বাংলা সহায়ক

বিসর্গ সন্ধি | ব্যাকরণ | bisorgo sondhi|BanglaSahayak.com


স্বরসন্ধিব্যঞ্জনসন্ধি

বিসর্গ  সন্ধি :

বিসর্গের সঙ্গে স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।


 সূক্ষ্ম বিচারে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত। কেননা ,বিসর্গ উৎপন্ন হয় র্ ও স্ দুটি ব্যঞ্জন থেকে। তাই বিসর্গ হল র্-জাত ও স্-জাত।


 র-জাত বিসর্গ : ‘র্’ ধ্বনির জায়গায় যে বিসর্গ হয়, তাকে র-জাত বিসর্গ বলে। যেমন : অন্তর্- অন্তঃ, আবির্-আবিঃ, দুর্- দুঃ, ইত্যাদি।


স-জাত বিসর্গ : ‘স্’ ধ্বনির জায়গায় যে বিসর্গ হয়, তাকে স-জাত বিসর্গ বলে। যেমন : পুরস্- পুরঃ, আশিস্-আশীঃ, বয়স্-বয়ঃ ইত্যাদি।


বিসর্গ+স্বরধ্বনি

 সূত্র  ১ :

‘অ’ স্বরধ্বনির পরে ‘ঃ’ থাকলে এবং তারপরে আবার ‘অ’ থাকলে অ+ঃ+অ = ‘ও’ হয়। 


উদাহরণ- ততঃ+অধিক = ততোধিক

           যশঃ+অভিলাষ =যশোভিলাষ 

        মনঃ+অভীষ্ট =মনোভীষ্ট 


সূত্র  ২ :

স্-জাত বিসর্গের 'অ'কারের পর অ-ছাড়া অন্য কোনো স্বর থাকলে বিসর্গ লোপ পায়।


উদাহরণ- 

অতঃ+এব=অতএব 

শিরঃ+উপরি=শিরউপরি (আবার সন্ধি হয়ে শিরোপরি)


সূত্র  ৩ :

র্-জাত বিসর্গ যুক্ত স্বরবর্ণের পর স্বরবর্ণ থাকলে বিসর্গ স্থানে র্ হয়।


উদাহরণ- 

নিঃ +অন্ন =নিরন্ন 

জ্যোতিঃ+ইন্দ্র =জ্যোতিরিন্দ্র 

পুনঃ+উক্তি = পুনরুক্তি 

পুনঃ+আগমন =পুনরাগমন 

পুনঃ+উত্থান =পুনরুত্থান 

দুঃ+অন্ত =দুরন্ত 

দুঃ+অবস্থা=দুরবস্থা 

প্রাতঃ+আশ =প্রাতরাশ

পুনঃ+অপি = পুনরপি



বিসর্গ+ব্যঞ্জনধ্বনি

সূত্র ৪ :

 স্-জাত বিসর্গযুক্ত অ-কারের পর ঘোষ ধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি, অন্তস্থ ধ্বনি কিংবা হ থাকলে, বিসর্গের জায়গায় ‘ও’ হয়।

উদাহরণ-

মনঃ+ভাব =মনোভাব 

মনঃ+হর = মনোহর

পুরঃ +হিত=পুরোহিত 

তিরঃ+ধান = তিরোধান 

সদ্যঃ+জাত =সদ্যোজাত 

মনঃ+রম = মনোরম 

শিরঃ+ধার্য =শিরোধার্য 

তপঃ+বন = তপোবন 

সরঃ+বর=সরোবর

মনঃ +বাসনা=মনোবাসনা

নভঃ+মণ্ডল=নভোমণ্ডল

ছন্দঃ+বদ্ধ=ছন্দোবদ্ধ


 সূত্র  ৫ :

 ‘অ/আ’ ছাড়া অন্য স্বরধ্বনির পরে ‘ঃ’ থাকলে এবং তারপরে অ, আ, ঘোষ ধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি, অন্তস্থ ধ্বনি কিংবা হ থাকলে বিসর্গের জায়গায় ‘র’ হয়।


উদাহরণ-

নি:+জন =নির্জন 

নিঃ+গমন =নির্গমন 

দুঃ+যোগ = দুর্যোগ 

আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ 

আবিঃ+ভাব = আবির্ভাব 

দুঃ+লোভ = দুর্লোভ 

প্রাদুঃ+ভাব = প্রাদুর্ভাব 

জ্যোতিঃ+ময় = জ্যোতির্ময় 

বহিঃ+গত = বহির্গত 

ধনুঃ +ভঙ্গ =ধনুর্ভঙ্গ 



সূত্র  ৬ :

স্-জাত  বা  র্-জাত বিসর্গের পর চ কিংবা ছ থাকলে ওই বিসর্গের স্থানে শ হয়, ত বা থ থাকলে স্ হয়, ট বা ঠ থাকলে ষ্ হয়।


উদাহরণ-

নভঃ+চর = নভশ্চর 

নিঃ+চয় = নিশ্চয়

শিরঃ+ছেদ = শিরশ্ছেদ

নিঃ+ছিদ্র =নিশ্ছিদ্র 


নিঃ+ঠুর = নিষ্ঠুর

ধনুঃ+টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার


নভঃ+তল =নভস্তল 

ইতঃ+ততঃ=ইতস্ততঃ

দুঃ+তর = দুস্তর

দুঃ+থ = দুস্থ



সূত্র  ৭ :

অ-কারের পরবর্তী র্-জাত বিসর্গের পর ঘোষ বর্ণ, অন্তঃস্থ বর্ণ কিংবা হ থাকলে ওই বিসর্গ স্থানে র্ হয়।

 

উদাহরণ-

অন্ত:+গত =অন্তর্গত 

অন্তঃ+ঘাত =অন্তর্ঘাত 

অন্তঃ+নিহিত =অন্তর্নিহিত 

প্রাতঃ +ভ্রমণ =প্রাতর্ভ্রমণ

পুনঃ +যাত্রা =পুনর্যাত্রা 

পুনঃ+বিবেচনা =পুনর্বিবেচনা 



সূত্র  ৮ :

নিঃ, আবিঃ, দুঃ, চতুঃ ও বহিঃ শব্দের পর ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গের স্থানে ষ হয়।


উদাহরণ-

নিঃ+কাম= নিষ্কাম

নিঃ+কর = নিষ্কর

নিঃ+ফল = নিষ্ফল

দুঃ+কর = দুষ্কর

আবিঃ+কার =আবিষ্কার 

বহিঃ+কার=বহিষ্কার 

দুঃ+প্রাপ্য = দুষ্প্রাপ্য

দুঃ+পাচ্য =দুষ্পাচ্য 

চতুঃ+কোণ =চতুষ্কোণ 

নিঃ+পাপ = নিষ্পাপ

দুঃ+কৃতি = দুষ্কৃতি



সূত্র  ৯ :

বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে নমঃ, তিরঃ, পুরঃ , মনঃ, শ্রেয়ঃ  ইত্যাদি শব্দের বিসর্গ স্থানে স্ হয়।


উদাহরণ-

পুরঃ+কার = পুরস্কার

নমঃ+কার = নমস্কার

মনঃ+কামনা = মনস্কামনা

বাচঃ+পতি = বাচস্পতি

তিরঃ+কার = তিরস্কার

শ্রেয়ঃ +কর=শ্রেয়স্কর

তেজঃ+কর=তেজস্কর

ভাঃ+কর = ভাস্কর



সূত্র  ১০ :

অ, ই  এবং উ -এর পরবর্তী বিসর্গ স্থানে র্ হলে এবং তারপর র থাকলে সেই র লোপ হয় এবং পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়।


উদাহরণ-


নিঃ+রব =নীরব 

নিঃ+রস =নীরস 

নিঃ+রোগ = নীরোগ

নিঃ+রক্ত =নীরক্ত 

নিঃ+রন্ধ্র =নীরন্ধ্র 

চক্ষুঃ+রোগ =চক্ষূরোগ 

স্বঃ+রাজ্য =স্বারাজ্য 



বিসর্গের অক্ষুণ্ণতা :


 বিসর্গের পর ক, খ, প, ফ, ষ  থাকলে বহু ক্ষেত্রে বিসর্গ অক্ষুণ্ণ থাকে। 


উদাহরণ-

মনঃ+ক্ষুণ্ণ = মনঃক্ষুণ্ণ 

একইরকমভাবে- প্রাতঃকাল, মনঃকষ্ট, মনঃসাধ, মনঃপূত, নিঃশঙ্ক, নিঃশেষ, স্বতঃসিদ্ধ,  অন্তঃপুর, স্রোতঃপথ  ইত্যাদি।

 

স্বরসন্ধিব্যঞ্জনসন্ধি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ