বাংলা সহায়ক

সিরাজদ্দৌলা । নাটক। BanglaSahayak.com

 সিরাজদ্দৌলা 

- শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত



নাট্যকার পরিচিত:

রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা নাটকের বিষয় ও আঙ্গিকগত যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছিল; তার অগ্রভাগে ছিলেন শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। বাংলা নাটকে স্বদেশপ্রেমের অভিনব প্রচার ও প্রসার ঘটেছিল তাঁর হাতে।

শচীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৯২ সালে খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে। তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। বিপ্লবী সংগঠন স্বদেশী ও অনুশীলন সমিতির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের পিতা ছিলেন সত্যচরণ সেন গুপ্ত। শচীন্দ্রনাথের প্রাথমিক জীবন কাটে পিতার কর্মস্থল রংপুরে। সেখানেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। সেখানে বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকী ছিলেন তার সহপাঠী। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার জাতীয় বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পাস করে তিনি বিএ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। পরে তিনি কটক মেডিক্যাল স্কুলে চিকিৎসাবিদ্যা ও ময়মনসিংহে কবিরাজি শেখেন। তিনি ছোট থেকেই ছিলেন দেশপ্রেমে জাগ্রত এক কিশোর।

কর্মজীবনের শুরুতে শচীন্দ্রনাথ কিছুদিন একটি কলেজে অধ্যাপনা করেন; পরে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। তিনি সাপ্তাহিক হিতবাদী, বিজলী আত্মশক্তি প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

শচীন্দ্রনাথ বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেন নাটক রচনায়। তাঁর রচিত ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নাটকের মূল প্রতিপাদ্য দেশাত্মবোধ। তাঁর নাটকে ফুটে উঠেছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও হিন্দু-মুসলমানের মিলনের বাণী।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নাটকগুলি হলো: গৈরিক পতাকা (১৯৩০), দেশের দাবি (১৯৩৪), রাষ্ট্রবিপ্লব (১৯৪৪), সিরাজুদ্দৌলা (১৯৩৮), ধাত্রীপান্না (১৯৪৮), সবার উপরে মানুষ সত্য (১৯৫৭ প্রভৃতি । তাঁর নাটকের প্রধান গুণ স্বাদেশিকতা এবং জাতীয়তাবোধ। তিনি শুধু নাটক রচনায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না নাট্যমঞ্চের সঙ্গেও তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল।

১৯৬১ সালের ৫ মার্চ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত মৃত্যুবরণ করেন।



উৎস: 

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্য থেকে নাট্যাংশটি নেওয়া হয়েছে।


বিষয়-সংক্ষেপ:

নাট্যাংশ শুরুতেই বর্ণিত হয়েছে মুর্শিদাবাদে সিরাজদৌলার সভাকক্ষের দৃশ্য। প্রথমে দেখা যায় সিরাজ তাঁর দরবারের সদস্য , ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিভূ ওয়াটসকে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে বহিস্কৃত করেছেন ।

ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি চরিতার্থ করার অভিপ্রায় মীরজাফর, রাজা রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ,ঘষেটি বেগম, জগৎশেঠ,ওয়াটস্, লর্ড ক্লাইভ প্রমুখ একত্রিত হয়েছিলেন। প্রত্যেকে তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থকে চরিতার্থ করবার অভিলাষেই প্রথম থেকে নবাববিরোধী কার্যকলাপ শুরু করেন।

 বাংলার ফরাসি বণিকদের পক্ষ থেকে মঁসিয়ে লা সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন নবাবের সাহায্য চাইতে। কারণ বাংলা থেকে ফরাসিদের তাড়িয়ে দেবার জন্য ইংরেজরা নবাবের বিনা অনুমতিতে ফরাসিদের বাণিজ্য ঘাঁটি চন্দননগর আক্রমণ করে অধিকার করে নিয়েছিল । যা অত্যন্ত অন্যায় কাজ ।

এ বিষয়ে নবাব সিরাজদ্দৌলাও ইংরেজদেরকে জানিয়ে দিয়েছিল যে, তারা যেন পরস্পর শান্ত হয়ে এখানে যে যার ব্যবসাবণিজ্য করে । কিন্তু নবাবের সেই আদেশ অমান্য করে ইংরেজরা চন্দননগর দখল করে নেয় । এক্ষেত্রে নবাব সিরাজদ্দৌলা ফরাসিদের কোন প্রকার সাহায্য করতে পারেন নি । কারণ কিছুদিন পূর্বে ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ করে আর পূর্ণিয়ার শওকত জঙ্গের সঙ্গে যুদ্ধ করে তার অনেক সৈন্যক্ষয় ও অর্থব্যয় হয়ে গেছে । এতে নবাবের মনোবল ভেঙে যায় । এছাড়া নবাবের মন্ত্রীমন্ডলীও যুদ্ধ করতে রাজি ছিলেন না । এমতাবস্থায় নবাব সিরাজদ্দৌলা নিজের অক্ষমতার জন্য ফরাসিদের কাছে লজ্জিত বলে নিজেই স্বীকার করেছিলেন।

ইতিমধ্যে ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসকে বহিষ্কার করা নিয়ে সভায় শোরগোল পড়ে যায়। সিরাজের বিপক্ষ দল সিরাজকে সিংহাসনচ্যুত করবার ফন্দি আঁটেন এবং সিরাজের তীব্র সমালোচনা শুরু করেন । শুধুমাত্র সিরাজের দুই বিশ্বস্ত সেনাপতি মীরমদন ও মোহনলাল  সেই ষড়যন্ত্রের বাইরে ছিলেন। এক চরম রাজনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে সিরাজ বিনীত আবেদন করেছিলেন প্রত্যেকে যেন সমস্ত ক্ষুদ্র স্বার্থ ও অভিমানের জায়গাটুকু বর্জন করে দেশকে ইংরেজদের হাত থেকে রক্ষা করেন। বাংলার ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা ঘনিয়ে এসেছিল বলেই সিরাজ এই দুর্দিনে ওদের পাশে চেয়েছেন। সিরাজের বিখ্যাত উক্তিটি এই প্রসঙ্গে স্মরণীয় -

"বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়, মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা ।"

সিরাজের এই জ্বালাময়ী ভাষণে সকলেই উদ্দীপিত হয় শপথ করেন যে তারা দেশের ও দশের স্বার্থে প্রাণ বলি দিতেও প্রস্তুত । সকলে সভাস্থল ত্যাগ করলে সিরাজের মাসি ঘষেটি বেগম প্রবেশ করেন । বিদ্রোহিনী ঘষেটি সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং সিরাজের পতন কামনা করেন। সিরাজের হত্যাযই তাঁর প্রতিহিংসাময় জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সিরাজের দুঃসময়ে তিনি সিরাজকে অভিশাপ দিতে ছাড়েন না। এমন সময় ছুটে আসেন লুৎফা । সে ঘসেটি বেগমকে কোনমতে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। নবাব সিরাজ অবশ্য স্পষ্টই অনুভব করেছিলেন পলাশি প্রান্তরে  বাংলার ভাগ্য শেষপর্যন্ত অস্তমিত হতে চলেছে। তাই তিনি লুৎফাকে জানিয়েছিলেন, এটাই হয়তো শেষ যুদ্ধ। তাঁর মতে পলাশি হল রাক্ষসী পলাশি।



১। সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশ অবলম্বনে সিরাজদৌলার চরিত্র বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো  ।        [মাধ্যমিক-২০১৭]

উত্তর:  প্রখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকের সিরাজ এক অসামান্য ব্যক্তিত্ব । তাঁর চরিত্রের যে গুণগুলি নাট্যাংশে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলি হল —

দেশাত্মবোধ :  সিরাজ তাঁর নিজের বিরুদ্ধে যাবতীয় ষড়যন্ত্রকে কখনোই ব্যক্তিগত আলোকে দেখেননি । বরং বাংলার বিপর্যয়ের দুশ্চিন্তাই তাঁর কাছে প্রধান হয়ে ওঠে । বাংলাকে বিদেশী শক্তির হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি সভাসদদের কাছে ক্ষমা চাইতে বা শত্রুর সঙ্গে সন্ধিতেও পিছপা হননি ।

সাম্প্রদায়িক মানসিকতা:  সিরাজ বুঝেছিলেন বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, শুধু মুসলমানের নয়— হিন্দু মুসলমান মিলিত প্রতিরোধই বাংলাকে ব্রিটিশের আগ্রাসন থেকে মুক্ত করতে পারে । সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত এই জাতীয়তাবোধ সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত ।

আত্মসমালোচনা :  নবাব সিরাজদ্দৌলা বুঝেছিলেন ষড়যন্ত্রীরা যেমন ভুল করেছে, তেমনি তাঁর নিজেরও অনেক ত্রুটি আছে । তাই তিনি বাংলার বিপদের দিনে নিজের ভুল স্বীকারে দ্বিধাগ্রস্থ হন না ।

দুর্বল মানসিকতা :  সিরাজ তাঁর শত্রুদের চক্রান্ত বুঝতে পারলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন নি । তেমনি ঘসেটি বেগমের অভিযোগেরও তিনি প্রতিবাদ করতে পারেন না । বরং নিজের দুর্বলতা নিজে মুখেই স্বীকার করে নেন "পারিনা শুধু আমি কঠোর নই বলে ।"

সব মিলিয়ে নাট্যকার নবাব সিরাজকে সফল ট্রাজিক নায়কের রূপ দিতে সক্ষম হয়েছেন ।


২।  "কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা" — কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলা হয়েছে ? এ কথা বলার কারণ কী     [মাধ্যমিক-২০১৭]

উত্তর:   বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশের প্রশ্নোদ্ধৃতাংশ কথাটি বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব, সিরাজদৌলা ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন ।

   সিরাজ ছিলেন একজন দক্ষ কূটনৈতিক । তাই তিনি তাঁর সভাসদদের সকল গোপনীয় কার্যকলাপের খবরাখবর রাখতেন । ইংরেজ প্রতিনিধি, ওয়াটসের কাছে আসা কিছু গোপন পত্রও সিরাজের হাতে এসে পৌঁছায় । এই পত্রগুলির মধ্যে ছিল অ্যাডমিরাল ওয়াটসন -এর পত্র ও ওয়াটসের পত্র । পত্রগুলি থেকে সিরাজ জানতে পারেন, কোম্পানির ফৌজ আরো জাহাজ ও আরো সৈন্যদলসহ বাংলার অভিমুখে যাত্রা করেছ। এমনকি অ্যাডমিরাল এও বলেছেন – “বাংলায় আমি এমন আগুন জ্বালাইব, যাহা গঙ্গার সমস্ত জল  দিয়াও নেভানো যাইবে না।"


 ওয়াটসের পত্রে বলা ছিল -  “ It is impossible to rely upon the Nabab and it will be wise to attack Chandernnagore.”  নবাবের প্রতি এহেন অমর্যাদা প্রদর্শন ও চক্রান্ত স্বভাবতই সিরাজের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভবপর ছিল না । তাছাড়া তিনি আরো জানতে পারেন যে, ওয়াটস তাঁরই সভায় স্থান পেয়ে সভাসদ ও আত্মীয়স্বজনের কানে কুমন্ত্রণা দিয়ে তাদের নবাব বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত হতে বাধ্য করেছেন । তারা নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য রাতের আঁধারে অস্ত্রে শান দিচ্ছে । কোম্পানির এহেন কুচক্রী কার্যকলাপে বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হয়েই নবাব সিরাজ ওয়াটসকে বলেছিলেন — "কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা ।"


৩।  "মুন্সিজি, এই পত্রের মর্ম সভাসদদের বুঝিয়ে দিন ।" — কে, কাকে পত্র লিখেছিলেন ? এই পত্রে কী লেখা ছিল ?  [মাধ্যমিক-২০১৮]

উত্তর :  প্রখ্যাত নাট্যকার  শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে এই প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটি রয়েছে ।

  ইংরেজ অ্যাডমিরাল ওয়াটসন পত্র লিখেছিলেন মুর্শিদাবাদে থাকে ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসনকে ।

  এই পত্রে লেখা ছিল —"কর্নেল ক্লাইভ যে সৈন্যের কথা উল্লেখ করেছেন তা দ্রুত কলকাতা পৌঁছাবে । আমি আর একটা জাহাজ মাদ্রাজে পাঠাইয়া খবর দিব বাংলায়, আরও জাহাজ ও সৈন্য আবশ্যিক । আমি এমন আগুন জালাইবো যা সমগ্র গঙ্গার জল দিয়েও নেভানো যাইবে না ।"

এইভাবে ব্রিটিশরা ভারতে কলকাতা জয়ের পর সমগ্র ভারত হাতে নিতে চেয়েছিল । কিন্তু সিরাজ এই পত্রের সম্বন্ধে জানার পর এর বিহিত হিসাবে ওয়াটসনকে রাজদরবার ত্যাগ করতে বলেন এও বলেন — "আমরা তোমাকে তোপের মুখে উড়িয়ে দিতে পারি জানও ।"


৪।  "বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়, মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা ।" — কাদের উদ্দেশ্য করে একথা বলা হয়েছে ?  এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বক্তার কী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে ?

উত্তর: প্রখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর সভায় উপস্থিত রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, মীরজাফর, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ প্রমুখ বিশিষ্ট সদস্যবর্গের প্রতি উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন ।

উদ্ধৃত উক্তিটির মধ্য দিয়ে বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলার যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে তা হল তিনি একজন ধর্মনিরপেক্ষ উদার মনের একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক । বিচক্ষণ নবাব বুঝতে পেরেছিলেন যে বাংলা শুধু মুসলমানের নয় বা হিন্দুর নয়, বাংলা হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলিত শান্তিপূর্ণ অবস্থানেই বাংলার ঐক্যের সূত্রটি গাঁথা । তাই তিনি ঘনিয়ে আসার দুর্দিনকে ঠেকানোর জন্য হিন্দু-মুসলমান উভয়ের সম্মিলিত প্রয়াসের উপর আস্থা রেখেছিলেন । তিনি সকাতরে এবং বিনয়ের সঙ্গে মাতৃভূমি বাংলাকে বাঁচানোর জন্য তাঁকে সাহায্য করার জন্য প্রার্থনা করেছেন । তিনি বুঝেছিলেন বহিরাগত ইংরেজ শত্রুকে দূর করতে হলে সমস্ত ধর্মীয় সংকীর্ণতার উপরে উঠে বাংলার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে । ধর্মীয় সংকীর্ণতা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে, বহিরাগত আক্রমণকে ঠেকাতে পারে না । হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলিত চেষ্টায় এবং লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিদেশি শত্রু ইংরেজকে প্রতিহত করা যেতে পারে । নবাব সিরাজদ্দৌলা একথা বুঝেছিলেন বলে তিনি এই রকমভাবে কাতর অনুরোধ জানিয়েছিলেন ।

উপরিউক্ত উক্তির মধ্যে দিয়ে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে একজন ধর্মনিরপেক্ষ উদার মনের মানুষ ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে জানা যায় ।



৫। "বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না ।" — কাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলা হয়েছে ? কোন দুর্দিনের জন্য তাঁর এই আবেদন ?        [মাধ্যমিক- ২০১৯]


উত্তর :  বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাট্যাংশে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদৌলা সিপাহসলার মীরজাফর ও তার অনুগামীদের উদ্দেশ্য এ কথা বলেছেন ।

   ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমশঃ তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে । কলকাতা এবং কাশিমবাজারে তাঁদের দুর্গনির্মাণ অব্যাহত । এর মধ্যে সিরাজের বিরুদ্ধে স্বয়ং মীরজাফর ও ঘসেটি বেগম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন । বিচক্ষণ সিরাজ বুঝেছেন এই পরিস্থিতিতে তাঁর ধৈর্য হারালে চলবে না । নিজেকে সংযত রেখে মনোমালিন্য মিটিয়ে নিতে হবে । তাই মীরজাফর ও তার অনুগামীদের যাবতীয় অভিযোগ নিজে মাথা পেতে নিয়ে তিনি সোহার্দ্য স্থাপনে প্রয়াসী হয়েছেন । নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে মীরজাফরকে বাংলার ঘোর দুর্দিনে সঙ্গ ত্যাগ না করার আবেদন জানিয়েছেন ।


  ৬। "ওখানে কী দেখচ মুর্খ, বিবেকের দিকে চেয়ে দ্যাখো !" — বক্তা কে ?  উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি বক্তার কী মনোভাব লক্ষ করা যায় ?         [মাধ্যমিক-২০১৯]


 উত্তর:  প্রখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদৌলা' শীর্ষক নাট্যাংশের অন্তর্গত উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন ঘসেটি বেগম ।

   ঘসেটি বেগমের প্রকৃত নাম মেহেরুন্নিসা । তিনি নবাব আলিবর্দি খাঁ-র বড়ো মেয়ে, সম্পর্কে সিরাজের মাসি । ঢাকার শাসনকর্তা শাহমৎ জঙ্গের সঙ্গে ঘসেটির বিয়ে হয় । দত্তক পুত্র ইকরমের মৃত্যু হলে তার শোকে শাহমৎ জঙ্গও মারা যান । বিধবা ঘসেটি বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন । এদিকে বাংলার শাসনভার আলীবর্দী খাঁর মনোনীত সিরাজদৌলার হাতে যায় । এই ঘটনা ঘসেটি বেগমের ঈর্ষার কারণ হয় । তিনি আলিবর্দির মেজো মেয়ের ছেলে শওকত জঙ্গকে সিরাজের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন । বাংলার নবাব আলিবর্দির মৃত্যুর পরে ঘসেটি রাজবল্লভ ও অন্যদেরও নিজের দলে টানেন । এসব জানতে পেরে ক্ষিপ্ত সিরাজ ঘসেটির মতিঝিলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন এবং তাঁকে নিজের রাজপ্রাসাদে নজরবন্দি করে রাখেন । তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন । শওকত জঙ্গ সিরাজের বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় । ঘটনাক্রমে ঘসেটি বেগম প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন । কিন্তু তাঁর ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের সমস্ত রাস্তা একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত ঘসেটি বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়ে যান ।


৭। “এইবার হয়তো শেষ যুদ্ধ !” - কোন যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে ? বক্তা এই যুদ্ধকে ‘শেষ যুদ্ধ’ বলেছেন কেন ?

উত্তর :  স্বদেশপ্রেমিক নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে নবাব সিরাজ এখানে আসন্ন পলাশির যুদ্ধের কথা বলেছেন।

আলীবর্দি খাঁর পরে সিংহাসনে বসেন সিরাজদ্দৌলা । কিন্তু এই সিংহাসন লাভ সুখের হয়নি । কেননা নবাবের বিরুদ্ধে ঘসেটি বেগমকে কেন্দ্র করে একটি বিরাট বিরোধী গোষ্ঠী সংঘবদ্ধ হয়। সেই গোষ্ঠীতে যুক্ত হন প্রধান সিপাহসালার মীরজাফর। তার সঙ্গে রাজা রাজবল্লভ, শক্তিমান রায়দুর্লভ যুক্ত হয়ে ইংরেজদের সঙ্গে গোপন চক্রান্তকে অনিবার্য করে তোলেন। ইংরেজরা বুঝতে পারে স্বাধীনচেতা সিরাজকে মসনদ থেকে না সরালে বাংলায় ক্ষমতা দখল সম্ভব নয় ।এই লক্ষ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনা পুনরায় কাশিমবাজার অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। আপোষহীন সিরাজ হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল সভাসদদের একত্রিত করার চেষ্টা করেন। কারণ তিনি অনুধাবন করেছিলেন পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের অর্থই হল স্বাধীন বাংলার পতন। ঘরে বাইরে ষড়যন্ত্রে,চক্রান্তে জর্জরিত সিরাজের কণ্ঠে সে কথাই ধ্বনিত হয়েছে।


৮। “দরবার ত্যাগ করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি জাঁহাপনা।” – বক্তা কে ? তাঁরা কেন দরবার ত্যাগ করতে চান ?


উত্তর:  স্বদেশপ্রেমিক নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে আলোচ্য অংশের বক্তা হলেন নবাবের সিপাহসালার মীরজাফর। 

  

নবাবের সভাসদ জগতশেঠ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, মীরজাফর প্রমুখ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে মিলিত হয়ে গোপন ষড়যন্ত্রে সিরাজকে বাংলার মসনদ থেকে উৎখাত করতে চাইছিলেন। অন্যদিকে মীরমদন ও মোহনলাল ছিলেন নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি । নবাবের বিরোধী গোষ্ঠী নবাবের বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।এমনকি নবাবকে প্রকাশে অপমান করতেও ছাড়েননা। নিম্নপদস্থ কর্মচারী হয়েও এর প্রতিবাদ করেন মীরমদন ও মোহনলাল। অনিবার্যভাবেই দুই বিরোধীপক্ষের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মীরজাফর নিজের অভিলাষ পূর্ণ করতে নবাবের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই বলে যে তাঁদের মত ক্ষমতাশালীদের পরিবর্তে নবাব মীরমদন কিংবা মোহনলালের মতো সাধারন অনুচরদের উপর অধিক আস্থা ও বিশ্বাস রাখেন তবে তাঁরা  রাজসভা ত্যাগ করবেন। বস্তুতপক্ষে মীরজাফরের আনুগত্য কেবলমাত্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে যোগ দেওয়ার অজুহাতের রাস্তা । নবাবের সঙ্গ ত্যাগ করার গোপন ষড়যন্ত্র হেতুই মীরজাফর তাঁর অনুগামীদের নিয়ে দরবার ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন।


৯। "আমরা নবাবের নিমক বৃথাই খাই না, একথা তাদের মনে রাখা উচিত ।" — আমরা বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে ? একথা বলার কারণ কী ?


উত্তর: প্রখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন নবাব সিরাজদ্দৌলার একান্ত অনুগত, বিশ্বস্ত এবং দেশপ্রেমিক সেনাপতি মীরমদন ।

আমরা বলতে মীরমদন ও মোহনলাল দুই সেনাপতিকে বোঝানো হয়েছে ।

নবাব সিরাজদ্দৌলাকে খুব অল্প বয়সে তাঁর দাদু আলিবর্দী খাঁ বাংলার সিংহাসনে বসান । এর ফলে ঘরে বাইরে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী শত্রুর সংখ্যা বেড়ে যায় । নবাবের অন্নে প্রতিপালিত হয়েও মীরজাফরের মতো বিশ্বাসঘাতকের দল সিরাজকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করার জন্য চেষ্টা করতে থাকে । এই বিশ্বাসঘাতকেরা ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতা করে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করতে এবং দেশকে বিপন্ন করতে উদ্যোগী হয় । এই রকম পরিস্থিতিতে নবাবের বিশ্বস্ত ও অনুগত সেনাপতি মীরমদন ষড়যন্ত্রকারীদের মনে করিয়ে দিতে চান যে নবাব একেবারে অসহায় নন, তাঁর মর্যাদা রক্ষার জন্য মীরমদন ও মোহনলালরা দেহের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করে যাবে ।

বক্তা মীরমদন সিপাহসালার মীরজাফর এবং তার সঙ্গীদের ঔদ্ধত্য মেনে নিতে পারেন নি । তিনি জানান, নবাবের সেনাপতি, আমির ওমরাহ, রহিস, রাজারা নবাবকে দুর্বল মনে করলেও তাদের মতো অনুগতরাও এখনও জীবিত আছে নবাবকে রক্ষা করার জন্য । তারা নবাবের অন্নে প্রতিপালিত হয়ে কখনোই নবাবের বিরুদ্ধাচারণ করবেন না ।


১০।   'তোমাদের কাছে আমি লজ্জিত ।'—বক্তা কে ? কাকে উদ্দেশ্য করে এই বক্তব্য ? বক্তার লজ্জিত হওয়ার কারণ কী ?

অথবা, “ আমার এই অক্ষমতার জন্য তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।“ – কে,কাকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেছেন? এই বক্তব্যের কারণ কী ?

 

উত্তর:  প্রখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা-কে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছেন।


     নবাবের পরামর্শের অপেক্ষা না করে ইংরেজরা ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগর অধিকার করে। ফরাসিদের প্রতিনিধি হয়ে মঁসিয়ে লা নবাবের সাহায্য পাবার আশায় সিরাজের রাজসভায় আসেন। নবাব সিরাজ জানতেন ফরাসিরা শান্ত, নিরীহ,নির্বিরোধী। ইংরেজরা দুর্বিনীত, স্বার্থান্বেষী।

       

 কিন্তু নবাব নিরুপায়। তিনি শত্রুকে সমুচিত শিক্ষা দিতে পারেননি। নবাব সিরাজদ্দৌলা ফরাসিদের কোন প্রকার সাহায্য করতে পারেন নি । কারণ কিছুদিন পূর্বে ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ করে আর পূর্ণিয়ার শওকত জঙ্গের সঙ্গে যুদ্ধ করে তার অনেক সৈন্যক্ষয় ও অর্থব্যয় হয়ে গেছে । এতে নবাবের মনোবল ভেঙে যায় । এছাড়া নবাবের মন্ত্রীমন্ডলীও যুদ্ধ করতে রাজি ছিলেন না এমন অস্বস্তিকর অবস্থায় ফরাসিদের প্রতি পূর্ণ সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও তিনি তাদের জন্য ইংরেজদের সঙ্গে  বিবাদে প্রবৃত্ত হতে পারবেন না । এমতাবস্থায় নবাব সিরাজদ্দৌলা নিজের অক্ষমতার জন্য ফরাসিদের কাছে লজ্জিত বলে নিজেই স্বীকার করেছিলেন ।


১১। " আজ বিচারের দিন নয় সোহার্দ্য স্থাপনের দিন।"- কে ,কার উদ্দেশ্যে এই উক্তি করেছেন ? বক্তার এমন উক্তির কারণ কী ?

অথবা,  "বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।"- কে ,কাদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেছেন ? বক্তার এই প্রার্থনার কারণ কী ?


উত্তর:  বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদৌল্লা মীরজাফরের উদ্দেশ্যে উক্তিটি করেছেন।


(অথবা) বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌল্লা সিপাহসালার মীরজাফর ও তাঁর অনুগামী জগৎশেঠ, রাজবল্লভ ,দুর্লভ রায়দের উদ্দেশ্যে একথা বলেছেন।


 ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমশ তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। কলকাতায় সৈন্যে সমাবেশ, চন্দননগর আক্রমণ এমনকি কাশিমবাজার অভিমুখে অভিযান শুরু করেছে। এদিকে ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন মীরজাফর ও তাঁর অনুগামীরা। সিরাজের মাসি ঘসেটি বেগমও সেই ষড়যন্ত্রে ইন্ধন যোগাচ্ছেন। বাংলা আজ বিপন্ন, নবাবের সিংহাসন টলমল করছে। এমনাবস্থায় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে গেলে হিতে বিপরীতই হবে । সকলে ঐক্যবদ্ধ না হলে ইংরেজদের মতো ধূর্ত যুদ্ধবাজদের সঙ্গে মোকাবেলা করা কার্যত অসম্ভব। ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের জন্যই তিনি প্রতিপক্ষের সব অনাচার অপমান কে উপেক্ষা করতে চান। এ কারণেই সিরাজ মীরজাফরকে বলেন - "আজ বিচারের দিন নয় , সোহার্দ্য স্থাপনের দিন।"  সিরাজ নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে মীরজাফরের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন - "আমাকে শুধু এই আশ্বাস দিন যে, বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।" এই উক্তির মধ্যে নবাবের দেশপ্রীতির পরিচয় প্রকট হয়ে উঠেছে।


১২। ঘসেটি বেগমের চরিত্র 


উত্তর:  আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে ঘষেটি বেগম ষড়যন্ত্রকারী, প্রতিহিংসাপরায়ণ, স্বার্থান্বেষী, কূট চরিত্ররূপে প্রতিভাত হয়েছে।


 ষড়যন্ত্রকারী :

ঘসেটি বেগম সিরাজের মাসে ।তিনি চেয়েছিলেন পিতা আলিবর্দি খাঁ-র অবর্তমানে বাংলার মসনদে বসবে তাঁর  স্বামী । কিন্তু মনোবাসনা পূর্ণ না হওয়াই ঘষেটি বেগম ক্রুদ্ধ ও হিংস্র হয়ে ওঠেন এবং ইংরেজদের সঙ্গে মিলিত হয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।


 প্রতিহিংসাপরায়ণ:

 রাজনৈতিক কারণে সিরাজ  তাঁকে গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন । এতে ঘসেটি আরো প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে। ঘসেটির মুখেই সেই প্রতিহিংসার কথা প্রকাশ পায় - "আমার রাজ্য নাই , তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই - আছে শুধু প্রতিহিংসা।"


অমানবী আচরণ:

সিরাজের মনে হয়েছে ঘষেটি বেগম মানবী নয় দানবী । ঘসেটির সঙ্গে থাকতে লুৎফারও ভয় হয়। মনে হয় - "ওর নিশ্বাসে বিষ, অঙ্গ সঞ্চালনে ভূমিকম্প!"


স্বার্থপরতা :

সিরাজ তাকে মায়ের সম্মান দিতেই চেয়েছিলেন কিন্তু ঘসেটির মধ্যে মায়ের স্নেহ ছিলনা। ছিল প্রতিহিংসার দহন জ্বালা ও স্বার্থপরতা । তাই সে সিরাজের ভয়াবহ পরিণতি দেখতে চেয়েছে ।


নাট্যাংশের স্বল্প পরিসরেই ঘসেটি তাঁর সক্রিয়তায় ও বাক্ চাতুর্যে  নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ