র—কোথায় যাবি ?

রাজীব: আমরা কাশ্মীর যাব ঠিক করেছি ।

অনিমেষ: ভালোই হবে, একসঙ্গে যাওয়া যাবে।

১০. পরিবেশ দূষণ ও বর্তমান সভ্যতার চরম সংকট নিয়ে দুই বন্ধু মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

বিজয় : বাবাকে নিয়ে কোথায় গিয়েছিলি মিলন ?

মিলন : ডাক্তারবাবুর কাছে। আজ কদিন ধরে বাবা কানে ভালো শুনতে পাচ্ছেন না।

বিজয়: শব্দের যে অত্যাচার চলছে তাতে সকলের এই সমস্যা হতে পারে। কিন্তু আমরা কিছুতেই এই শব্দ দূষণ বন্ধ করতে পারছি না।

মিলন : শুধু কি শব্দ দূষণ ? প্রতি মুহূর্তে আরো কত রকমের দূষণ ঘটে চলেছে।

বিজয়: ঠিকই বলেছিস পৃথিবীর বায়ু , জল, মাটি কোন কিছুই ভালো নেই। মনে হচ্ছে আমাদের এই আধুনিক সভ্যতা এক চরম সংকটের মুখে।

মিলন : এই সংকটের মূল কারণ হলো লাগামহীন ,নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন। তার সঙ্গে কলকারখানা , চিমনির বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করছে।

বিজয়: প্লাস্টিক বর্জ্য আর রাসায়নিকের কারণে জল এবং মাটিও আজ বিষাক্ত। হিমবাহ গলছে, সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে—এগুলো তো সভ্যতার বিনাশেরই ইঙ্গিত।

মিলন: আসলে বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় আমরা নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছি। পরিবেশ রক্ষা না করলে এই উন্নত প্রযুক্তি আমাদের বাঁচাতে পারবে না।

বিজয়: একদম। এখন দরকার সম্মিলিত সচেতনতা। দূষণ কমিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে না চললে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক বাস-অযোগ্য পৃথিবী পাবে।

মিলন: ঠিকই বলেছিস, প্রকৃতি বাঁচলে তবেই সভ্যতা টিকবে।

১১. বইমেলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।

বাপ্পা : কী খবর রাহুল , কেমন আছিস?

রাহুল: এই তো ভালো, তোর খবর কী? কাল নাকি বইমেলায় গিয়েছিলি?

বাপ্পা : হ্যাঁ, গিয়েছিলাম। আমি তো সারা বছরই এই মেলার অপেক্ষায় থাকি।

রাহুল: হস্তশিল্প মেলায় যেতে বললাম গেলি না। এখন একা একাই বইমেলায় চলে গেলি।

বাপ্পা : তুই তো জানিস, আমি শৈশব থেকেই বইপাগল, বইয়ে ডুব দিয়ে আমি পার করতে পারি ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

রাহুল : বর্তমানে দেশের এরূপ অসহিষ্ণু ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বইমেলা আয়োজনের যৌক্তিকতা কতটুকু?

বাপ্পা : আসলে আমাদের এরূপ অবস্থা থেকে উত্তরণে একমাত্র সহায়ক হতে পারে বই। কারণ বই মানুষকে সুপথে চালিত করে, মানুষের চিন্তার প্রসার ঘটায়।

রাহুল : বইমেলায় বই বিক্রি ছাড়া অন্য কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কী?

বাপ্পা : মেলায় বই বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেমন গান, কবিতা আবৃত্তি, প্রবন্ধ পাঠ, ক্যুইজ,বক্তৃতা, নতুন বই প্রকাশ প্রভৃতি।

রাহুল : মেলা থেকে কী কী বই কিনলি?

বাপ্পা : জয় গোস্বামী,সমরেশ মজুমদার, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ সাহিত্যিকদের বেশ কয়েকটি বই কিনেছি। ।

রাহুল :এরপর গেলে আমাকেও নিয়ে যাস।

বাপ্পা : নিশ্চয়ই যাবি। আমরা দুই বন্ধু একসঙ্গে বইমেলায় গেলে অনেক মজা হবে

১২. অরণ্য সংরক্ষণের উপযোগিতা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ করো।

উত্তর : নিজের চেষ্টা করো ।

১৩. ‘সেলফির নেশা সর্বনাশা’- এ বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা কর।

উত্তর : নিজের চেষ্টা করো।

১৪. অনলাইন ক্লাসের সুবিধা অসুবিধা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক আলোচনা কর।

উত্তর: নিজেরা চেষ্টা করো।

১৫. রক্তদানের উপযোগিতা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা কর।

উত্তর : নিজেরা চেষ্টা করো।

PDF ডাউনলোড করার জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন

সংলাপ রচনা PDF

Comments are closed.

Scroll to Top