প্রতিবেদন |report|bengali report|প্রতিবেদন রচনা করুন সহজে | প্রতিবেদন রচনার খুঁটিনাটি | প্রতিবেদন রচনার উদাহরণ | BanglaSahayak.com

প্রতিবেদন কী ও কাকে বলে?

প্রতিবেদন শব্দের অর্থ হল বিবরণী, ইংরেজিতে Report

যে খবর সহজ-সরল ভাষায় সকল মানুষের বোধগম্যের উপযোগী করে প্রকাশ করা হয় তাকে প্রতিবেদন বলে। প্রতিবেদন হচ্ছে প্রকৃত ঘটনার বিবরণী বা বিবৃতি, যা জনগণের স্বার্থে প্রকাশ করা যায়। আসলে রিপোর্ট বা প্রতিবেদন বলতে বোঝানো হয় “একটি সংবাদ যোগ্য ঘটনার বিবরণী।” অর্থাৎ যে ঘটনা, ভাব বা বিষয় সংবাদের মাপকাঠিতে বিবরণী আকারে প্রকাশ হবার যোগ্য তাকেই প্রতিবেদন বলা হয়। আর যিনি প্রতিবেদন রচনা করেন তাকে বলা হয় প্রতিবেদক

তাহলে একথা বলা যায়, প্রতিবেদন মানেই কোনো না কোনো ঘটনা কিন্তু সব ঘটনা প্রতিবেদন নয়। যেসব ঘটনার একটা সংবাদ সুলভ মূল্য আছে তাই প্রতিবেদন হবার যোগ্য। যেমন: বিদ্যালয়ে প্রতিদিন ক্লাস হয়— এটা সাধারণ ঘটনা। কিন্তু কোনো একদিন বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন ইত্যাদি হলে সেই ঘটনাটির গুরুত্ব এতটাই বেড়ে যায়, যা প্রতিবেদন হওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদনের শ্রেণিবিভাগ

১) সংবাদভিত্তিক সাধারণ প্রতিবেদন
২) সম্পাদকীয় প্রতিবেদন
৩) সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদন
৪) ক্রীড়া প্রতিবেদন

বিশেষ দ্রষ্টব্য: মাধ্যমিক তথা দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রথম ধরনের অর্থাৎ সংবাদভিত্তিক সাধারণ প্রতিবেদন লিখতে হয়।

প্রতিবেদন কীভাবে লিখতে হবে?

  • ১) শিরোনাম: প্রতিবেদন লেখার সময় অবশ্যই একটা শিরোনাম তৈরি করতে হবে। শিরোনাম হবে চমকপ্রদ এবং যথার্থ, যা পাঠকের মন হরণ করবে এবং সংবাদ পাঠে আকৃষ্ট করবে। অর্থাৎ শিরোনাম যথাযথ, বিষয়কেন্দ্রিক, চিত্তাকর্ষক ও সংবাদ উপযোগী হবে।
  • ২) সংবাদদাতার ধরণ: শিরোনামের পর কোন্ ধরনের সংবাদদাতা তা উল্লেখ করতে হবে (যেমন: নিজস্ব সংবাদদাতা, বিশেষ সংবাদদাতা প্রভৃতি)।
  • ৩) স্থান ও তারিখ: সংবাদদাতার ধরণ লেখার পরেই ঘটনার স্থান ও তারিখ স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে।
  • ৪) বিবরণ (5 Wh Questions): ঘটনাটি কখন, কোথায়, কীভাবে ঘটেছে তা জানাতে ৫টি মূল প্রশ্নের উত্তর বজায় রেখে বিবরণ লিখতে হবে:

    What? কী ঘটল?
    Where? কোথায় ঘটল?
    When? কখন ঘটল?
    Why/Who? কেন ঘটল / কারা ঘটাল?
    How? কতটা প্রভাব পড়ল?

    সবশেষে সেই ঘটনায় আগত বিশিষ্ট ব্যক্তির উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রতিবেদনটি শেষ করতে হবে।

প্রতিবেদন রচনার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী

  • প্রতিবেদন সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে লিখতে হবে। সেখানে কোনো অনুমান বা কল্পনা চলবে না।
  • প্রতিবেদনটি অবশ্যই পক্ষপাতহীন ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।
  • প্রতিবেদনটি সুখপাঠ্য করার জন্য সুন্দর, সাবলীল, সহজ-সরল ভাষা ব্যবহার করতে হবে।
  • প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই করে নিতে হবে এবং একাধিক সূত্র অন্বেষণ করতে হবে।
  • প্রতিবেদন সব সময় ভাববাচ্যে লিখতে হবে। প্রথম পুরুষ বা সে-পক্ষ অবলম্বনে প্রতিবেদন লেখা হয়।
  • প্রত্যক্ষ উক্তির বদলে পরোক্ষ উক্তি ব্যবহার করতে হবে।
  • কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে প্রতিবেদন রচনা শেষ করতে হবে।

প্রতিবেদন রচনার দৃষ্টান্ত (মাধ্যমিক প্রশ্ন ও উত্তর)

১. কোনো গ্রামীণ এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল উদ্বোধন হল — এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

মাধ্যমিক ২০১৭

গাজিপুর গ্রামে উদ্বোধন হল সরকারি হাসপাতাল

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজিপুর, মুর্শিদাবাদ, ২২ শে ফেব্রুয়ারি ২০১৮ :

সুতি ২ নং ব্লকের অন্তর্গত এক প্রান্তিক গ্রাম গাজিপুরে গতকাল মাননীয় শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়কের উপস্থিতিতে একটি সরকারি হাসপাতালের উদ্বোধন হয়ে গেল। এর পূর্বে গাজিপুর এবং আশেপাশের এলাকায় কোনো সরকারি হাসপাতাল ছিল না। চিকিৎসার জন্য মানুষকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ছুটে যেতে হতো। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছতে দেরি হয়ে গেলে, বহু দুরারোগ্য রোগী পথ মধ্যেই মারা যেতো। কিন্তু এই গাজিপুরে সরকারি হাসপাতালের উদ্বোধন হওয়ার পর এই সমস্যা আর থাকবে না বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বিধায়ক ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীর গলায় শোনা যায়, “গাজিপুরে সরকারি হাসপাতাল থাকার দরুন বহু অসুস্থ ব্যক্তি সঠিক চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন আশা করছি।” প্রসঙ্গক্রমে নতুন উদ্বোধন হওয়া এই সরকারি হাসপাতালে দশটি ঘর আছে। ডাক্তার থাকবেন পাঁচজন। বিনামূল্যে ওষুধ পত্র দেওয়ার সুব্যবস্থা থাকবে। এমনকি মাঝরাতে কোনো অসুবিধা হলে অ্যাম্বুলেন্সেরও ব্যবস্থা আছে। হাসপাতালের উন্নত পরিকাঠামো দেখে গাজিপুরের এক বিশিষ্ট শিক্ষক তাপস কুমার দাস বলেন, “এবার থেকে অসুস্থ হলে আর দুর্ভাবনা থাকবে না এলাকাবাসীর। গাজিপুরের মতো গ্রামে সরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই।”

২. তোমার এলাকায় একটি পাঠাগার উদ্বোধন হল — এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

মাধ্যমিক ২০১৮

সকলের জন্য উন্মুক্ত হল অটল বিহারী স্মৃতি পাঠাগার

নিজস্ব সংবাদদাতা, কাশিমনগর, মুর্শিদাবাদ, ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ :

সুতি ২ নং ব্লকের অন্তর্গত এক প্রান্তিক গ্রাম কাশিমনগরে আজ উদ্বোধন হল অটল বিহারী স্মৃতি পাঠাগার। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষক শ্রী অমর কুমার দাস মহাশয়। তিনি বলেন, “বই পড়ার অভ্যাস ক্রমশই কমে যাচ্ছে। পাঠাগারের মাধ্যমে নিশ্চয়ই স্থানীয় মানুষের মনে বইপড়ার আগ্রহ জন্মাবে।” বর্তমান সময়ে পাঠাগারের উপযোগিতা সম্পর্কে মনোজ্ঞ বক্তৃতা দেন কাশিমনগর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মহাশয়। জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে পাঠাগারটিতে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রায় দুই হাজার বই রাখা হয়েছে। এছাড়া কচিকাঁচাদের জন্য রয়েছে একটি বিশেষ শিশু বিভাগ। সপ্তাহের প্রতি শনি ও রবিবার পাঠাগারটি সকলের জন্য খোলা থাকবে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্থানীয় বাসিন্দারা এর সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারবেন। এই উদ্যোগে গ্রামীণ ছাত্রছাত্রী ও বইপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

৩. বিদ্যালয়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

মাধ্যমিক ২০১৯

যথাযথ মর্যাদায় পালিত হল শিক্ষক দিবস

নিজস্ব সংবাদদাতা, অরঙ্গাবাদ, মুর্শিদাবাদ, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ :

অরঙ্গাবাদ অঞ্চলের বিশিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রণবানন্দ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলে গতকাল ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিবস তথা শিক্ষক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল। বিদ্যালয়ের হলঘরে দুপুর ১২ টায় এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের অরঙ্গাবাদ শাখার অধ্যক্ষ তথা বিদ্যালয়ের সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ। তিনি দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা আলোচনা করেন। সভায় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীগণ উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক ও ছাত্রদের পক্ষ থেকে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আবৃত্তি, ক্যুইজ, নাচ, গান, নাটক মিলিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠান হয়। সুন্দর ও সুপরিকল্পিত অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অঞ্চলের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং প্রবীণ শিক্ষকদের সংবর্ধিত করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে বিদ্যালয়ের সভাপতি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকলকে অনুষ্ঠানের স্মারক রূপে বিদ্যালয়ের নামাঙ্কিত কলম উপহার দেওয়া হয়।

৪. তোমার এলাকায় অরণ্য সপ্তাহ পালিত হল — এ বিষয়ে প্রতিবেদন।

মাধ্যমিক ২০২০

গাছ লাগিয়ে বাঁচাবো প্রাণ: বিদ্যালয়ে পালিত হল অরণ্য সপ্তাহ

নিজস্ব সংবাদদাতা, অরঙ্গাবাদ, ২০ জুলাই :

সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে মুর্শিদাবাদের প্রণবানন্দ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলে অত্যন্ত সাড়ম্বরে পালিত হলো ‘অরণ্য সপ্তাহ’। বুধবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটি এক উৎসবের রূপ নেয়। এদিন সকালে প্রথম পিরিয়ডের পরই ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও মনোজ্ঞ নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির বন্দনা করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুতি ২ নম্বর ব্লকের বিডিও সৌভিক ঘোষ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুনীল কুমার দে এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ সরকার মহাশয়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অরণ্য ধ্বংসের কুফল এবং পরিবেশ রক্ষায় উদ্ভিদের অপরিহার্য ভূমিকা নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ব্লকের পক্ষ থেকে উপস্থিত প্রত্যেক পড়ুয়ার হাতে একটি করে চারাগাছ তুলে দেওয়া। শেষে অতিথি ও শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই চারাগাছ রোপণ করে এই মহতী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

৫. নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী — এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর, ২১ জুলাই ২০১৯ :

সম্প্রতি যেকোনো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি সর্বসাধারণের কাছে এক জ্বলন্ত সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষভাবে ভোজ্যদ্রব্যগুলির দাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, সরষের তেল, আলু, পিঁয়াজ, জীবনদায়ী ওষুধ, বস্ত্র প্রভৃতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে অর্থনৈতিক দিক। মুদ্রাস্ফীতির চাপ, চাহিদা-যোগানের ভারসাম্যহীনতা, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ফলে নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের অবস্থা হয়ে পড়েছে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’- এর মতো। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি যদি অবিলম্বে স্তব্ধ করা যায় তবে দেশে চরম অস্থিরতা দেখা দেবে, ভেঙে পড়তে পারে সমাজ ব্যবস্থা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে যৌথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, তবেই সাধারণ মানুষ এই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করবে।

৬. জলা বুজিয়ে সবুজ ধ্বংস করে আবাসন নয় — এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

জলাভূমি ভরাট ও সবুজ ধ্বংসের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দননগর, ৫ জুন ২০১৯ :

বহুতল নির্মাণের জন্য জলাভূমি ধ্বংস করার যে অশুভ প্রচেষ্টা সর্বত্র লক্ষ করা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হলেন চন্দননগরের স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে গড়ে ওঠা নাগরিক মঞ্চ। স্থানীয় নেতাজি সংঘের প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ আন্দোলনে মিলিত হলেন অঞ্চলের বিশিষ্ট মানুষজন। শহর ও শহরতলীতে আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ হলেও, অন্যদিকে কিছু আবাসন নির্মাণচক্র বেআইনিভাবে জলাজমি বুজিয়ে ও বৃক্ষচ্ছেদন করে ইট-কাঠ-পাথরের কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে। ফলে পরিবেশ হয়ে উঠছে দূষিত ও বিষাক্ত। প্রতিবাদ আন্দোলনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন বক্তা এই বিষয়টির উপর গুরুত্বারোপ করেন। সবুজ ও উন্মুক্ত পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জলাভূমি ভরাটের মতো ঘৃণিত কাজের বিরুদ্ধে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন এবং প্রতিবাদের শপথ গ্রহণ করেন। স্থানীয় প্রশাসক ও সর্বোচ্চ প্রশাসকের কাছে নাগরিকদের সই সংগ্রহ করে দুষ্টচক্র রাজের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়।

৭. রক্তদান শিবির এই বিষয়ের উপর একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

রক্তদান জীবন দান

নিজস্ব সংবাদদাতা, অরঙ্গাবাদ, মুর্শিদাবাদ, ২ জুলাই ২০১৯ :

চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে অরঙ্গাবাদ অগ্রণী যুব সংঘের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একদিনের স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে এই মহৎ উদ্যোগটি সুসম্পন্ন হয়। সকাল দশটায় রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের শ্রমপ্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন মহাশয়। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক, ডি.এন.সি কলেজের অধ্যক্ষ এবং স্থানীয় বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মীগণ। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বহু অসাধ্যসাধন ঘটালেও এ পর্যন্ত কৃত্রিম রক্ত আবিষ্কারে সক্ষম হয়নি। তাই অগ্রণী যুব সংঘের এই স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য একটি উদ্যোগ। সারাদিন ব্যাপী ৭৫ জন রক্তদাতা রক্ত দান করেন। রক্তদাতাদের প্রত্যেকের জন্য সামান্য জলখাবারের ব্যবস্থা করতে ভোলেনি ক্লাবটি। বেলা তিনটে নাগাদ রক্ত সংগ্রহ পর্ব শেষ হলেও পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সন্ধে ছ’টা পর্যন্ত চলতে থাকে। সংঘের সম্পাদক জানান, জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের রক্তভাণ্ডারে এই রক্ত দান করা হবে। সবশেষে এলাকাবাসীর সার্বিক আগ্রহে ঘোষিত হয়— প্রতিবছর এইভাবেই রক্তদানের মতো মহাপুণ্যের অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।

৮. দূষণ প্রতিরোধে সেমিনারের আয়োজন বিষয়ে একটি প্রতিবেদন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে বিদ্যালয়ে আয়োজিত সেমিনার

নিজস্ব সংবাদদাতা, অরঙ্গাবাদ, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ :

গত ১৫ জানুয়ারি অরঙ্গাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘প্লাস্টিক দূষণ’ প্রতিরোধের ওপর একটি সেমিনার। স্থানীয় সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান প্রমুখ। দুই দিন ধরে চলে এই সেমিনার। এই দুই দিনে বক্তৃতা, আলোচনা এবং দূষণের প্রতিকার সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এই সেমিনারে প্রতিদিনই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাড়াও সহ-শিক্ষক-শিক্ষিকারাও উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও প্রায় প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিল। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের তৈরি নানারকম মডেল প্রদর্শনীর ব্যবস্থা ছিল। শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কিছু ছাত্রছাত্রীও এ-বিষয়ে তাদের বক্তব্য পেশ করেন। কীভাবে প্লাস্টিক পরিবেশকে দূষিত করে এবং এই প্লাস্টিক দূষণ রুখতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও এই সেমিনারে স্থানীয় অধিবাসীরাও যোগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় স্বাস্থ্য আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন এই সেমিনারে। সেমিনারের শেষ দিনে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিলেন। প্লাস্টিক দূষণের প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করার জন্যই মূলত এই শোভাযাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

৯. টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শহরের জনজীবন বিষয়ে একটি প্রতিবেদন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

জলনিকাশের সমস্যায় বিপর্যস্ত শহর

নিজস্ব সংবাদদাতা, জঙ্গীপুর, ১৭ জানুয়ারি :

তিন দিনের ভারি বৃষ্টিতে জঙ্গীপুরের রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল। জলনিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা জঙ্গীপুরে বেশ অনেকদিন ধরেই। বৃষ্টিতে এখানকার বেশ কিছু এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা এতটাই বেহাল হয় যে, যে-কোনো সময় বড়ো কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্রশাসনিক দফতর বারবার এই সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও সমস্যার কোনোরকম সমাধান আজও হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। পুরপ্রধান বলেছেন, পুরসভার যে-দুটি পথ দিয়ে জল বের করা হয় তা জোতকমল পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। ওই কাজ করার জন্য পঞ্চায়েত ৪০ শতাংশ ও পুরকর্তৃপক্ষ ৬০ শতাংশ অর্থ দেয়। আর সেইমতোই কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রাক্তন পুরপ্রধান অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন যেসব জায়গায় কাজ হয়েছে সেখানে ভালো মানের কাজ হয়নি। বাসিন্দাদের অভিযোগ সমর্থন করে তিনি বলেছেন পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডেই নিকাশিব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তাই অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে। প্রতি বর্ষাতেই এই অঞ্চলকে এইভাবে ডুবতে হয়। যদিও অঞ্চলের বাসিন্দাদের পুরসভাপ্রধান আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন তাঁরা শহরটাকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। জলনিকাশি ব্যবস্থা-সহ আগামী কয়েক বছরে উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে পৌরসভা কাজ করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

১০. গাছ কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি প্রতিবেদন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

নির্বিচারে গাছ কাটা রুখতে গর্জে উঠল এলাকাবাসী

নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার, ১৫ই জুলাই :

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের ডাক দিয়ে নির্বিচারে গাছ কাটার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে শামিল হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ সকালে আলিপুরদুয়ারের স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি প্রাচীন বটগাছসহ বেশ কিছু গাছ কাটার তোড়জোড় শুরু হতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আপামর জনসাধারণ। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, উন্নয়নের চকমকে দোহাই দিয়ে রাতের অন্ধকারে ও প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে একের পর এক ছায়াপ্রদানকারী মহীরুহ কেটে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে এলাকার তাপমাত্রা যেমন অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, তেমনই বিলুপ্ত হচ্ছে বহু পাখির আশ্রয়স্থল। প্রতিবাদী মঞ্চ থেকে পরিবেশকর্মী সুমিত সেনগুপ্ত বলেন, “গাছ কাটা মানে নিজের অক্সিজেন নিজে বন্ধ করা। এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।” বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে এই বৃক্ষনিধন বন্ধ করার এবং কাটা গাছের পরিবর্তে দ্বিগুণ সংখ্যক নতুন চারাগাছ রোপণের দাবি জানিয়েছেন। পরবর্তীতে মহকুমা শাসকের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রকৃতির স্বার্থে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ আজ এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

১১. এলাকায় জমা জল থেকে ছড়াচ্ছে মশাবাহিত মারণব্যাধি — এ বিষয়ে প্রতিবেদন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

এলাকায় জমা জল থেকে ছড়াচ্ছে মশাবাহিত মারণব্যাধি: আতঙ্কে বাসিন্দারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসাত, ১৮ই জুলাই :

বর্ষার শুরুতেই এলাকায় জমা জল ও আবর্জনার স্তূপ থেকে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত মারণব্যাধির প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিগত কয়েক সপ্তাহে স্থানীয় পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডে বহু মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই নিকাশি নালাগুলো উপচে চারদিকে জল জমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই নোংরা জলেই বংশবৃদ্ধি করছে এডিস ও অ্যানোফিলিস মশা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশা মারার তেল বা ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোর কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সবার আগে জমা জল সরাতে হবে এবং নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।” ছাদ, টব বা ডাবের খোলার জল নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হওয়ার আগেই প্রশাসন যাতে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও মশক নিধন অভিযান শুরু করে, এখন সেটাই এলাকাবাসীর মূল দাবি।

১২. ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি নিয়ে প্রতিবেদন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি: বিপন্ন ভবিষ্যৎ, চিন্তিত শিক্ষামহল

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ১৯শে জুলাই :

বর্তমান যুগে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা এক মারাত্মক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। অনলাইন পড়াশোনার দোহাই দিয়ে শুরু হলেও, বর্তমানে সিংহভাগ শিক্ষার্থীই গেম, রিলস ও সোশ্যাল মিডিয়ার গোলকধাঁধায় বন্দি হয়ে পড়ছে। মনোবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, এই অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তির ফলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একাগ্রতা কমছে, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং খিটখিটে মেজাজ তৈরি হচ্ছে। একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে কম বয়সেই চোখের সমস্যা এবং অনিদ্রাজনিত রোগ দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে তাদের মাঠের খেলাধুলো ও সামাজিক মেলামেশা বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, যা মানসিক বিকাশকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে। এক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, “বই পড়ার অভ্যাস প্রায় বিলুপ্ত। পড়াশোনায় মন না থাকায় পরীক্ষার ফলও খারাপ হচ্ছে।” এই মারণ আসক্তি থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে অভিভাবক ও শিক্ষক উভয়কেই কঠোর হতে হবে। স্ক্রিন টাইম বেঁধে দেওয়া এবং বিকল্প হিসেবে সৃজনশীল কাজে তাদের ব্যস্ত রাখা এখন সময়ের দাবি।

Your Cart

error: Content is protected !!
Scroll to Top