বংশগতি ও পরিবেশের প্রভাব |Influence of Heredity and Environment |Child Psychology |BanglaSahayak.com

Influence of Heredity and Environment

TET CDP • সম্পূর্ণ সিলেবাস নোটস ভেরিফায়েড পাঠ্যক্রম

Madhyamik Bengali Suggestion and Practice Set

🎯 মাধ্যমিক ২০২৭-এর বাংলা প্রস্তুতিতে সেরা সাফল্য নিশ্চিত করতে চাও? 🎯 পড়াশোনাকে আরও সহজ, নিখুঁত এবং লক্ষ্যভিত্তিক করতে...

 বংশগতি ও পরিবেশের প্রভাব

বংশগতি (Heredity): 

মানুষ জন্মের
সময় পূর্বপুরুষদের যেসব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে তার সমবায়কে সেই ব্যক্তির বংশগতি
বলা হয়
।

●বংশগতির
ধারক ও বাহক
– জিন।      

● জিনতত্ত্বের
জনক
– মেন্ডেল।

□ বংশগতিকে
অনেকে দু’ভাগে ভাগ করে 
থাকেন–
জৈবিক বংশগতি ও মানসিক
 বংশগতি।

জৈবিক বংশগতি : 

যেসব
দৈহিক বৈশিষ্ট্যগুলি শিশু তার পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে পায় তার সমবায়কে বোঝায়
। জৈবিক বা দেহগত বংশগতি
ওজন
,
উচ্চতা
,শরীরের
গঠন
,
চোখের রং
,
চুলের রং
, প্রভৃতির উপর নির্ভর
করে
।

মানসিক বংশগতি : 

মানসিক
বংশগতি বলতে বোঝায় শিশুর
সেইসব মানসিক
বৈশিষ্ট্য
,
ক্ষমতা এবং প্রবণতার সমন্বয় যা জন্ম
মুহূর্তে তার
মধ্যে থাকে
। মানসিক বংশগতি প্রবৃত্তি, প্রক্ষোভ,বুদ্ধি বিশেষ
ক্ষেত্রে দক্ষতা ইত্যাদির
উপর নির্ভর
করে
।

প্রতক্ষ বংশগতি : 

শিশু
তার বাবা-মার কাছ থেকে যে
গুণগুলি পায়
তাকে প্রত্যক্ষ বংশগতি বলে
।

পরোক্ষ বংশগতি : 

বাবা
মা ছাড়া অন্যান্য পূর্বপুরুষদের
কাছ থেকে যা
পায় তাকে পরোক্ষ বংশগতি বলে
।

□ স্যার ফ্রান্সিস গ্যাল্টন  তাঁর  Law of ancestral
inheritance-
এ উল্লেখ
করেছেন
–

■কোনো
শিশু তার বৈশিষ্ট্যের অর্ধেক অংশ
(১/২) পায়
পিতামাতার কাছ থেকে
।

■এক-চতুর্থাংশ
(১/৪) পায় দাদু–দিদিমা শ্রেণির
পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে
।

■এক অষ্টমাংশ(১/৮) পায় তার পূর্ববর্তী বংশধরদের কাছ
থেকে
।

             বংশগতির সূত্র

প্রাথমিক নিয়ম : প্রত্যেক
প্রাণীই তার নিজের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণিরই জন্মদানে সক্ষম
।

 দ্বিতীয় নিয়ম : পার্থক্যের
সূত্র
।

তৃতীয় নিয়ম: Law of final regression  [প্রত্যেক
মানুষের প্রবণতা
 গড়ের দিকে
যাওয়া
]  

চতুর্থ নিয়ম : অর্জিত
বৈশিষ্ট্যের বংশানুক্রমিক সঞ্চালন হয়
।

                      

 মানসিক বৈশিষ্ট্য ও বংশগতি

অনেক মনোবিদ্ আছেন যাঁরা মানসিক
বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র বংশগতির উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ
করেছেন তাদের বলা হয় বংশগতিবাদী
।

এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য– গ্যাল্টন, কার্ল পিয়ারসন, ডাগডেল, গডার্ড , টারম্যান
।

বংশগতিবাদীদের সমীক্ষা :

গ্যাল্টনের সমীক্ষা : 

গ্যাল্টন ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর Hereditary
Genius –
বইয়ে
 ৯৭৭ জন বিখ্যাত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনদের জীবন পর্যালোচনা
করে দেখেন
।
এদের মধ্যে ৫৩৬ জন কোনও
না  কোনও  ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত।

গডার্ড–এর সমীক্ষা : 

১৯১৪ সালে গডার্ড কালিকক পরিবারের উপর সমীক্ষা করেন।

ডাগডেল–এর সমীক্ষা : 

ডাগডেল জিউক নামে এক কয়েদির পাঁচ পুরুষের কুলপঞ্জি পরীক্ষা করে দেখেন যে তাঁর বংশের বেশিরভাগ মানুষ জেলখানার কয়েদি, খুন,চোর ইত‍্যাদি।

টারম্যান–এর সমীক্ষা : 

টারম্যান
১০০০ ছেলে-মেয়ের বুদ্ধির
পরিমাপ করেন।

       

পরিবেশ (Environment)

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষকে
যেসব উদ্দীপক উত্তেজিত করে তার সমবায়ই হল পরিবেশ
।
পরিবেশ বলতে ব্যক্তির জীবনের উপর প্রভাব বিস্তারকারী বিভিন্ন উপাদানকে বোঝায় যেমন
– সংস্কৃতি , অর্থনীতি, বৌদ্ধিক, নৈতিক, প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক, উপাদানকে।

পরিবেশের উপাদানের উৎসগুলি
পরিবার
, প্রতিবেশী, বন্ধুগোষ্ঠী,  বিদ্যালয় প্রভৃতি থেকে আসে।

মনোবিদগণ পরিবেশকে
দুইভাগে ভাগ করেন
। যেমন–

প্রাক্ ভূমিষ্ঠ
পরিবেশ ও
উত্তর ভূমিষ্ঠ
পরিবেশ
।

প্রাক্ ভূমিষ্ঠ
পরিবেশ
:  

গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক উত্তেজনা ভ্রূণকে
প্রভাবিত করে
। মায়ের আঘাত লাগলে,  মা খুব জোরালো ওষুধ খেলে , বা মায়ের
কোনো অসুখ করলে শিশুকে তা নানাভাবে প্রভাবিত করে
। এই
ধরনের প্রভাবকে প্রাক্ ভূমিষ্ঠ পরিবেশ বলে
।

 উত্তর ভূমিষ্ঠ পরিবেশ: 

ভূমিষ্ঠ
হওয়ার পর যেসব প্রাকৃতিক শক্তি
ব্যক্তিজীবনে
মৃত্যু পর্যন্ত সক্রিয় থাকে তাকে উত্তর
ভূমিষ্ঠ
পরিবেশ বলে
। যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিদ্যালয়
পরিবেশ
,
সামাজিক পরিবেশ
,
পারিবারিক পরিবেশ
,
কর্ম
পরিবেশ  ইত্যাদি।

 

মানসিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশ

বহু মনোবিদ আছেন যাঁরা বংশগতির গুরুত্বকে একেবারে
স্বীকার করেন না তাদের ধারণা ব্যক্তিজীবনের
বিকাশ তাদের
পরিবেশের দ্বারা নির্ধারিত হয়
। এঁদের পরিবেশবাদী
বলা হয়
।

পরিবেশবাদীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ওয়াটসন,  জন লক, ক্যাটেল,  ইস্টারব্রুক,  বারবারা বার্কস প্রমুখ।

 মনোবিদ ওয়াটসন বলেছেন – “আমাকে একজন
সুস্থ স্বাভাবিক শিশু

দিন আমি ইচ্ছামতো যেকোনো দিকে তাদের বিকাশ
নিয়ন্ত্রণ করে পরিপূর্ণতা
এনে দিতে
পারি
।“

ইস্টারব্রুক , ক্যাটেল, বারবারা বার্কস প্রমুখ বংশগতিবাদীদের সমীক্ষার বিরোধিতা করে বিভিন্ন পরীক্ষার দ্বারা বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবেশকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।

আধুনিক ধারণা :

□ আধুনিক মনোবিদরা স্বীকার করেছেন–ব্যক্তিজীবনের
বিকাশ বংশগতি এবং পরিবেশ এই দুই উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়ার দ্বারাই নির্ধারিত
হয়
।

মনোবিদ আলপোর্ট–এর মতে –       Personality = Heredity ×Environment


শিক্ষায় বংশগতি ও পরিবেশ

১। বংশগতি অনুশীলন (মানসিক অভীক্ষা)   ২। বিদ্যালয় পরিবেশ (শিক্ষা উপযোগী পরিবেশ, গ্রন্থাগার)   ৩। পারস্পরিক সম্পর্ক (শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আদর্শ সম্পর্ক)              ৪। অবসরযাপনের শিক্ষা   ৫। স্বাধীনতা         ৬। নির্দেশনা

পরিশেষে বলা যায়,  বংশগতি শিক্ষার্থীদের জীবন বিকাশের প্রারম্ভিক
পরিচয় মাত্র আর পরিবেশ তার বিকাশের গতি নির্ণায়ক
।



শিশুর বিকাশ- ধারনা ও নীতিসমূহ

সামাজিকীকরণ

পিয়াজেঁর জ্ঞানমূলক বিকাশ তত্ত্ব

Your Cart

error: Content is protected !!
Scroll to Top