বাংলা সহায়ক

জ্ঞানচক্ষু-আশাপূর্ণা দেবী


জ্ঞানচক্ষু – আশাপূর্ণা দেবী
লেখক পরিচিতি


বিংশ শতাব্দীর বাংলা কথা সাহিত্যের অন্যতম লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী। তাঁর লেখা 'কুমকুম' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত 'জ্ঞানচক্ষু' নামক গল্পে আমরা তপন নামক এক ছোট্ট বালকের কথা পাই।  তপন ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষে মামার বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে ছোটোমেসোকে দেখে জানতে পারে লেখকরাও তার বাবা,ছোটোমামা বা কাকুর  মতো রক্তমাংসের মানুষ। নতুন মেসোমশাইকে দেখে লেখকদের সম্পর্কে তপনের কাল্পনিক ধারণা সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। তখন তপনের মনেও লেখক হবার সাধ জাগে। তারপর সে নিজেও একটা গল্প লিখে ফেলে।গল্পটা তপন মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছিল।মাসি তখন মেসোমশাইকে অনুরোধ করলো সেটা পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার জন্য। মেসোমশাই সেটা ছাপালো কিন্তু তখন আর সেই লেখার মধ্যে তপনের লেখা কিন্তু কিছু ছিল না।

সঠিক  বিকল্পটি নির্বাচন করো:

১. মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা’ । উপযুক্ত কাজটি হল-
ক. গল্প লিখে দেওয়া        
খ. তপনের গল্প লেখা শিখিয়ে দেওয়া
গ. তপনের গল্প ছাপিয়ে দেওয়া    
ঘ. তপন কে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া
উঃ তপনের গল্প ছাপিয়ে দেওয়া

২. যে পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই পত্রিকার নাম-
ক. শুকতারা     খ. নক্ষত্র
গ. ধ্রুবতারা     ঘ. সন্ধাতারা
উঃ সন্ধাতারা

৩. তাই মেসো শশুর বাড়িতে এসে রয়েছে কদিন। মেসোর শশুর বাড়ি এসে থাকার কারণ-
ক. তার গরমের ছুটি চলছে      
খ.তাঁর সেখানে কাজ ছিল
গ. গল্প লেখার জন্য            
ঘ. তপনের অনুরোধ
উঃ তাঁর গরমের ছুটি চলছে

৪. তপনের মেসোমসাই পেশাগত দিক থেকে যা ছিলেন-
ক. রাজনীতিবিদ        খ. চিকিৎসক
গ. সম্পাদক               ঘ. অধ্যাপক
উঃ অধ্যাপক

৫. আর সেই সুযোগেই দিব্যি একখানি দিবানিদ্রা দিচ্ছেলেন,। সুযোগটি হল-
ক. গরমের ছুটি           
খ. পুজোর ছুটি
গ. বিয়ের জন্য নেওয়া ছুটি   
ঘ. বেড়াতে যাওয়ার ছুটি
উঃ গরমের ছুটি

৬. রত্নের মূল জহুরির কাছেই, এখানে রত্ন ও জহুরী হল-
ক. তপন ও ছোটোমাসি            
খ. তপন ও ছোটোমেসো
গ. তপন ও ‘সন্ধাতারা,-র সম্পাদক    
ঘ. তপন ও মেজোকাকু
উঃ তপন ও ছোটোমেসো

১. কার কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল? উঃ নতুন মেসো

২.জ্ঞানচক্ষু গল্পে কোন পত্রিকার নাম আছে? উঃ সন্ধ্যাতারা

৩.তপনের লেখা গল্পের নাম কী ছিল? উঃ  প্রথম দিন

৪. তপনের প্রথম গল্পে তার নাম কি ছিল? উঃ শ্রী তপন কুমার রায়

৫. তপনকে কিসের নেশায় পেয়েছিল? উঃ গল্পলেখা

৬. ছোটো মাসি আর তপনের বয়সের ব্যবধান কত? উঃ আট বছর

৭. মামার বাড়িতে তপন এসেছে-  
উ:  বিয়ে উপলক্ষ্যে

৮. তপন যে খাতায় গল্প লিখেছিল তা ছিল--হোমটাস্কের খাতা

৯.'শুধু এটাই জানা ছিল না' - অজানা বিষয়টি হলো  উ:-মানুষই গল্প লেখে

১০. নতুন মেসো পেশাগত দিক থেকে ছিলেন--প্রোফেসর

১১. তপন গল্প লিখেছিল--  দুপুরবেলা

১২. তপন গল্প লিখে প্রথম কাকে জানিয়েছিল? - ছোটোমাসি

১৩. 'ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে'-কোন কথা? --কারেকশনের কথা

অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-১]

১. “আর তোমরা বিশ্বাস করবে কিনা জানি না...”—এখানে কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

  উত্তরঃ এক জায়গায় বসে তপনের একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলার প্রসঙ্গে উপরোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে।

২. “যেন নেশায় পেয়েছে!”—এখানে কোন্ নেশার কথা বলা হয়েছে?

   উত্তরঃ তপনের গল্প লেখার নিরলস চেষ্টার কথা এখানে বলা হয়েছে। হোম টাস্ক ফেলে রেখে, লুকিয়ে লুকিয়েও সে গল্প লিখে গেছে।

৩. “শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন”—তপনের সংকল্প কী ছিল ?

  উত্তরঃ তপন সংকল্প করেছিল যে, যদি কখনো লেখা ছাপাতে হয়, তাহলে তপন নিজে গিয়ে তা পত্রিকার অফিসে জমা দেবে।

৪. কেন তপন হঠাৎ একটা ভয়ানক উত্তেজনা অনুভব করেছিল ?

   উত্তরঃ গ্রীষ্মের নিথর দুপুরে সিঁড়িতে নিরিবিলিতে একাসনে বসে একটা আস্ত গল্প শেষ করে তপন। সেটা পড়ার পরে ভয়ানক উত্তেজনায় তপন লেখক হয়ে ওঠার অনুভূতি অনুভব করেছিল।

৫. “কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।”—কোন্ কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল?

  উত্তরঃ তপনের মেসোমশাই একজন লেখক, তিনি নাকি বই লেখেন -একথা 
 শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।

৬. লেখালেখি ছাড়া তপনের নতুন মেসোর পেশা কী ?

    উত্তরঃ লেখালেখি ছাড়া তপনের নতুন মেসসা কলেজের একজন অধ্যাপক।

৭. “তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন” —দিনটিতে কোন্ উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিল?

   উত্তরঃ তপনের জীবনে প্রথমবার তার লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা' নামক পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। কিন্তু ছাপার পর দেখা যায় যে, তার গল্পের অনেকাংশই লেখক মেসো সংশোধনের নামে নতুন করে লিখেছিলেন। এই ঘটনায় ব্যথিত তপনের মনে হয়েছিল, আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-৩]

১. “এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের।”—কোন বিষয়ে কেন তপনের সন্দেহ ছিল ?


   উত্তরঃ তপনের সন্দেহ নিরশন : আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু নামক গল্প থেকে অংশটি গৃহীত হয়েছে। তপন জানত না যে, লেখকরা তার বাবা, কাকা কিংবা মামার মতো একজন সাধারণ মানুষ। তার সন্দেহ দূর হয় ছোটো মেসোমশাইকে দেখে। তিনি একজন লেখক। কিন্তু অন্য সাধারণ মানুষের মতো দাড়ি কামান। সিগারেট খান, খাবার অতিরিক্ত হলে ফিরিয়ে দেন, স্নান করেন, ঘুমোন। এমনকি আর সকলের মতো খবরের কাগজের খবর নিয়ে গল্প কিংবা তর্ক করেন। অবসর সময়ে সিনেমা দেখেন কিংবা বেড়াতেও বের হন। এসব দেখে তপনের সন্দেহ দূর হয় ও সে বিশ্বাস করে লেখকরাও সাধারণ মানুষ।

২. রত্নের মূল্য জহুরির কাছে। রত্ন এবং জহুরি বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

   উত্তরঃ রত্ন ও জহুরি : আশাপূর্ণা দেবী রচিত জ্ঞানচক্ষু নামাঙ্কিত গল্পে রত্ন বলতে তপনের লেখা গল্পটিকে এবং জহুরি বলতে তপনের ছোটো মেসোকে বোঝানো হয়েছে।
তপন যে গল্পটি লিখেছিল তা দেখে তার ছোটো মাসি যথেষ্ট ভালো বললেও প্রকৃত বিচারকের রায় দরকার ছিল তপনের। আর এই বিষয়ে লেখক হিসাবে পরিচিত তার ছোটোমেসো যে যোগ্য ব্যক্তি তাতে কারো সন্দেহ থাকতে পারে না। তাই রত্নের মূল্য ও গুরুত্ব যেমন একজন জহুরি সবথেকে ভালো বোঝেন। তেমনই তপনের গল্পের কদরও ছোটোমেসোই বুঝতে পারবে।

৩. তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনে সবচেয়ে দুঃখের দিন। কী কারণে তপনের এরূপ মনে হয়েছিল ?

   উত্তরঃ তপনের মনে হওয়ার কারণ : তপনের প্রথম লেখা গল্পটি নতুন মেসোমশাই-এর সুপারিশে সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। ছাপা গল্পটি পাঠ করে তপন। অবাক হয়ে যায়। কারণ তার নতুন মেসোমশাই গল্পটিকে ঠিকঠাক করতে গিয়ে সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছেন। ছাপানো গল্পের মধ্যে তপন নিজেকে খুঁজে পায় না। তার মনে হয় অন্য কারোর লেখা ছাপা হয়েছে। শ্রী তপন কুমার রায় নাম দিয়ে। নিজের সৃষ্টিকে পরিবর্তিত হতে দেখে তপনের মন বেদনায় ভরে ওঠে।

৪. ‘শুধু এ দুঃখের মুহর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন।” কোন দুঃখের মুহুর্তের কথা বলা হয়েছে। তপন কী সংকল্প নিয়েছিল ?

   উত্তরঃ দুঃখের মুহূর্ত : সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় নিজের ছাপা গল্প পড়তে গিয়ে যখন তপন বুঝল গল্পটি ছোটো মেসোমশাই আগাগোড়া কারেকশান করে দিয়েছেন। নিজের গল্পে নিজেকে না পেয়ে তপন খুব দুঃখ পেয়েছিল।
তপনের সংকল্প :এই দুঃখের মুহূর্তে তপন সংকল্প করে, যদি কখনো নিজের লেখা ছাপতে দেয়, তবে কারো মাধ্যমে নয়, নিজে গিয়ে পত্রিকা অফিসে দিয়ে আসবে। যদি তাতে তার গল্প ছাপা না হয় তবুও। কারণ কেউ সুপারিশ করে তার লেখা ছেপে দিয়েছে এমন কথা যেমন অপমানের, তেমনই কষ্টের। নিজের লেখা পড়তে গিয়ে অন্যের লেখা পড়া খুবই কষ্টকর।

৫. "ক্রমশ ও কথাটা ছড়িয়ে পড়ে।”—কোন কথা, ওই কথা ছড়িয়ে পড়ায় কী ঘটেছিল?

   উত্তরঃ কারেকশানের কথা : তপনের প্রকাশিত গল্পটি আসলে ছোটো মেসোমশাই কিছুটা কারেকশান করে দিয়েছেন—এই কথাটা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে বাড়িতে।
মেসোর মহত্তের কথা : ছোটো মেসোমশাই-এর কারেকশানের কথা বাড়ির সবাই জেনে গেলে তপনের গল্প লেখার কৃতিত্ব খানিকটা কমে যায়। তপনের বাবা, কাকা, ছোটো মেসোমশাই-এর হাতের ছোঁয়াকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান। সেদিন পারিবারিক আলোচনায় তপনের গল্পের কথা উঠলেও নতুন মেসোর মহত্ত্বের কথা ঘুরে ফিরে আসে।

৬. “বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের”—কখন এবং কেন তপনের এরকম অনুভূত হয়েছিল?


   উত্তরঃ তপনের অনুভূতি : পুজোর ছুটির অনেকদিন পর ছোটোমাসি আর মেসোমশাই হাতে একখানা সন্ধ্যাতারা পত্রিকা নিয়ে তপনদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। সেই দিন তপনের এইরকম অনুভূতি হয়েছিল।
সাহিত্য রচনা এবং প্রকাশ সম্পর্কে তপনের দারুণ কৌতুহল ছিল তাই ছােটো মেসোমশাই তার লেখা গল্প সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপানোর জন্য যখন নিয়ে গিয়েছিলেন তখন তপন উৎসাহিত হয়। তবে অপেক্ষা করতে করতে তপন গল্প। প্রকাশের আশা ছেড়ে দিয়েছিল। ঠিক এই সময় ছোটো মাসি আর মেসোমশাই সন্ধ্যাতারা পত্রিকা নিয়ে তাদের বাড়িতে আসায় তার গল্প প্রকাশের আবেগ উৎকণ্ঠায় তপনের এরকম অনুভূতি হয়েছিল।

৭. পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে, কার মধ্যে কেন এমন ভাবনার উদয় হয়েছিল ?

   উত্তরঃ ভাবনার উদয় : গল্পের প্রধান চরিত্র তপনের মধ্যে এমন ভাবনার উদয় হয়েছিল। তপনের লেখা গল্প ছাপা হয়ে প্রকাশিত হবে। এটা ছিল তপনের কাছে কল্পনার অতীত। ফলে মেসোর হাতে সন্ধ্যাতারা পত্রিকা দেখে তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে। তবে কী সত্যিই তার গল্প ছাপা হয়েছে এবং সে লেখা হাজার হাজার ছেলের হাতে ঘুরবে। তপনের কাছে এটা একটা অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হয়।

৮. ‘যেন নেশায় পেয়েছে’-কীসের নেশা, কীভাবে তাকে নেশায় পেয়েছে?


   উত্তরঃ লেখার নেশা : আশাপূর্ণা দেবীর জ্ঞানচক্ষু গল্পে তপনের গল্প লেখার নেশার কথা বলা হয়েছে।
   লেখার প্রতি আসক্তি : তপন একজন সাহিত্য প্রেমী বালক। গল্প লেখা ও সেগুলি ছাপা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে তার প্রচণ্ড কৌতূহল ছিল। মাসির বিয়ের পর লেখক মেসোমশাইকে খুব কাছ থেকে দেখতে পায় এবং গল্প লেখার রহস্যও তার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। তপন একটি গল্প লিখে ছোটোমাসিকে দেখালে মাসি সেটা মেসোমশাইকে দেখায়। তখন তিন সেটা পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এতে আরও উৎসাহিত হয়ে তপন একের পর এক গল্প লেখার নেশায় মগ্নহয়ে ওঠে।

৯. ‘সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়’—সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যাওয়ার কারণ কী?

   উত্তরঃ শোরগোল পড়ে যাওয়ার কারণ : প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তপনের লেখা গল্প। ছেপে বেরোলে সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়। জ্ঞানচক্ষু গল্পে দেখা যায়—তপনের কাচা হাতের গল্পটিকে মেসো সংশোধন করে নিজের প্রভাব খাটিয়ে সন্ধ্যাতারা সম্পাদককে দিয়ে প্রকাশ করিয়েছেন। জীবনের প্রথম গল্প ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হলে অনাবিল উত্তেজনায় তপন আনন্দে মাতোয়ারা হয়। আর সেই খবরে সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়।
কমবেশি ১৫০ শব্দে উত্তর দাও :
                                 
রচনাধর্মী প্রশ্ন:

১) " পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে। "- কোন ঘটনাকে অলৌকিক বলা হয়েছে? অলৌকিক ঘটনার আনন্দ উদ্দিষ্ট ব্যক্তি উপভোগ করতে পারেনি কেন?

২) "তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন। "- কোন দিনটির কথা বলা হয়েছে? এরকম অনুভূতির কারণটি নিজের ভাষায় লেখো।

৩) " গল্প  ছাপা হলে যে ভয়ংকর আহ্লাদটা হবার কথা, সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না। "- কোন গল্পের কথা বলা হয়েছে? আহ্লাদ খুঁজে না পাওয়ার কারণটি ব্যক্ত করো।


📙📗📙📗📙📗📙📗📙📗📙📗

প্রশ্ন: মেসোমশাই যদি তপনের লেখা গল্পটির প্রকাশ না করত তাহলে গল্পের শেষের ঘটনাটি কেমন হতো বলে তোমার মনে হয় ?

বিংশ শতাব্দীর বাংলা কথা সাহিত্যের অন্যতম লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী। তাঁর লেখা 'কুমকুম' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত 'জ্ঞানচক্ষু' নামক গল্পে আমরা তপন নামক এক ছোট্ট বালকের কথা পাই।  তপন ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষে মামার বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে ছোটোমেসোকে দেখে জানতে পারে লেখকরাও তার বাবা,ছোটোমামা বা কাকুর  মতো রক্তমাংসের মানুষ। নতুন মেসোমশাইকে দেখে লেখকদের সম্পর্কে তপনের কাল্পনিক ধারণা সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। তখন তপনের মনেও লেখক হবার সাধ জাগে। তারপর সে নিজেও একটা গল্প লিখে ফেলে।গল্পটা তপন মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছিল।মাসি তখন মেসোমশাইকে অনুরোধ করলো সেটা পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার জন্য। মেসোমশাই সেটা ছাপালো কিন্তু তখন আর সেই লেখার মধ্যে তপনের লেখা কিন্তু কিছু ছিল না।

এখন কথা হচ্ছে যে লেখাটা যদি না ছাপা হতো তাহলে কী হতো লেখাটা না ছাপলে তপনের মধ্যে যে এই খারাপ লাগা যে অভিমান এই জিনিসটা কিন্তু জন্মাতো না। তার লেখক সত্ত্বাটা কিন্তু লজ্জিত হতো না। সে পরবর্তীকালে আরো লেখার অনুপ্রেরণা টা পেতে পারত কিন্তু এই ঘটনার পর সে কিন্তু আর  নিজের মতো করে লেখার সাহসটা  আর থাকল না। যে অপমানটা তার হলো সেটা নিজে বুঝতে পারলো যে আমার লেখাটা পুরোটাই পাল্টে দেওয়া হয়েছে সেই অপমানের ফলস্বরূপ যে কোন লেখা লিখতে ভয় পাবে।

আবার গল্পের প্রেক্ষিতে বলা যায় যে যদি লেখাটা না ছাপা না হতো তাহলে তপন একটা আশার মধ্যেই থেকে যেত যে লেখাটা হয়তো ছাপা হবে ছাপা হবে কিন্তু তার মনের মধ্যে যে লজ্জা যে অভিমান যে খারাপ লাগা সেটা কিন্তু জন্মাতো না ।

আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল বালক তপন গল্প ছাপা না হলে হয়ত আবার মামা বা মাসির বাড়ি গিয়ে গল্পের বিষয়ে খোঁজ নিত। গল্প লেখার বিষয়টা ঠিকভাবে বুঝে নিয়ে আবার গল্প লিখতে মনোনিবেশ করত।


প্রশ্ন: তপন তার মাসির বাড়ি বিয়ে উপলক্ষে না আসলে তপনকে কোন্ কোন্ সমস্যায় পড়তে হতো না বলে তুমি মনে করো?

বিংশ শতাব্দীর বাংলা কথা সাহিত্যের অন্যতম লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী। তাঁর লেখা 'কুমকুম' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত 'জ্ঞানচক্ষু' নামক গল্পে আমরা তপন নামক এক ছোট্ট বালকের কথা পাই।  তপন ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষে মামার বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে ছোটোমেসোকে দেখে জানতে পারে লেখকরাও তার বাবা,ছোটোমামা বা কাকুর  মতো সাধারন মানুষ। নতুন মেসোমশাই কে দেখে লেখকদের সম্পর্কে তপনের কাল্পনিক ধারণা সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। তখন তপনের মনেও লেখক হবার সাধ জাগে। তারপর সে নিজেও একটা গল্প লিখে ফেলে এবং লেখক মেসো কারেকশন করে সেটা ছাপিয়ে দেয়। যাইহোক তপন যদি মাসির বাড়ি বিয়ে উপলক্ষে না যেত তবে তপনকে কোন কোন সমস্যায় পড়তে হতো না সেটাই আমাদের বিবেচ্য বিষয়।

তপন বিয়ে উপলক্ষে মামার বাড়িতে না আসলে লেখক মেসোর সঙ্গে পরিচয় হত না। ফলে সাধারণ মানুষ যে গল্প লেখে সেটা তখন জানতে পারত না ।এর ফলে সে নিজে গল্প লেখার চেষ্টা করত না আর গল্প না লিখলে ছাপানোর বিষয়টাও আসত না। গল্প পত্রিকায় ছাপা হবে কি হবে না এই নিয়ে সময় অতিবাহিত না করে সে পড়াশোনায় মন দিতে পারত অর্থাৎ দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পেতে।

তপন গল্প লিখে ফেলেছে এবং সেটি পত্রিকায় ছাপাতে দেওয়া চলে এতে সে বাড়ির সকলের কাছে প্রশংসা পায়। কিন্তু যখন মেসো পত্রিকায় ছাপিয়ে গল্পটি নিয়ে আসেন তখন মেসোর মহত্ত্বের কথায় বারবার তাকে শুনতে হয়। এতে গল্প ছাপা হলে যে আনন্দ হওয়ার কথা সেই আনন্দ মাটি হয়ে যায়।

নতুন মেসো তপনের লেখা গল্পটি  আগাগোড়াই কারেকশন করেছিলেন। নতুন আনকোরা লাইন তপন আর পড়তে পারে না। বোবার মতো বসে থাকে। ফলে মায়ের কাছে ধমক খেতে হয়। যেদিনটিকে সবচেয়ে সুখের দিন ভাবে সেই দিনটি সবচেয়ে দুঃখের দিনে পরিণত হয়।

তপন মামার বাড়ি না গেলে নিজের লেখা গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়তে হতো না । তপনের আত্মমর্যাদাবোধ ছিল বলেই বিষয়টি তার কাছে ভীষণ দুঃখ ও অপমানের মনে হয়েছিল। অর্থাৎ তার যে গল্প লেখার নিজস্বতা বা মৌলিকতা সেটি কারেকশনের নামে আগাগোড়া গল্পটি পাল্টে দেওয়ার ফলে নষ্ট হয়ে যায়।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ