শঙ্খ ঘোষ :
জন্ম : ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২
মৃত্যু
: ২১ এপ্রিল ২০২১
প্রকৃত নাম: চিত্তপ্রিয় ঘোষ
ছদ্মনাম: কুন্তক
▶️ শঙ্খ ঘোষ ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি ও সাহিত্য সমালোচক, রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ও শক্তিমান সাহিত্যিক। তিনি কাব্য সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ দাসের উত্তরসূরী ছিলেন।
তাঁর প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। মাতা অমলাবালা, পিতা সুশিক্ষক বাংলা ভাষার সম্মানিত বিশেষজ্ঞ মণীন্দ্রকুমার ঘোষ। তিনিও শিক্ষকতা করেছেন সারা জীবন।যাদবপুর, দিল্লি ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপনা করেছেন। ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থটির জন্য তিনি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার ‘সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার‘ লাভ করেন।১৯৮৯ সালে- “ধুম লেগেছে হৃদকমলে” কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার পান। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে লাভ করেন ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান, ‘জ্ঞানপীঠ পুরস্কার‘।
কাব্যগ্রন্থ :
দিনগুলি রাতগুলি (১৯৫৬)
এখন সময় নয় (১৯৬৭)
নিহিত পাতালছায়া (১৯৬৭)
শঙ্খ ঘোষের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৭০)
মূর্খ বড় সামাজিক নয় (১৯৭৪)
বাবরের প্রার্থনা (১৯৭৬)
পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ (১৯৮০)
মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে (১৯৮৪)
ধুম লেগেছে হৃদকমলে (১৯৮৪)
কবিতাসংগ্রহ – ২ (১৯৯১)
লাইনেই ছিলাম বাবা (১৯৯৩)
জলই পাষাণ হয়ে আছে (২০০৪)
গদ্যগ্রন্থ :
কালের মাত্রা ও রবীন্দ্রনাটক (১৯৬৯)
ছন্দের বারান্দা (১৯৭২)
উর্বশীর হাসি (১৯৮১)
শব্দ আর সত্য (১৯৮২)
ছোটো ও কিশোরদের জন্যে লেখা :
বিদ্যাসাগর (১৯৫৬)
সকালবেলার আলো (১৯৭২)
শব্দ নিয়ে খেলা : বানান বিষয়ক বই {কুন্তক ছদ্মনামে লেখা } (১৯৮০)
রাগ করো না রাগুনী (১৯৮৩)
সব কিছুতেই খেলনা হয় (১৯৮৭)
সুপারিবনের সারি (১৯৯০)
আমন ধানের ছড়া (১৯৯১)
কথা নিয়ে খেলা (১৯৯৩)
ছোট্ট একটা স্কুল (১৯৯৮)
বড় হওয়া খুব ভুল (২০০২)
চারপাশের অরাজকতা, ধর্ম কিংবা রাজনীতি —প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসহিষ্ণুতা, সাম্রাজ্যবাদের সীমাহীন লোভ পৃথিবী জুড়ে হত্যা আর ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে । বেঁচে থাকাটাই যেন এক বিস্ময় হয়ে উঠেছে । শিশুরা পর্যন্ত এই ধ্বংসলীলা থেকে রেহাই পাছে না । এই অবস্থায় প্রতিটি মানুষই যেন বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তায় ভুগছে । সর্বোপরি, এই পরিজনহীন অবস্থাতে বেঁচে থাকা যেন মৃত্যুর মতো যন্ত্রনাদায়ক । এ কারণেই কবি প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি করেছেন ।
৩. “আমাদের ইতিহাস নেই” — কে, কেন এ কথা বলেছেন ? [মাধ্যমিক-২০১৮]
উঃ- কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর রচিত “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতায় প্রশ্নের উদ্ধৃত অংশটির কথা বলেছেন ।
ইতিহাস হল কোনো জাতির এবং সভ্যতার আত্মবিকাশের পথ ও পর্যায়ের কাহিনি । কিন্তু যখন সেই ইতিহাস নিয়ন্ত্রিত হয় কোনো ক্ষমতাবান গোষ্ঠী, ধর্মসম্প্রদায় কিংবা রাজনীতির দ্বারা, তখন ইতিহাসের বিকৃতি ঘটে । ক্ষমতাবানরা নিজেদের স্বার্থে ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে গড়ে তোলে । মানুষ একসময় ভুলে যায় তার প্রকৃত ইতিহাস, আর চাপিয়ে দেওয়া ইতিহাসকেই নিজের বলে মেনে নেয় । এই পরিপ্রেক্ষিতেই এখানে কবি বলেছেন আমাদের ইতিহাস নেই ।
৩. “আমাদের পথ নেই কোনো”- ‘পথ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ? কবির এমন আশঙ্কার কারণ ব্যাখ্যা করো ।
উত্তর: আলোচ্য অংশটি কবি শঙ্খ ঘোষ রচিত ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার অন্তর্গত। এখানে ‘পথ’ বলতে অবক্ষয়ের যুগে আদর্শহীনতা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে নতুন ভাবে বাঁচার উপায় বা দিশাকে বোঝানো হয়েছে ।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ,দাঙ্গা , রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা মানুষকে দিশেহারা করে তুলেছে। মানুষ আজ সন্ত্রাস আর বঞ্চনার শিকার। জীবনের প্রতি পদে প্রতিবন্ধকতা তার অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছে ।তাই কবির আশঙ্কা এই অন্ধকারের আবর্ত থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের আর বুঝি কোনো উপায় নেই।
৩. “আমরা ভিখারি বারোমাস।”- কোন্ পরিস্থিতিতে ‘আমরা’ বারোমাস ভিখারি? এই অবস্থায় কী দরকার বলে কবি মনে করেন?
৩+২
উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘আমরা’ হল শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের দল। গোটা পৃথিবী জুড়ে অগণিত মানুষ যুদ্ধের শিকার। তাদের ডান দিকে ধ্বস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথার উপরে বোমারু বিমানের আক্রমণ, চলার পথে বরফ- অর্থাৎ চারিদিকে বাধা। চারিদিকে শুধু মৃত্যুর হাতছানি। চালচুলোহীন অসহায় মানুষগুলোর পাশে কেউ নেই। কেউ এদের খবর রাখেনা। এদের ইতিহাস কেউ জানেনা। জীবনকে কোনোরকমে টিকিয়ে রাখতে গেলে হতে হয় অন্যের কৃপাপ্রার্থী তাই সারাবছর এরা গরীব, এরা ভিখারি, এরা নিঃস্ব-রিক্ত।
** কবি মনে করেন, এই অবস্থায় বেঁচে থাকতে গেলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, হাতে হাত মেলাতে হবে, গড়ে তুলতে হবে মানববন্ধন। শক্ত হাতে লড়তে হবে। যেখানে যারা আছে সবাইকে আরো কাছাকাছি আসতে হবে। বেঁচে থাকার ইচ্ছা মানুষের সহজাত। মৃত্যু জীবনের শাশ্বত সত্য জেনেও কেউ মরতে চায়না, তাই দীপ্ত কণ্ঠে কবি লড়াই করার ডাক দিয়েছেন। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই না করলে দেশ-মানুষ-সভ্যতা-সংস্কৃতি
সব ধ্বংস হয়ে যাবে বলে কবির বিশ্বাস।

