ছুটি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ছুটি গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর | একাদশ শ্রেণি দ্বিতীয় সেমিস্টার | XI – Sem-2 | Chuti golper prashno o uttar

✦ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ✦

‘ছুটি’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sem-2 পাঠ্যবই • সম্পূর্ণ সিলেবাস নোটস ভেরিফায়েড পাঠ্যক্রম

HS Bangla Sahayak, Sem-4 | উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সহায়ক চতুর্থ সেমিস্টার

📚 উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষায় সেরা প্রস্তুতির সঙ্গী 📔 উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সহায়ক চতুর্থ সেমিস্টার | ডিজিটাল ই-বুক...

📚 ১০টি প্রশ্নোত্তর✍️ ৫ নম্বরের উপযোগী🎯 পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত
💡 পড়ার কৌশল: প্রশ্নের ওপর ক্লিক বা ট্যাপ করলেই উত্তর খুলবে। প্রথমে নিজে লেখার চেষ্টা করো, তারপর উত্তর মিলিয়ে নাও।

১‘ছুটি’ গল্পে মামাবাড়িতে গিয়ে ফটিকের যে দুরবস্থা হয়েছিল তা নিজের ভাষায় লেখো।৫ নম্বর

ভূমিকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পে গ্রামের মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা ফটিককে কলকাতার মামাবাড়িতে চরম অনাদর ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছিল।

মামির অবহেলা

মামি ফটিককে সংসারের অতিরিক্ত বোঝা মনে করতেন। তার উপস্থিতিই তাঁর বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। সামান্য কারণেও তিনি তাকে তিরস্কার করতেন। ফলে মায়ের মতো স্নেহ ও আদর থেকে সে বঞ্চিত হয়। মামাতো ভাইদের সঙ্গেও তার আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি।

স্কুলের লাঞ্ছনা

পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকায় স্কুলে শিক্ষকের বকুনি ও মার ছিল তার নিত্যসঙ্গী। একদিন বই হারিয়ে ফেলায় শিক্ষক তাকে কঠোরভাবে প্রহার করেন। বাড়ি ফিরেও মামির কাছে সে তিরস্কৃত হয়।

প্রকৃতিহীন বন্দিজীবন

গ্রামের নদী, মাঠ ও বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার স্বাধীনতা ছেড়ে শহরের আবদ্ধ পরিবেশে সে হাঁপিয়ে ওঠে। কলকাতার ইট-কাঠের জীবনে সে নিজেকে বন্দি মনে করত। মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য সে প্রতিনিয়ত ব্যাকুল হয়ে থাকত।

অসুস্থতা ও পরিণতি

মামির বিরক্তির কারণ হতে না চেয়ে অসুস্থ শরীরেই সে একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। প্রবল জ্বরে ফটিককে ফিরিয়ে আনা হলে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

উপসংহার: এভাবে স্নেহহীনতা, নিঃসঙ্গতা, লাঞ্ছনা ও অসুস্থতার ভারে মামাবাড়িতে ফটিকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল।

২‘ছুটি’ গল্পে ফটিক চরিত্রের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা আলোচনা করো।৫ নম্বর

ভূমিকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ফটিক চক্রবর্তী। তার মধ্য দিয়ে লেখক কৈশোরের চঞ্চলতা, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও স্নেহের ক্ষুধা ফুটিয়ে তুলেছেন।

দুরন্ত ও নেতৃস্থানীয়

গ্রামে ফটিক ছিল সমবয়সি ছেলেদের দলনেতা। শালকাঠের গুঁড়ি গড়ানোর ঘটনায় তার নেতৃত্ব ও দুরন্তপনা ধরা পড়ে। ছোটো ভাই মাখনের সঙ্গে ঝগড়াতেও তার চঞ্চল স্বভাব প্রকাশ পায়।

স্বাধীনচেতা

নদী, মাঠ ও উন্মুক্ত প্রকৃতিই ছিল ফটিকের প্রিয়। তাই কলকাতার আবদ্ধ জীবনে সে কখনোই স্বচ্ছন্দ হতে পারেনি।

স্নেহকাতর ও সংবেদনশীল

বাইরে অবাধ্য মনে হলেও তার অন্তর ছিল কোমল। সে মায়ের স্নেহ চাইত, মামির কাছেও একটু আন্তরিকতা আশা করত। বারবার অবহেলিত হয়ে তার মন ভেঙে যায়।

আত্মমর্যাদাসম্পন্ন

তার আত্মসম্মানবোধ প্রখর ছিল। নিজেকে মামির বোঝা ভাবার অপমান সে সইতে পারেনি। তাই অসুস্থ শরীরেই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে।

মাতৃস্নেহের কাঙাল

মৃত্যুশয্যায় ‘মা’কে ডেকে বাড়ি ফেরার কথা বলাই তার গভীর মাতৃনির্ভরতার প্রমাণ। স্নেহহীনতা ও অসুস্থতার মধ্যেই তার জীবনের করুণ অবসান ঘটে।

উপসংহার: সুতরাং ফটিক কেবল দুরন্ত বালক নয়; সে ভালোবাসা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় ভরা এক সংবেদনশীল কিশোর, যার জীবনে স্নেহের অভাবই ট্র্যাজেডিকে আরও গভীর ও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

৩“মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।”—কোন্ প্রসঙ্গে এমন উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।২+৩=৫

প্রসঙ্গ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পের শেষাংশে মৃত্যুশয্যায় ফটিক প্রলাপের ঘোরে এই কথাগুলি বলে। তখন কলকাতায় তার মা এসে পৌঁছেছেন। মামাবাড়িতে অনাদর ও অবহেলায় কাটানো দিনগুলিতে সে বারবার মায়ের কাছে ফিরতে চেয়েছিল; সেই আকুল আকাঙ্ক্ষাই এখানে প্রকাশ পেয়েছে।

তাৎপর্য

উক্তিটিতে ফটিকের দীর্ঘদিনের বাড়ি ফেরার আকাঙ্ক্ষা এবং তার জীবনের করুণ পরিণতি একসঙ্গে ধরা পড়েছে। কলকাতার পরিবেশে সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনি। মামির তিরস্কার, স্কুলের লাঞ্ছনা ও অসুস্থতা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল। সে মায়ের কাছে গিয়ে স্নেহ ও আশ্রয় পেতে চেয়েছিল। মৃত্যুর মুহূর্তেও মা-ই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়।

‘ছুটি’ শব্দটি এখানে দ্বিবিধ ব্যঞ্জনাবহ। একদিকে এটি গৃহে প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে জীবনের সমস্ত দুঃখ, অপমান ও যন্ত্রণা থেকে চিরমুক্তি—অর্থাৎ মৃত্যুর প্রতীক। মামাবাড়ির বন্দিদশা থেকে মুক্তি ও মায়ের কোলে ফেরাই ছিল তার একমাত্র কামনা, অথচ সেই ছুটি এল মৃত্যুর হাত ধরে।

এই উক্তিতে রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছেন, স্নেহহীন সংসার ও অসংবেদনশীল সমাজ কিশোরের কোমল মনকে কতখানি আঘাত করতে পারে। ফটিকের মৃত্যু তাই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ছাড়িয়ে এক সামাজিক প্রশ্নও হয়ে ওঠে। উক্তিটি গল্পের নামকরণকেও সার্থক করেছে। এভাবে তার শেষ কথাটি পাঠকের হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করে।

৪“পৃথিবীর কোথাও সে ঠিক খাপ খাইতেছে না;”—‘সে’ কে? পৃথিবীর কোথাও তার খাপ না খাওয়ার কারণ কী?২+৩=৫

‘সে’-এর পরিচয়

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পে ‘সে’ বলতে তেরো-চোদ্দো বছরের কিশোর ফটিক চক্রবর্তীকে বোঝানো হয়েছে।

খাপ না খাওয়ার কারণ

ফটিকের বয়স তখন শৈশব ও যৌবনের সন্ধিক্ষণে। এই বয়সে ছেলেদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে; তাদের মধ্যে চঞ্চলতা, আবেগ, আত্মমর্যাদাবোধ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগে। কিন্তু বড়োরা অনেক সময় এই পরিবর্তন বুঝতে পারেন না।

লেখকের মতে, এই বয়সের ছেলে না থাকে শিশুর মতো আদরের পাত্র, না হয় পরিণত মানুষের মতো সম্মানের যোগ্য। তাই তার আচরণকে সবাই অবাধ্যতা বা ঔদ্ধত্য বলে মনে করে, এবং সে স্নেহ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হয়।

ফটিকের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। গ্রামে সে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াত, কিন্তু কলকাতার মামাবাড়িতে এসে একদিকে মামির অবহেলা, অন্যদিকে স্কুলের শাসন ও অপমান তাকে সইতে হয়। তার মনের কথা বোঝার মতো কেউ ছিল না। কৈশোরের এই টানাপোড়েনে ফটিক আরও একাকী হয়ে পড়ে। ফলে কোথাও সে নিজেকে আপন বলে অনুভব করতে পারেনি।

উপসংহার: এইভাবে কৈশোরের স্বাভাবিক মানসিক পরিবর্তন এবং চারপাশের মানুষের অসহিষ্ণুতা ও স্নেহের অভাবই ফটিকের পৃথিবীতে খাপ না খাওয়ার প্রধান কারণ। লেখক এখানে কিশোরমনের প্রতি বড়োদের উদাসীনতার ওপরই আলোকপাত করেছেন।

৫“বিধবা এ প্রস্তাবে সহজেই সম্মত হলেন।”—বিধবার কাছে কে, কী প্রস্তাব দেন? তিনি এ প্রস্তাবে কেন সম্মত হলেন?২+৩=৫

প্রস্তাবদাতা ও প্রস্তাব

‘ছুটি’ গল্পে বিধবা হলেন ফটিকের মা। তাঁর ভাই, ফটিকের মামা বিশ্বম্ভরবাবু, দীর্ঘদিন পশ্চিমে কাটিয়ে দেশে ফিরে এই প্রস্তাব দেন যে, তিনি ফটিককে কলকাতায় নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা শেখাবেন।

সম্মত হওয়ার কারণ

প্রথমত, ফটিক ছিল অত্যন্ত দুরন্ত, চঞ্চল ও অবাধ্য। পড়াশোনায় তার মন ছিল না। ছোটো ভাই মাখনের সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া-মারামারি হতো। ফলে মা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতেন।

দ্বিতীয়ত, ফটিকের দুষ্টুমিতে কোনো দিন মাখনের বড়ো অনিষ্ট হয়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কা তাঁর মনে ছিল। বিধবা মায়ের পক্ষে দুই ছেলেকে একা সামলানোও কঠিন ছিল।

তৃতীয়ত, বিশ্বম্ভরবাবু ফটিকের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন। কলকাতায় থাকলে ছেলের ভবিষ্যৎ উন্নত হবে বলে মা আশা করেছিলেন। ফলে ফটিকের শিক্ষার সুযোগ ও সংসারের অশান্তি কমার সম্ভাবনা ছিল। এসব ভেবে তিনি সহজেই সম্মত হন।

চতুর্থত, ভাইয়ের ওপর বোনের আস্থা ছিল। স্বামীহারা মা ভেবেছিলেন, বিশ্বম্ভরবাবুর স্নেহছায়ায় ফটিক নিরাপদে থাকবে। কিন্তু তাঁর এই সরল বিশ্বাস পরে নিষ্ঠুর ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়, কারণ মামাবাড়িতে ফটিক স্নেহের বদলে অবহেলাই পেয়েছিল।

উপসংহার: সুতরাং সন্তানের মঙ্গলচিন্তা ও সংসারের শান্তির আশাতেই বিধবা মা এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন।

৬“বিশ্বম্ভরবাবু প্রায় কোলে করিয়া তাহাকে অন্তঃপুরে লইয়া গেলেন।”—বিশ্বম্ভরবাবুর পরিচয় দাও। তিনি কাকে, কোন্ পরিস্থিতিতে অন্তঃপুরে নিয়ে যান তা আলোচনা করো।২+৩=৫

পরিচয়

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পে বিশ্বম্ভরবাবু ফটিকের মামা। তিনি কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন পশ্চিমে ছিলেন। দেশে ফিরে বিধবা বোন ও ভাগনেদের খোঁজ নিতে এসে তিনি ফটিককে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা শেখানোর দায়িত্ব নেন। তিনি স্নেহশীল, কর্তব্যপরায়ণ ও সহানুভূতিশীল মানুষ।

পরিস্থিতি

কলকাতায় ফটিক পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। একদিন বই হারিয়ে ফেলায় স্কুলে শিক্ষকের হাতে সে প্রহৃত হয় এবং বাড়ি ফিরে মামির তিরস্কার শোনে। এই অপমান ও মামির বিরক্তির কারণ হওয়ার যন্ত্রণায় অসুস্থ শরীরেই সে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে।

তাকে খুঁজে না পেয়ে বিশ্বম্ভরবাবু পুলিশে খবর দেন। সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে ফিরিয়ে আনে। তখন ফটিকের সারা শরীর ভেজা, গায়ে কাদা, আর প্রবল জ্বরে সে কাঁপছিল।

অন্তঃপুরে নিয়ে যাওয়া

ভাগনের এই শোচনীয় অবস্থা দেখে বিশ্বম্ভরবাবু গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও ব্যথিত হন। স্নেহ ও মমতার বশে তিনি তাকে প্রায় কোলে করে অন্তঃপুরে নিয়ে যান, যাতে অবিলম্বে তার সেবাযত্ন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়।

উপসংহার: এই ঘটনায় মামার আন্তরিক স্নেহ ও মানবিকতা প্রকাশ পেলেও, সেই স্নেহ ফটিকের কাছে পৌঁছতে বড়ো দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে ঘটনাটি গল্পের করুণ রসকে আরও গভীর করেছে।

৭“তখন তাহার চিত্ত অধীর হইয়া উঠিত।”—‘তখন’ বলতে কোন্ সময়ের কথা বলা হয়েছে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির চিত্ত অধীর হয়ে ওঠার কারণ কী?২+৩=৫

‘তখন’-এর পরিচয়

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পে ‘তখন’ বলতে কলকাতার মামাবাড়ির আবদ্ধ জীবনে ফটিক যখন বাইরের খোলা আকাশ ও দূরের ছাদে খেলায় মত্ত ছেলেমেয়েদের দেখত এবং গ্রামের স্মৃতিতে আচ্ছন্ন হতো, সেই সময়ের কথা বোঝানো হয়েছে।

চিত্ত অধীর হওয়ার কারণ

ফটিক ছিল গ্রামের মুক্ত প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা স্বাধীনচেতা কিশোর। নদী, মাঠ, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও খোলা আকাশের নীচে ঘুরে বেড়ানোই ছিল তার জীবনের আনন্দ। কলকাতায় এসে সে সেই স্বাধীনতা হারিয়েছিল।

মামাবাড়িতে ছিল মামির অবহেলা, শাসন ও নিঃসঙ্গতা। ছেলেমেয়েদের আনন্দ দেখে তার মনে পড়ত গ্রামের ঘুড়ি ওড়ানো, নদীর তীরে ঘোরা ও সাঁতার কাটার দিনগুলি। সে বুঝত, তার পরিচিত আনন্দময় জীবন থেকে সে অনেক দূরে চলে এসেছে।

গ্রামের প্রকৃতি, বন্ধু ও মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তখন তীব্র হয়ে উঠত। কিন্তু ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় ছিল না বলে তার মন আরও ব্যাকুল ও বিষণ্ণ হতো।

উপসংহার: এইভাবে স্মৃতিময়তা, একাকিত্ব ও মুক্ত জীবনের জন্য ব্যাকুলতাই ফটিকের চিত্তকে বারবার অধীর করে তুলত। এই অধীরতার মধ্য দিয়ে কিশোরের কোমল ও সংবেদনশীল মনের গভীর বেদনা ও অসহায়তাই প্রকাশ পেয়েছে।

৮“এই বয়সে সাধারণত নারীজাতিকে কোনো-এক শ্রেষ্ঠ স্বর্গলোকের দুর্লভ জীব বলিয়া মনে ধারণা হইতে আরম্ভ হয়, অতএব তাঁহাদের নিকট হইতে উপেক্ষা অত্যন্ত দুঃসহ বোধ হয়।”—কোন্ প্রসঙ্গে লেখক এ কথা বলেছেন? উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।২+৩=৫

প্রসঙ্গ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পে কলকাতায় মামাবাড়িতে ফটিকের কৈশোরের মানসিক অবস্থা ও মামির উপেক্ষার প্রসঙ্গে লেখক এই মন্তব্য করেছেন। ফটিক মামির কাছ থেকে স্নেহ ও আদর পেতে চেয়েছিল, কিন্তু পেয়েছিল শুধু অবহেলা।

তাৎপর্য

এই উক্তিতে লেখক কৈশোরের কোমল ও সংবেদনশীল মনের একটি বিশেষ দিক তুলে ধরেছেন। তেরো-চোদ্দো বছর বয়সে কিশোরের মনে নারীজাতির প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধা, মুগ্ধতা ও আকর্ষণ জন্মায়। তাঁদের কাছ থেকে স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তখন প্রবল থাকে, তাই তাঁদের উপেক্ষা তার কাছে অত্যন্ত দুঃসহ মনে হয়।

ফটিকও মামির কাছ থেকে একটু আন্তরিকতা আশা করেছিল। তিনি কিছু করতে বললে সে আগ্রহের সঙ্গে তা করে দিত। কিন্তু মামি তাকে সংসারের বোঝা মনে করে প্রায়ই তিরস্কার করতেন। ফলে তার কোমল মনে গভীর বেদনা জমে ওঠে।

লেখকের বক্তব্য

কৈশোরের স্বাভাবিক আবেগ ও স্নেহের চাহিদাকে অবহেলা করা উচিত নয়। এই বয়সে বড়োদের সামান্য ভালোবাসা যেমন কিশোরের মনে আনন্দ জাগাতে পারে, তেমনই উপেক্ষা তার মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। ফটিকের করুণ পরিণতির পেছনে এই উপেক্ষাও কম দায়ী নয়।

উপসংহার: সুতরাং উক্তিটি কৈশোরের মনস্তত্ত্বের এক সূক্ষ্ম ও সত্য উপলব্ধি।

৯‘ছুটি’ গল্প অবলম্বনে বিশ্বম্ভরবাবুর চরিত্র বিশ্লেষণ করো।৫ নম্বর

ভূমিকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’ গল্পে বিশ্বম্ভরবাবু ফটিকের মামা ও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্র। তাঁর মধ্য দিয়ে লেখক স্নেহ, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

দায়িত্বশীল ও কর্তব্যপরায়ণ

দীর্ঘদিন পশ্চিমে কাটিয়ে দেশে ফিরে তিনি বিধবা বোন ও ভাগনেদের খোঁজ নেন। ফটিকের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে কলকাতায় নিজের কাছে এনে পড়াশোনা শেখানোর প্রস্তাব দেন।

স্নেহশীল অভিভাবক

বোনের স্বামী না থাকায় ফটিকের ভবিষ্যতের ভার তিনি নিজে তুলে নেন। ভাগনেকে নিজের কাছে রেখে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে তিনি দায়িত্বশীল অভিভাবকের পরিচয় দেন।

সহানুভূতিশীল ও উদ্বিগ্ন

ফটিকের মনের কষ্ট তিনি পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও তার প্রতি স্নেহ ছিল আন্তরিক। ফটিক নিখোঁজ হলে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশে খবর দেন।

সেবাপরায়ণ ও মানবিক

প্রবল জ্বরে অচেতনপ্রায় ফটিককে ফিরিয়ে আনা হলে তিনি তাকে প্রায় কোলে করে অন্তঃপুরে নিয়ে যান এবং ডাক্তার ডেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। স্ত্রীর অনীহা সত্ত্বেও তিনি অসুস্থ ভাগনেকে অবহেলা করেননি।

সীমাবদ্ধতা ও উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, বিশ্বম্ভরবাবু স্নেহশীল, দায়িত্ববান ও মানবিক মানুষ। তবে তিনি কিশোর ফটিকের মনের নিঃসঙ্গতা ও স্নেহের ক্ষুধা সময়মতো বুঝতে পারেননি। তাঁর সদিচ্ছা সত্ত্বেও ফটিকের বেদনা দূর হয়নি—এই সত্যই গল্পের করুণ পরিণতিকে আরও মর্মস্পর্শী করেছে।

১০‘ছুটি’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। অথবা, ‘ছুটি’ গল্পটির নামকরণ কতটা সার্থক হয়েছে আলোচনা করো।৫ নম্বর

ভূমিকা

যদিও শেক্সপীয়র বলেছেন ‘What’s in a name?’ তবুও আমাদের মনে হয় মহৎ সাহিত্য সৃষ্টিতে নামকরণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাস্তবে কানাছেলের নাম ‘পদ্মলোচন’ আপত্তিকর নাও হতে পারে। কিন্তু সাহিত্যে এধরনের সামঞ্জস্যহীন নামকরণ তীব্র সমালোচনার বিষয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিরচিত ‘ছুটি’ গল্পটির নামকরণ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তা আমাদের আলোচ্য বিষয়।

গল্পের প্রেক্ষাপট

গল্পের প্রধান চরিত্র কিশোর ফটিক। ফটিক উচ্ছৃঙ্খল, পড়ায় অমনোযোগী। তাকে নিয়ে তার মা বিব্রত। তাই ফটিকের মামা বিশ্বম্ভরবাবু শহর কলকাতায় ফটিককে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসেন।

মামার বাড়িতে ফটিক মামির স্নেহ, ভালোবাসা, আদর থেকে বঞ্চিতই থেকে যায়। স্নেহ-মমতাহীন বদ্ধ নাগরিক পরিবেশে সে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। ফটিকের কেবলই মনে পড়ে অবাধ মাঠ, নদীতীর, নদী এবং তার মাকে। একদিন সাহস করে ফটিক মামাকে জিজ্ঞেস করে—

“মামা, মার কাছে কবে যাব।”

মামা জানান, পুজোর ছুটিতে।

পরিণতি ও ব্যঞ্জনা

একদিন অসুস্থ শরীরে ফটিক বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। জলে ভিজে প্রবল জ্বরে প্রলাপ বকতে থাকে—বাড়ি যাবার, ছুটি পাবার। গ্রাম থেকে মা ছুটে এলে ফটিক জানায়—

“মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।”

ফটিক এইভাবেই শহর ছেড়ে চির ছুটির দেশে পাড়ি দেয়। ‘ছুটি’ শব্দটি এখানে গভীর ব্যঞ্জনা বহন করেছে।

উপসংহার: তাই ‘ছুটি’ গল্পের নামকরণ যথার্থ ও সার্থক হয়েছে।
বাংলা সহায়কআরও প্রশ্নোত্তর ও সাজেশনের জন্য আমাদের সঙ্গে থাকো ✨

Your Cart

error: Content is protected !!
Scroll to Top