লেখক পরিচিত:
শ্রীপান্থ (নিখিল সরকার) :
জন্ম:১৯৩২ মৃত্যু : ২০০৪
শ্রীপান্থ (নিখিল সরকার) :
জন্ম:১৯৩২ মৃত্যু : ২০০৪
৬. “বাবু কুইল ড্রাইভারস”- কথাটি বলতেন—-
৮. কুইল কোন কলমের ইংরেজি নাম-
৯. পন্ডিত মশাইয়ের কলম খ্যাত ছিল –
১০. দারোগাবাবুর কলম গোঁজা ছিল—
১১. কলমের দুনিয়ায় সত্যিকারের বিপ্লব ঘটায় –
১২. ফাউন্টেন পেনের জনক কে?
১৩. লেখক ফাউন্টেন পেন কিনতে কোথায় গেছিলেন?
১৪. ঝরনা কলম কিনতে গিয়ে লেখক কোন কলম কিনেছিলেন?
১৫. ডজন দুয়েক ফাউন্টেন কলম সংগ্রহ করে লেখক কে দেখিয়েছিলেন
১৬. আদিতে ফাউন্টেন পেনের নাম ছিল–
১৭. দোয়াত কালির কী কী নাম আমরা পাই?
১৮. “লাঠি তোমার দিন ফুরাইয়াছে”- বলেছিলেন-
১৯. তলোয়ারের চেয়ে শক্তিধর বলা হয়–
২০. শেষ পর্যন্ত নিবের কলমের মান মর্যাদা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন —
২১. একটি কলমের দাম দাম ধার্য্য হয়েছে _________ পাউন্ড —
২২. চিনারা অবশ্য চিরকালই লিখে আসছে-উ: তুলিতে
২৩. সোনার দোয়াত কলম ব্যবহার করতেন—
২৪. যারা ওস্তাদ কলমবাজ তাদের বলা হতো —
২৫. চারখণ্ড রামায়ণ কপি করে অষ্টাদশ শতকে এক জন লেখক পেয়েছিলেন—
২৬. ধরে ধরে টাইপরাইটারে লিখে গেছেন—
২৭. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রশিল্পী হিসেবে সূচনা হয়েছিল—
২৮. এক সাহেব লিখে গেছেন বত্রিশ হাজার অক্ষর লেখানো যেত—
(খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১১। আদিতে ফাউন্টেন পেনের নাম ছিল
[মাধ্যমিক-২০২৩]
ক) ফাউন্টেন পেন
খ) রিজার্ভার পেন
গ) ঝরনা কলম
ঘ) পার্কার পেন
১২। সম্ভবত শেষ পর্যন্ত নিবের কলমের মান মর্যাদা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন একমাত্র
[মাধ্যমিক-২০২৩]
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
খ) শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
গ) ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
ঘ) সত্যজিৎ রায়
১৩। খাগের কলম কখন দেখা যায়?
[মাধ্যমিক-২০২৪]
ক) হাতেখড়ির সময়
খ) সরস্বতী পূজার সময়
গ) হালখাতার সময়
ঘ) নববর্ষের সময়
১৪। সম্ভবত শেষ পর্যন্ত নিবের কলমের মান মর্যাদা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন একমাত্র
[মাধ্যমিক-২০২৪]
ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
গ) নিখিল সরকার
ঘ) সত্যজিৎ রায়
১৫. বিখ্যাত লেখক শৈলজানন্দের ফাউন্টেন পেনের সংগ্রহ ছিল
[মাধ্যমিক-২০২৫]
ক) এক ডজন
গ) তিন ডজন
খ) দুই ডজন
ঘ) ২৫টি
১৬. “প্রাচীন সুমেরিয়ান বা ফিনিসিয়ান” ফিনিসিয়ানদের লেখনী কী ছিল?
[মাধ্যমিক-২০২৫]
ক) নল-খাগড়া
গ) ব্রোঞ্জের শলাকা
খ) বাঁশের কঞ্চি
ঘ) হাড়
মকটেস্ট দেওয়ার জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন
হারিয়ে যাওয়া কালি কলম
উঃ– ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ -এ বর্ণিত সবচেয়ে দামি কলমটির দাম আড়াই হাজার পাউন্ড ।
২. “আমরা ফেরার পথে কোনও পুকুরে ফেলে দিয়ে আসতাম ।” — বক্তা কেন তা পুকুরে ফেলে দিতেন ? [মাধ্যমিক-২০১৭]
উঃ– প্রশ্নের উদ্ধৃত অংশের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ হোমটাস্কের জন্য ব্যবহৃত কলাপাতা পুকুরে ফেলে দিয়ে আসতেন কারণ তা গোরুতে খেয়ে নিলে অমঙ্গল হবে ।
৩. দু-জন সাহিত্যিকের নাম করো যাঁদের নেশা ছিল ফাউন্টেন পেন সংগ্রহ করা । [মাধ্যমিক-২০১৮]
উঃ– শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় হলেন সেই দুজন সাহিত্যিক, যাঁদের নেশা ছিল ফাউন্টেন পেন সংগ্রহ করা।
৪. লেখক শ্রীপান্থ ছোটোবেলায় কীসে ‘হোম-টাস্ক’ করতেন ? [মাধ্যমিক-২০১৮]
উঃ– কলাপাতাকে কাগজের মাপে কেটে হোম-টাস্ক করতেন ।
৫. “সোনার দোয়াত কলম যে সত্যি হতো” তা লেখক কীভাবে জেনেছিলেন ? [মাধ্যমিক-২০১৯]
উঃ– সোনার দোয়াত কলম যে সত্যিই হতো তা লেখক জেনেছিলেন সুভো ঠাকুরের বিখ্যাত দোয়াত সংগ্রহ দেখতে গিয়ে
১২) ‘পুকুরে তা ফেলে দিয়ে আসতাম’ – কী কেন পুকুরে ফেলে দিয়ে আসতে হত?
১৩) ‘তাই নিয়ে আমাদের প্রথম লেখালেখি’ – কী নিয়ে লেখালেখি?
১৪) লর্ড কার্জন বাঙালি সাংবাদিকদের ইংরাজি বলার বিষয়ে কী বলতেন?
১৫) ” বাস , ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেলাম।” – ভ্যাবাচাকা খাওয়ার কারণ কী ?
১৬) ‘সমানি সম শীর্ষাণি সনানি বিরলানি চ’ – অর্থ লেখো।
১৭) অষ্টাদশ শতকে চার খণ্ড রামায়ণ কপি করে এক জন লেখক কী কী পেতেন?
১৮) টাইপ রাইটারে লিখেছেন এমন দু’ জন লেখকের নাম উল্লেখ করো।
১৯) নিবের কলম কীভাবে ঘাতকের ভূমিকা নিয়েছিল?
২০)” কিন্তু সে সব ফাঁকি মাত্র।”- কীসের কথা বলা হয়েছে ?
“সব মিলিয়ে লেখালেখি রীতিমতো ছোটোখাটো একটা অনুষ্ঠান।”- লেখালেখি ব্যাপারটিকে একটা ছোটাঘাট অনুষ্ঠান বলা হয়েছে কেন বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ শীর্ষক প্রবন্ধে কালি-কলমের প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা বলতে গিয়ে তাঁর শৈশব থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত কালি কলমের বিবর্তন বা ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেছেন। সেই প্রসঙ্গে নানান শ্রেণির কলমের ব্যবহার, কালি ও কলম তৈরি, লেখার পাত্র, দোয়াত ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
প্রথমদিকে লেখক লেখার জন্য নিজের হাতে তৈরি করা বাঁশের কঞ্চির কলম ব্যবহার করতেন। এই কলমে। কালিও নিজের হাতে তৈরি করতেন। কঞ্চির কলমের মুখটা সূঁচালো করে কেটে মাঝখান দিয়ে কিছুটা চিরে দিতেন। দোয়াতের কালিতে কঞ্চির কলম, খাগ বা পালকের কলম ডুবিয়ে লিখতেন। এই কালি তৈরির জন বাড়ির রান্নার কড়াই-এর তলার ভুশোকালি লাউপাতা দিয়ে ঘষে তুলে পাথরের বাটিতে জলে গুলে নিতেন। আবার এই কালিকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আতপ চাল ভেজে গুঁড়ো করে মেশাতেন এবং হরিতকী ঘষে গোড়া খুন্তির ছ্যাঁকা দিতেন। এরপর ন্যাকড়ায় ছেঁকে মাটির দোয়াতে ঢেলে প্রস্তুত হতো কালি। শহরের স্কুলে ভর্তির পা লেখকের হাতে আসে ফাউন্টেন পেন। তখন কালি-ট্যাবলেট বা বড়ি গুলে দিয়ে কাঁচের দোয়াতে কালি তৈর করতেন এবং পরে পরে কাজল কালি, সুলেখা কালিও দোকানে পেতেন। লেখা শুকোনোর জন্য বালি বারটি পেপার যেমন অতীত তেমনি অতীত ফাউন্টেন পেনও। এইজন্য লেখালেখির এই ব্যাপারটিকে লেখকের ছোটখাটো একটা অনুষ্ঠান বলেই মনে হতো।
উঃ উদ্ধৃতাংশটি ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
বক্তা কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের এক দামি দোকানে ফাউন্টেন পেন কিনতে গিয়েছিলেন।
লেখক তাঁর জীবনের প্রথম ফাউন্টেন পেন কেনার ঘটনাটি স্মৃতিতে সযত্নে তুলে রেখেছেন। ঘটনাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বেশ কয়েক বছর পরের। লেখক তো গেছেন তাঁর বহু ঈপ্সিত একটি ফাউন্টেন পেন কিনতে। প্রথমেই ধাক্কা খেলেন দোকানির প্রশ্নে। নানা ধরনের পেনের নাম ও সেই সঙ্গে সেই পেনগুলির দামও বলতে লাগলেন দোকানি। যেমন পার্কার, শেফার্ড, ওয়াটারম্যান, সোয়ান, পাইলট ইত্যাদি। এত দামি দামি পেনের নাম শুনে লেখক ‘ভ্যাবাচ্যাকা’ খেয়ে যান। এই সমস্ত নামিদামী পেনের সম্ভার দেখালেও দোকানির বুঝতে অসুবিধা হয় না যে ক্রেতার পকেটের অবস্থা মোটেও সুবিধের নয়। এবার দোকানি একটা জাপানি পাইলট পেন দেখান। পেনটির দাম কম হলেও সেটি যে বেশ মজবুত, ‘তা বোঝাতে -দোকানি পেনের খাপটি খুলে কাঠের বোর্ডের উপর ছুঁড়ে দিলে পেনের নিটি ভেঙে যায়নি। লেখক সেদিন ‘জাদু-পাইলট’ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। পরে নামি দামি অনেক ফাউন্টেন পেনের ভিড়েও তিনি অনেক দিন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছিলেন সেই ‘জাপানি পাইলটকে’।
৬. “আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে।”- ‘সবই’-র পরিচয় দাও। উল্লিখিত বিষয়টি কীভাবে আজ ‘অবলুপ্তির পথে’ আলোচনা করো।
উঃ ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম’ প্রবন্ধে লেখক শ্রীপান্থ নানা ধরনের কলমের কথা লিখেছেন। একসময় কলম তৈরি হত সরু বাঁশের কঞ্চি কেটে। তারও বহুকাল আগে, ‘জিশু’ খ্রিস্টের জন্মের আগে হাড়, নল খাগড়া প্রভৃতি দিয়ে কলম বানানো হত। তারপরে এল স্টাইলাস বা ব্রোঞ্জের শলাকা দিয়ে তৈরি কলম। এছাড়া চিনারা চিরকালই তুলিতে লেখে। আর সরস্বতী পুজোয় দেখা যায় খাগের কলম। একসময় পাখির পালকের মুখ সরু করে তৈরি হত ‘কুইল’। আধুনিকযুগে সস্তা ও সহজলভ্য কলমকে বলে ডট-পেন বা বল পেন। তবে কলমের দুনিয়ায় বিপ্লব এনেছিল ফাউন্টেন পেন বা ঝরনা কলম। এভাবেই কলমের বিবর্তন ও যাত্রাপথ তুলে ধরেছেন লেখক। কাল প্রবাহে কলমের অবলুপ্তিতে লেখক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। একসময়ে কলমের সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক ছিল অবিচ্ছেদ্য। কম্পিউটারের কল্যাণে কলমের অবলুপ্তিতে লেখক বিপন্ন বোধ করেছেন। বাঁশের কলম, খাগের কলম, ফাউন্টেন পেন সবই আজ অবলুপ্তির পথে। কম্পিউটারের বিশ্বব্যাপী প্রভাবে সর্বপ্রকার কলমের অবলুপ্তির কথা ভেবেই লেখক একইসঙ্গে আশ্চর্য ও আতঙ্কিত হয়েছেন।

