বিশ্বের ভাষা ও পরিবার |একাদশ শ্রেণি |প্রথম সেমেস্টার|ভাষা


একাদশ শ্রেণি • প্রথম সেমিস্টার

বিশ্বের ভাষা ও ভাষাপরিবার

Sem-1 পাঠ্যবই • সম্পূর্ণ সিলেবাস নোটস ভেরিফায়েড পাঠ্যক্রম

Madhyamik History Suggestion -2027 & Model Answers

📢 মাধ্যমিক ইতিহাস ২০২৭ | প্রস্তুতি হোক আরও সহজ! 🎯 📘 মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন ও আদর্শ উত্তর (২০২৭)...

১ ভূমিকা ও প্রাথমিক তথ্য

🌍 বিশ্বের ভাষা

ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্বে প্রায় ৩,০০০ ভাষা এবং সেগুলির বহু বৈচিত্র্য ও উপভাষা ছড়িয়ে রয়েছে।

📜 তুলনামূলক ভাষাবিজ্ঞান

১৭৮৬ সালে কলকাতার ‘রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটি’-র অধিবেশনে স্যার উইলিয়াম জোন্স প্রথম সংস্কৃত, গ্রিক, লাতিন ও জার্মানিক ভাষার মধ্যে গভীর সাদৃশ্য তুলে ধরে তুলনামূলক ভাষাবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন।

২ ভাষার প্রধান শ্রেণিবিভাগ পদ্ধতি

পৃথিবীর ভাষাগুলিকে প্রধানত ৬টি উপায়ে ভাগ করা হয়:

১. রূপতাত্ত্বিক/আকৃতিগত
২. গোত্র বা বংশানুযায়ী
৩. মহাদেশভিত্তিক
৪. দেশভিত্তিক
৫. ধর্মীয়
৬. কালগত

৩ রূপতাত্ত্বিক বা আকৃতিগত শ্রেণিবিভাগ

শব্দ ও বাক্যের গঠনশৈলী অনুযায়ী বিশ্বের ভাষা ২টি প্রধান বর্গে বিভক্ত:

রূপতাত্ত্বিক শ্রেণিবিভাগ
অনন্বয়ী / অসমবায়ী
উপসর্গ/বিভক্তিহীন, পদে অবস্থানের দ্বারা অর্থ নির্দেশিত হয়। (যেমন: চিনা)

সমবায়ী
মুক্তান্বয়ী: বিভক্তি আলাদা করলেও অর্থ স্পষ্ট। (তুর্কি, সোয়াহিলি)
অত্যন্বয়ী: বাক্যই প্রধান অংশ। (এস্কিমো)
সমন্বয়ী: মূল শব্দের সাথে বিভক্তি মিশে যায়। (বাংলা, সংস্কৃত, ইংরেজি)

৪ গোত্র বা বংশানুযায়ী শ্রেণিবিভাগ (ভাষাপরিবার)

অতীতে কোনো এক মূল ভাষা থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলিকে সমগোত্রজ (Cognate) ভাষা এবং তাদের পরিবারকে ভাষাবংশ বলে। বিশ্বে প্রধান ভাষাবংশ ১২টি:

ক্র.নং.ভাষাবংশের নামপ্রধান ভাষা / শাখাবিশেষ তথ্য / উদাহরণ
১ইন্দো-ইউরোপীয় (বৃহত্তম)৯টি প্রধান শাখাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্তার লাভ করা ভাষাবংশ।
২সেমীয়-হামীয়হিব্রু, আরবি, মিশরীয়হিব্রু ভাষা ইজরায়েলের সরকারি ও বাইবেলের ‘ওল্ড টেস্টামেন্ট’-এর ভাষা।
৩বান্টুসোয়াহিলি, কঙ্গো, জুলু, মাসাইআফ্রিকার অধিকাংশ অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত।
৪ফিনো-উগ্রীয় (উরালীয়)হাঙ্গেরীয়, ফিনিস, এস্তোনীয়ইউরোপে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার মাঝে দ্বীপের মতো বিরাজমান।
৫তুর্ক-মোঙ্গল-মাঞ্চু (আলতাইক)তুর্কি, মোঙ্গলীয়মধ্য ও উত্তর এশিয়ায় প্রচলিত।
৬ককেশীয়জর্জীয়ককেশাস পার্বত্য অঞ্চলে প্রচলিত।
৭দ্রাবিড়তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালায়ালমদক্ষিণ ভারতের প্রধান ভাষাপরিবার।
৮অস্ট্রিকসাঁওতালি, মুণ্ডারি, খাসিদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতের প্রাচীন আদিবাসীদের ভাষা।
৯ভোট-চিনীয়মান্দারিন (চিনা), তিব্বতি, বর্মিবিশ্বের অন্যতম জনবহুল ভাষাগোষ্ঠী।
১০প্রাচীন এশীয়কামচাটকান, ইউকাগিরসাইবেরিয়া ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় প্রচলিত।
১১এসকিমো-আলেউটইনুক্টিটুট (এসকিমো)উত্তর মেরু ও সংলগ্ন আমেরিকা অঞ্চলে প্রচলিত।
১২আমেরিকার আদিম ভাষাসমূহমায়া, আজতেক, কিচুয়া (ইনকা)আমেরিকার প্রাচীন সভ্যতার ভাষা।

🏛️ ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের বিশেষ শাখা পরিচিতি

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের ৯টি প্রধান শাখা: ইতালীয়, গ্রিক, জার্মানিক, কেলতিক, তোখারীয়, আলবেনীয়, বালতো-স্লাভীয়, আরমেনীয়, এবং ইন্দো-ইরানীয়।

কেন্তুম্ (Kentum) বর্গ:
গ্রিক, ইতালীয়, জার্মানিক, কেলতিক, তোখারীয়।
সতম্ (Satem) বর্গ:
ইন্দো-ইরানীয়, আলবেনীয়, আরমেনীয়, বালতো-স্লাভীয়।

  • গ্রিক শাখা: খ্রিস্টপূর্ব ১৪৫০ অব্দে ক্রিট দ্বীপে এর নিদর্শন মেলে। হোমারের ইলিয়াড ও ওডিসি এ ভাষায় রচিত।
  • ইতালীয় শাখা: প্রধান ভাষা লাতিন। এ থেকে উদ্ভূত—ফরাসি, স্প্যানিশ, ইতালিয়ান, পর্তুগিজ।
  • জার্মানিক শাখা: উত্তর শাখা (সুইডিশ, নরওয়েজিয়ান) ও পশ্চিম শাখা (ইংরেজি, জার্মান, ডাচ্)।
  • ইন্দো-ইরানীয় শাখা: দুটি উপশাখা—
    • ইরানীয় আর্য: প্রাচীনতম গ্রন্থ জরথুস্ট্রীয়দের ‘জেন্দ আবেস্তা’। পরবর্তীতে ফারসি, পশতু, বেলুচি।
    • ভারতীয় আর্য: বৈদিক সংস্কৃত → প্রাকৃত → অপভ্রংশ হয়ে বাংলা, হিন্দি, মারাঠি ইত্যাদি ভাষার উদ্ভব।

৫ অবর্গীভূত বা অশ্রেণিবদ্ধ ভাষা (Unclassified)

যেসব ভাষার ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণের অভাবে কোনো নির্দিষ্ট ভাষাপরিবারে শ্রেণিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

  • বিশ্বের উদাহরণ: জাপানি, কোরীয়, বাস্ক (স্পেন ও ফ্রান্স সীমান্ত)।
  • ভারতীয় উপমহাদেশের উদাহরণ: বুরুশাস্কি / খজুনা, আন্দামানি, মায়ানমারের করেন্ ও মন্।

৬ অস্বাভাবিক ভাষা (মিশ্র ও কৃত্রিম ভাষা)

🔀 (ক) মিশ্র ভাষা (Mixed Language)

ভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর সান্নিধ্যে সৃষ্ট সীমিত শব্দভাণ্ডারের ভাষা।

১. পিজিন (Pidgin): বাণিজ্যের জন্য সৃষ্ট অ-মাতৃভাষা। ইংরেজি ‘Business’ থেকে শব্দটি এসেছে। (যেমন: পিজিন-ইংরেজি, বিচ-লা-মার)।
২. ক্রেওল (Creole): পিজিন স্থায়ী হয়ে মাতৃভাষায় রূপ নিলে তা ক্রেওল (প্রক্রিয়াটি Creolization)। (যেমন: মরিশাস ক্রেওল, চিনুক)।

🤖 (খ) কৃত্রিম ভাষা (Artificial Language)

বিশ্বজোড়া যোগাযোগের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তৈরি ভাষা।

  • চিন্তানায়ক: রেনে দেকার্ত, ফ্রান্সিস বেকন।
  • ভোলাপুক: যোহান মার্টিন শ্লেইয়ার দ্বারা সৃষ্ট।
  • এসপেরান্তো (Esperanto): ১৮৮৭ সালে এল. এল. জামেনহফ (Doktoro Esperanto) উদ্ভাবন করেন।

    • ব্যাকরণ মাত্র ১৬টি সূত্রে আবদ্ধ।

    • ২৩টি ব্যঞ্জনধ্বনি, ৫টি স্বরধ্বনি, ২টো অর্ধস্বর ও ৬টি যৌগিক স্বর রয়েছে।

৭ প্যারা ল্যাঙ্গুয়েজ ও সাংকেতিক ভাষা

👋 Para Language

বাচিক ধ্বনি ছাড়া অঙ্গভঙ্গি, চোখ বা শরীরের সঞ্চালনের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ।

🤟 Sign Language (সাংকেতিক ভাষা)

১৭৭৫ সালে ফরাসি শিক্ষাবিদ অ্যাবে চার্লস মিচেল ডি এল’ইপি প্রথম উদ্ভাবন করেন।

• Paget-Gorman: ৩,০০০ সংকেতযুক্ত পদ্ধতি।
• Dactylology: আঙুল দিয়ে বানান করার পদ্ধতি (Finger Spelling)।

Your Cart

error: Content is protected !!
Scroll to Top