সিন্ধুতীরে – সৈয়দ আলাওল | Sindhutire | Sindhutire kobitar proshno uttor

সিন্ধুতীরে – সৈয়দ আলাওল

মূলগ্রন্থ : পদ্মাবতী, পদ্মা সমুদ্র খণ্ড

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো :

মক টেস্ট:

১. “বিস্মিত হইল বালা…।”—বালা কী দেখে বিস্মিত হয়েছিল ?

ক) সিন্ধুতীরে মাঞ্জস দেখে
খ) নিপতিতা কন্যার অচৈতন্য অবস্থা দেখে
গ) নিপতিতা কন্যার রূপের বাহার দেখে
ঘ) পঞ্চকন্যার চেতন দেখে
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: গ) নিপতিতা কন্যার রূপের বাহার দেখে

২. ‘সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস ।’— ‘মাঞ্জস’ শব্দটির অর্থ –

ক) ভেলা
খ) জাহাজ
গ) নৌকা
ঘ) ডিঙি
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ক) ভেলা

৩. সৈয়দ আলাওল যে সময়কার কবি, তা হলো –

ক) পঞ্চদশ শতক
খ) ষোড়শ শতক
গ) সপ্তদশ শতক
ঘ) অষ্টাদশ শতক
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: গ) সপ্তদশ শতক

৪. ‘পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।’ – পঞ্চকন্যা কটি দণ্ডের মধ্যে চেতন পেয়েছিল ?

ক) তিন
খ) চার
গ) পাঁচ
ঘ) ছয়
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) চার

৫. সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের যে খন্ড থেকে গৃহীত-

ক) পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড
খ) দেশযাত্রা খণ্ড
গ) নাগমতী -সন্দেশ খণ্ড
ঘ) পদ্মাবতী- রত্নসেন ভেঁট খণ্ড
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ক) পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড

৬. অচৈতন্য পদ্মাবতীর সঙ্গে তার যতগুলি সখী ছিল-

ক) পাঁচজন
খ) চারজন
গ) তিনজন
ঘ) ছয়জন
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) চারজন

৭. পদ্মাবতীর রূপ দেখে সমুদ্রকন্যা যা অনুমান করেছিলেন-

ক) তিনি স্বর্গের কোন অপ্সরী
খ) স্বর্গের কোন দেবী
গ) ইন্দ্রশাপে অভিশপ্তা কোনো স্বর্গভ্রষ্টা বিদ্যাধরী
ঘ) কোনো রাজ্যের রাজকন্যা
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: গ) ইন্দ্রশাপে অভিশপ্তা কোনো স্বর্গভ্রষ্টা বিদ্যাধরী

৮. “বাহুরক কন্যার জীবন”- বাহুরক শব্দের অর্থ কি?

ক) বর্ণবহুল
খ) ফিরে আসুক
গ) বলীয়ান
ঘ) বাহু দ্বারা আচ্ছাদিত
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) ফিরে আসুক

৯. সমুদ্রকন্যা পদ্মার বাগানে যে গাছ ছিল-

ক) সুগন্ধি পুষ্পবৃক্ষ
খ) সুলক্ষণ ফলবৃক্ষ
গ) ক ঠিক খ ভুল
ঘ) ক ও খ নির্ভুল
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) ক ও খ নির্ভুল

১০. ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ হলো-

ক) পদ্মা
খ) পদ্মাবতী
গ) মনোরমা
ঘ) বিদ্যাধরী
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ক) পদ্মা

১১. ‘অতি মনোহর দেশ’ বলতে বোঝানো হয়েছে-

ক) সমুদ্রকে
খ) চিতোরকে
গ) সিংহলকে
ঘ) সমুদ্রের পাশে পার্বত্য অঞ্চলকে
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) সমুদ্রের পাশে পার্বত্য অঞ্চলকে

১২. “তাহাতে বিচিত্র টঙ্গি…”-‘টঙ্গি’ শব্দের অর্থ-

ক) ছবি
খ) গাছপালা
গ) তিরধনুক
ঘ) প্রাসাদ
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ঘ) প্রাসাদ

১৩. সিন্ধুতীরের ওপরের পর্বত ছিল-

ক) ঘর-বাড়িতে পূর্ণ
খ) ফল-ফুলে সজ্জিত
গ) পশুপাখিতে ভরা
ঘ) জল-মানুষে পূর্ণ
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: খ) ফল-ফুলে সজ্জিত

১৪. “রূপে অতি রম্ভা জিনি”- রম্ভা হলেন-

ক) অপ্সরা
খ) দেবী
গ) দাসী
ঘ) সখী
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ক) অপ্সরা

১৫. “চিত্রের পোতলি সমা নিপতিত মনোরমা…”-এখানে ‘চিত্রের পোতলি সমা’ হলেন-

ক) পদ্মাবতী
খ) পদ্মা
গ) নাগমতী
ঘ) বিজয়া
উত্তর দেখুন

সঠিক উত্তর: ক) পদ্মাবতী


অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর: প্রশ্নের মান -১

১ “সিন্ধুতীরে দেখি দিব্যস্থান।” ‘দিব্যস্থান’ কেমন ছিল?

উত্তর: সৈয়দ আলাওয়াল রচিত ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্রের তীরে পাহাড়ের নিচে দুঃখ-ক্লেশহীন মনোরম, সত্যধর্ম এবং সদাচার বিশিষ্ট স্থান ছিল দিব্যপুরী।

২. “বিস্মিত হইল বালা…” বালা কী দেখে বিস্মিত হয়েছিল?

উত্তর: সমুদ্ররাজের কন্যা পদ্মা সিন্ধুতীরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা কন্যার রূপসৌন্দর্য দেখে বিস্মিত হয়েছিল।

৩. “সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস।”-‘মাঞ্জস’ শব্দের অর্থ কী ?

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত ‘মাঞ্জস’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হল ভেলা বা নৌকা।

৪. “দেখিয়া রূপের কলা বিস্মিত হইল বালা / অনুমান করে নিজে চিতে।”-‘বালা’ কী অনুমান করেছিল? [মাধ্যমিক, ২০১৭]

উত্তর: সমুদ্রতীরে অপূর্ব সুন্দরী অচেতন কন্যা পদ্মাবতীকে দেখে সমুদ্রকন্যা পদ্মা অনুমান করেছিলেন যে ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গের অপ্সরা বিদ্যাধরি স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে অচেতন অবস্থায় সেখানে পড়ে রয়েছেন।

৫. “কন্যারে ফেলিল যথা”-কন্যাকে কোথায় ফেলা হল? [মাধ্যমিক, ২০১৮]

উত্তর: ‘কন্যা’ অর্থাৎ সিংহল-রাজকন্যা পদ্মাবতীকে সমুদ্রের মধ্যে এক দিব্যপুরীতে ফেলা হয়।

৬. “সখী সবে আজ্ঞা দিল” বক্তা তার সখীদের কী আজ্ঞা দিয়েছিলেন? [মাধ্যমিক, ২০১৯]

উত্তর: সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাঁর সখীদের পদ্মাবতী-সহ তাঁর চার সখীকে বসনাবৃত করে উদ্যানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ও উপযুক্ত পরিচর্যার আজ্ঞা দিয়েছিলেন।

৭. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ”-কন্যা কোথায় থাকে? [মাধ্যমিক, ২০২৩]

উত্তর: উল্লিখিত অংশে সমুদ্রের তীরে পদ্মা ফুলে-ফুলে পরিপূর্ণ যে উদ্যান তৈরি করেছিলেন সেখানে তাঁরই নির্মিত সুরম্য প্রাসাদে সমুদ্রকন্যা পদ্মার থাকার কথা বলা হয়েছে।

৮. ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

৯. “সিন্ধুতীরে রহিছে মাঞ্জস”-কে এই মাঞ্জুস দেখেছিলেন?

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্রকন্যা পদ্মা এই মাঞ্জস দেখেছিলেন।

১০. “কিঞ্চিৎ আছয় মাত্র শ্বাস” কার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে সমুদ্রতীরে অচেতন পদ্মাবতীর কথা বলা হয়েছে।

১১. “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।”-পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতনা ফিরে পেল?

উত্তর: সমুদ্রকন্যা পদ্মার সখীদের সেবাশুশ্রুষায় পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পেল।

১২. “শ্রীযুত মাগন গুণী”- মাগন গুণীর পরিচয় দাও।

উত্তর: মাগন গুণী ছিলেন আরাকানরাজ থদো-মিন্ডারের অমাত্যপ্রধান। যিনি আলাওলকে গ্রন্থ রচনায় উৎসাহ দেন।

ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর : প্রশ্নের মান – ৩

১. বিস্মিত হইল বালা।”-বালা কে? তাঁর বিস্ময়ের কারণ কী? ১+২

উত্তর: আলোচ্য অংশে ‘বালা’ বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মার কথা বলা হয়েছে।

▶ পদ্মা তাঁর সখীদের সঙ্গে নিয়ে সিন্ধুতীরে নিজের সুরম্য উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন। সেইসময় সমুদ্রের ধারে একটি ভেলা পড়ে থাকতে দেখে কৌতূহলী পদ্মা সেখানে যান এবং দেখেন যে, চারদিকে চার সখী-সহ এক অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। ওই মেয়েটির সৌন্দর্য স্বর্গের অপ্সরা রম্ভাকেও পরাজিত করে; তা দেখেই পদ্মা বিস্মিত হয়েছিলেন।

২. “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।”- এখানে ‘পঞ্চকন্যা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাঁরা কীভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছিল? ১+২

উত্তর : ◼️সৈয়দ আলাওল রচিত ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় ‘পঞ্চকন্যা’ হলেন সিংহল-রাজকন্যা পদ্মাবতী, চন্দ্রকলা (চন্দ্রপ্রভা), বিজয়া, রোহিণী এবং বিধুন্নলা।

▶ পদ্মার আদেশে তাঁর সখীরা অচেতন পদ্মাবতী ও তাঁর সখীদের দেহ বস্ত্রে ঢেকে উদ্যানের মধ্যে নিয়ে যান। তারপরে তন্ত্র-মন্ত্র-মহৌষধি সহযোগে তাদের মাথায় এবং পায়ে আগুনের সাহায্যে সেঁক দেওয়া হয়। এইভাবে চার দণ্ড বহু যত্ন-সহ চিকিৎসা করার ফলে পঞ্চকন্যা প্রাণ ফিরে পান।

৩. ‘অতি মনোহর দেশ’-এই ‘মনোহর দেশ’-এর সৌন্দর্যের পরিচয় দাও। ৩

উত্তর : আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ মুসলমান কবি সৈয়দ আলাওল বিরচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যাংশে সমুদ্রকন্যা পদ্মার প্রমোদ-উদ্যান সংবলিত দ্বীপভূমিকে এখানে ‘মনোহর দেশ’ বলা হয়েছে। ‘মনোহর’ কথাটির অর্থ হল ‘অতিসুন্দর’ বা ‘রমণীয়’। সমুদ্রকন্যা পদ্মার দ্বীপভূমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনবদ্য। ঘননীল সমুদ্রঘেরা দ্বীপের মাঝে রয়েছে পুষ্পশোভিত এক সুরম্য পর্বত-

“উপরে পর্বত এক ফল ফুলে অতিরেক”

তার পাশেই একটি মনোহর উদ্যান, যা ছিল পুষ্পশোভিত ও নানা ফলবৃক্ষ যুক্ত। এখানে দুঃখকষ্টের কোনো বালাই নেই, সদাই সত্যধর্ম ও সদাচার বিরাজিত। এই আত্মগুণেই এ দ্বীপভূমি মনোহর।

৪. “কৃপা কর নিরঞ্জন”-বক্তা কে ? বক্তার প্রার্থনার কারণ কী ? ১+২

উত্তর : সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটির বক্তা সমুদ্ররাজার কন্যা পদ্মা।

■ সখীদের সঙ্গে সমুদ্রতীরে ভ্রমণকালে পদ্মা রাজবধূ পদ্মাবতীকে অচেতন অবস্থায় দেখেন। তাকে দেখে পদ্মার হৃদয় দয়ায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি স্নেহশীলা মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যাতে বিধাতা পদ্মাবতীর প্রাণরক্ষা করেন। তাঁকে যেন নিরাশ না-হতে হয়- ‘বিধি মোরে না কর নৈরাশ।’ পিতার পুণ্যের জোরে এবং নিজের ভাগ্যবলে তিনি অচেতন কন্যার প্রাণরক্ষার সংকল্প করেন। সেইসঙ্গে তিনি প্রাণপণে পদ্মাবতীর চিকিৎসা করার কথাও বলেন। নিজের এই মনোবাসনা পূরণের জন্যই তিনি বারবার ঈশ্বরের দয়াভিক্ষা করেছেন।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর : প্রশ্নের মান -৫

১. “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।”- ‘পঞ্চকন্যা’ কারা? কার চেষ্টায় কীভাবে পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পেল? ২+৩

উত্তর: ◼️সৈয়দ আলাওল রচিত ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় ‘পঞ্চকন্যা’ হলেন সিংহল-রাজকন্যা পদ্মাবতী, চন্দ্রকলা (চন্দ্রপ্রভা), বিজয়া, রোহিণী এবং বিধুন্নলা।

◼️◼️ঝড়ে সিংহল থেকে ফেরার পথে রাজা রত্নসেনের মান্দাস বা ভেলা ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেলে পঞ্চকন্যা সমুদ্রের তীরে এসে ঠেকে। সেখানে পদ্মা তাঁর সখীদের নিয়ে সকালে মনোরম, ফুলে-ফলে ভরা বিচিত্র সুন্দর বাগানে বেড়াতে এসে দেখেন চারদিকে চার কন্যাসহ মধ্যে এক কন্যা অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। তাদের অল্প শ্বাস আছে দেখে পদ্মার আদেশে সখীরা তাদেরকে প্রথমে বাগানে নিয়ে আসেন। এরপর তাদের শরীর বসনে ঢেকে দেন, প্রাণ বাঁচানোর জন্য তিনি মহাদেবকে স্মরণ করে বলেন-

“পিতার পুণ্যের ফলে মোহর ভাগ্যের বলে

বাহুরক কন্যার জীবন।”

সখীরা এরপর আগুন জ্বালিয়ে হাত পা মাথা সেঁকে দেন। এরপর তন্ত্র-মন্ত্র-মহৌষধ দিয়ে প্রায় চারদণ্ড সেবা শুশ্রুষা করার পর পাঁচ জনের চেতনা ফিরেছিল।

Your Cart

Scroll to Top