অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান – জয় গোস্বামী
মূলগ্রন্থ : পাতার পোশাক
১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার প্রথম পংক্তিটি হলো—
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) অস্ত্র ফ্যালো , অস্ত্র রাখো পায়ে
২. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটির উৎস হলো –
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) পাতার পোষাক
৩. কোনটি জয় গোস্বামীর লেখা কাব্যগ্রন্থ?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলি
৪. “গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে”- কে গান বাঁধবে?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) কোকিল
৫. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি অস্ত্র রাখতে বলেছেন-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ঘ) গানের দুটি পায়ে
৬. “গান দাঁড়াল ঋষিবালক” -‘ঋষিবালক’ এখানে-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) পবিত্রতার প্রতীক
৭. কবি কীভাবে বুলেট তাড়ান?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) হাত নাড়িয়ে
৮. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় স্তবকের সংখ্যা-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: ক) তিনটি
৯. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় পঙক্তির মোট সংখ্যা-
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: গ) ১৮টি
১০. “গান তো জানি একটা দুটো”- সেই গানকে কার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর দেখুন
সঠিক উত্তর: খ) খড়কুটোর
📒 কম-বেশি ২০ টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও:
১. “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো”-কোথায় অস্ত্র রাখার কথা বলা হয়েছে?
▶ কবি জয় গোস্বামী ‘গানের দুটি পায়ে’ অর্থাৎ মানুষের সৃজনশীলতার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করতে বলেছেন।
২. “রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে”- কথাটির অর্থ কী?
▶ কবি জয় গোস্বামী মনে করেন যে গানের রয়েছে সেই শোষণক্ষমতা, যা পৃথিবী থেকে সমস্ত রক্তাক্ততার অবসান ঘটাতে পারে।
৩. “তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান”-গান কোথায় বেড়াবে?
▶ ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি জানিয়েছেন গান পাঠককে নিয়ে নদীতে দেশগাঁয়ে বেড়ায়।
৪. “গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে”-গানের বর্ম পরিধান করে কবি কোন্ কাজ করতে পারেন?
▶ ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কবি জানিয়েছেন যে, গানের বর্ম পরে তিনি হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াতে পারেন।
৫. “আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো” কবি ‘খড়কুটো’ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
▶ কবি জয় গোস্বামী ‘খড়কুটো’ বলতে তাঁর জানা একটা-দুটো গানের কথা বলেছেন।
৬. “মাথায় কত শকুন বা চিল”-শকুন এবং চিলেরা কীসের প্রতীক?
▶ ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় উল্লেখিত শকুন এবং চিলেরা যুদ্ধবাজদের হিংস্রতা এবং নৃশংসতার প্রতীক।
৭. “আমার শুধু একটা কোকিল”-কোকিল কীসের প্রতীক?
▶ জয় গোস্বামী রচিত ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কোকিল মানুষের অন্তর্গত সৃজনশীলতার প্রতীক।
৮. “আমার শুধু একটা কোকিল”-কোকিলটি কী করে?
▶ বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে চারপাশের নৃশংসতা ও হিংস্রতার মধ্যে কোকিলটি হাজার উপায়ে গান বাঁধে, শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
৯. ‘বর্ম খুলে দ্যাখো…” বর্ম খুললে কী দেখা যায়?
◾কবির কথা অনুযায়ী, বর্ম খুললে দেখা যায় গান ঋষিবালকের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
১০. “গান দাঁড়াল ঋষিবালক”-এ কথা বলার অর্থ কী?
◼️গান শুধু প্রতিবাদের বাহন নয়, যুদ্ধের শেষে গানের মধ্যে স্নিগ্ধতা ও শক্তিও খুঁজে পাওয়া যায়। আর তখন গান হয়ে যায় ‘ঋষিবালক’-এর মতো স্নিগ্ধ ও শান্ত।
১১. “গান দাঁড়াল ঋষিবালক”-ঋষিবালকের মাথায় কী ছিল?
◼️যে গানকে কবি জয় গোস্বামী ‘ঋষিবালক’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, তার মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা ছিল।
১২. ‘অস্ত্র’ ও ‘গান’ শব্দ দুটি কবিতায় কতবার করে আছে?
▶ কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় ‘অস্ত্র’ শব্দটি ছ-বার এবং ‘গান’ শব্দটি সাতবার ব্যবহার করেছেন।
📔কম-বেশি ১৫০ টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও:
১ ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখো।
অথবা, ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটিতে কবির যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের যে প্রকাশ ঘটেছে তা নিজের ভাষায় বিবৃত করো।
অথবা “অস্ত্র রাখো, অস্ত্র ফ্যালো পায়ে”- এমন আবেদনের কারণ কী ? কবিতা অনুসারে কবির মনোভাব ব্যক্ত করো ।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘’অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধলিপ্সা ও হিংস্রতার বিরুদ্ধে সুস্থ রুচি, নান্দনিকতা ও শুভবুদ্ধির এক অনবদ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।
অস্ত্রের বিপরীতে গানের শক্তি:
কবি মনে করেন, অস্ত্র হলো ধ্বংস, বিভেদ ও সভ্যতা-বিরোধী হিংসার প্রতীক। অন্যদিকে, গান হলো সাম্য, সুন্দর ও অনাবিল ভালোবাসার প্রকাশ। অস্ত্রের উদ্ধত আক্রমণ ও বুলেটকে প্রতিহত করতে কবি গানকেই একমাত্র হাতিয়ার ও সুরক্ষাকবচ (বর্ম) হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
ঐক্য ও মানবতার জয়:
যুদ্ধবাজদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে গান মানুষকে এক আশ্চর্য সংহতি ও একতার বন্ধনে বাঁধে। কবি বিশ্বাস করেন, গান মানুষের অন্তর্গত সত্তাকে জাগিয়ে তোলে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করে বলতে পারে—
“অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে”।
শান্তি ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা:
গানের ভেলায় ভেসে কবি রক্তস্নাত পৃথিবীর বুক থেকে হিংসা মুছে দিয়ে স্নিগ্ধ ঋষিবালক কিংবা কোকিলের মোহময় সুরের মতো শান্তি ফিরিয়ে আনতে চান।
উপসংহার:
কবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, অস্ত্রের আস্ফালন কখনো শেষ কথা হতে পারে না। চূড়ান্ত জয় হবে মানুষের সৃজনশীলতা ও শুভবুদ্ধির। তাই সমস্ত ক্ষমতা ও স্বৈরাচারী দম্ভকে পরাস্ত করে একদিন যুদ্ধবাজেরাও গানের পায়ে সব অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং দেশ-গাঁয়ে মানবতার জয় ঘোষিত হবে।
২. “গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে”-গানের বর্ম পরার প্রয়োজনীয়তা কী তা ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটি অবলম্বনে আলোচনা করো।
অথবা, গান কীভাবে অস্ত্রের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে তা ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতা অবলম্বনে লেখো।
অথবা, “অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে”-অস্ত্রের বিরুদ্ধে গানকে কবি কীভাবে প্রতিষ্ঠা করছেন?
ভূমিকা:
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি জয় গোস্বামী তাঁর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় যুদ্ধবাজদের হিংস্রতা ও সাম্রাজ্যবাদী দম্ভের বিরুদ্ধে সুস্থ রুচি, নান্দনিকতা ও শুভবুদ্ধির এক অনবদ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। সেখানে ‘গান’ কেবল বিনোদন নয়, বরং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে এক অপরাজেয় হাতিয়ার।
সুরক্ষাকবচ ও প্রতিরোধ:
‘বর্ম’ যেমন শরীরকে আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি যুদ্ধোন্মাদ পৃথিবীতে হিংসার বুলেটকে প্রতিহত করতে কবি গানের বর্ম গায়ে পরেছেন। কবির দৃঢ় বিশ্বাস, হিংসার প্রত্যুত্তর হিংসা বা রক্তপাত হতে পারে না; বরং গানের সুকুমার ও নান্দনিক শক্তি দিয়েই বুলেটের উদ্ধত আক্রমণকে অনায়াসে স্তব্ধ করা সম্ভব।
সংহতি ও আত্মশক্তির জাগরণ:
অস্ত্র মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে, আর গান মানুষকে একতার বন্ধনে বাঁধে। গানই কবির মনে সেই অসীম মনোবল ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি জোগায়, যার টানে হাজার হাজার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে সংঘবদ্ধ হয়। এই যৌথ আত্মশক্তিই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিরোধ হয়ে ওঠে।
রক্তাক্ততার বিপরীতে সৃজনশীলতা:
কবি কোনো রক্তাক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে শান্তি চাননি। তিনি ঋষিবালকের মতো স্নিগ্ধতা ও কোকিলের কোকিল-কূজনের মতো চিরায়ত সুন্দরের স্পর্শে পৃথিবীর সমস্ত ক্ষত মুছে দিতে চেয়েছেন। ধ্বংসের বিপরীতে সৃষ্টিকে প্রতিষ্ঠা করাই কবির মূল লক্ষ্য।
অস্ত্রের আত্মসমর্পণ:
কবি বিশ্বাস করেন যে, অস্ত্রের আস্ফালন সাময়িক, কিন্তু সংস্কৃতির শক্তি চিরন্তন। গানের এই অসীম ও শান্ত রূপের কাছে শেষপর্যন্ত স্বৈরাচারী ও যুদ্ধবাজদের রক্তচক্ষু পরাজিত হতে বাধ্য। তাই কবি অহিংসার চরম প্রকাশ ঘটিয়ে আহ্বান জানিয়েছেন—
“অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে”।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, গান এখানে মানুষের শুভবুদ্ধি, একতা ও ভালোবাসার প্রতীক। হিংসাদীর্ণ পৃথিবীতে মানবসভ্যতাকে রক্ষা করতে এবং যুদ্ধবাজদের অস্ত্রকে চিরতরে স্তব্ধ করে পৃথিবীতে চিরস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতেই কবির ‘গানের বর্ম’ ধারণ করার এই পরম প্রয়োজনীয়তা।
